বেসবল মাঠে ক্রিকেট, ৫০০ মিটার দূরে শৌচাগার: এশিয়ান গেমসে পাঁচ দেশের চরম অসন্তোষ
জাপানের আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটারদের থাকার ব্যবস্থা ও ভেন্যুর সার্বিক পরিবেশ নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছে এশিয়ার শীর্ষ পাঁচ ক্রিকেট বোর্ড। ভারতীয় ক্রিকেটওয়েবসাইট 'ক্রিকবাজ'-এর এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে যে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান আয়োজকদের অপ্রতুল সুযোগ-সুবিধা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে।
সম্প্রতি ব্যাংককে অনুষ্ঠিত এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) এক সভায় এই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করা হয়।
হোটেলে সংকুলান নেই কিটব্যাগের খেলোয়াড়দের আবাসনের জন্য আয়োজকরা কয়েকটি বিকল্প প্রস্তাব করেন—শহরের হোটেল (যেখান থেকে বুলেট ট্রেনে যাতায়াত করতে হবে), নোঙ্গর করা প্রমোদতরী (ক্রুজ শিপ) অথবা তাঁবু-শৈলীর সাময়িক বাসস্থান।
তবে মূল আপত্তি উঠেছে হোটেলের কক্ষের আয়তন নিয়ে। বোর্ড প্রতিনিধিরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, বরাদ্দ করা ঘরগুলো এতটাই ছোট যে দুজন খেলোয়াড় নিজেদের লাগেজ ও ভারী ক্রিকেট কিটব্যাগ রাখার পর হাঁটাচলার স্থানও পাবেন না।
'অস্থায়ী' ভেন্যু ও অবকাঠামোগত বেহাল দশা থাকাস্থলের পাশাপাশি নিশিন সিটির কো রোগি স্পোর্টস পার্কের ক্রিকেট ভেন্যু নিয়েও তৈরি হয়েছে নানা বিতর্ক:
তড়িঘড়ি মাঠ তৈরি: একটি বেসবল মাঠকে সাময়িকভাবে ক্রিকেটের উপযোগ করার চেষ্টা চলছে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের ধারেকাছেও পড়ে না।
ড্রেসিংরুমের জায়গায় তাঁবু: আন্তর্জাতিক মানের কোনো স্থায়ী ড্রেসিংরুম নেই; বিকল্প হিসেবে টানানো হয়েছে ক্যানভাসের তাঁবু।
৫০০ মিটার দূরের শৌচাগার: খেলোয়াড়দের শৌচাগার বা ওয়াশরুম ড্রেসিংরুমের তাঁবু থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার (৫০০ মিটার) দূরে অবস্থিত, যা তীব্র বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যান্য ক্রীড়া ফেডারেশনগুলো আগেভাগেই তাদের অ্যাথলেটদের জন্য সব সুবিধা সুনিশ্চিত করলেও, এসিসির ঢিলেঢালা পদক্ষেপের কারণে এখন চরম ভোগান্তির মুখে আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটাররা। আসন্ন আসরে পুরুষ বিভাগে ১০টি ও নারী বিভাগে ৮টি দল অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও, এই পরিস্থিতির সুরাহা না হলে টুর্নামেন্টের মান নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।