বিপিএল স্থগিত: ত্যাগ স্বীকার করে কী পাচ্ছেন মিঠুনরা?
বিসিবির সঙ্গে প্রথম দফার সভা শেষে বেরিয়ে নাসির হোসেন বলেছিলেন, তারা ‘সন্তুষ্ট’। পরের সভায় বিসিবি কর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর সাইফ হাসান এসে বললেন, ‘আলোচনা ফলপ্রসূ’।
দুই সভার মধ্যে নতুন আসলে কিছু কি হলো? ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুনের মুখে এমন প্রশ্নে একটু হাসলেন। তবে পরে জানালেন, নতুন কোনো টুর্নামেন্টের ঘোষণা হয়তো আসেনি, তবে ত্যাগ স্বীকার করে ক্রিকেটাররা যে একটি সমাধানের দিকে এগোচ্ছেন, তা এখন স্পষ্ট।
চলতি মৌসুমে নানামুখী অনিশ্চয়তার পর জোড়াতালি দিয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ চালু হলেও, বছরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ঘরোয়া আসর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগে জর্জরিত টুর্নামেন্টটি এক বছর বন্ধ রেখে পুনর্গঠন করতে চায় বোর্ড। কিন্তু বিপিএল না হওয়ায় বড় অঙ্কের পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কায় পড়েন দেশের ক্রিকেটাররা।
বিপিএলের বিকল্প হিসেবে হঠাৎ কোনো নতুন টুর্নামেন্ট আয়োজন যে কঠিন, তা মেনে নিয়েছেন ক্রিকেটাররাও। কোয়াব সভাপতি মিঠুন জানান, সাময়িক ক্ষতিপূরণের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি সুফলের পথেই হেঁটেছেন তারা। তার ভাষায়, ‘আমাদের সামনে দুটি পথ খোলা ছিল। এক, বিপিএলের বদলে সাময়িক কোনো আর্থিক সহায়তা নেওয়া। আর দুই, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করা—যার মাধ্যমে ১৫০ থেকে ২০০ জন ক্রিকেটার উপকৃত হবেন। আমরা দ্বিতীয় পথটিই বেছে নিয়েছি।’
ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলে বিপিএলও কি আয়োজন করা যেত না?
বর্তমান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল নিজেও কিছুদিন আগে ছিলেন সক্রিয় ক্রিকেটার। বিগত দুটি বোর্ডের আমলে বিপিএল নিয়ে টানাপোড়েনের সময় ক্রিকেটারদের প্রতিনিধি হয়ে সোচ্চার ভূমিকা রেখেছিলেন তিনিও। মিঠুনদের সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে একটা কোনো উপায়ে বিপিএল চালিয়ে নেওয়ার পক্ষে যুক্তি দিয়েছিলেন তামিম।
মিঠুনরাও তখন বলছিলেন, পারিশ্রমিকের অঙ্ক কমিয়ে কিংবা ছাড় দিয়ে হলেও খেলাটা চালু রাখা জরুরি, যাতে বিপিএলের ধারাবাহিকতা নষ্ট না হয়। এবার সেই তামিম যখন বিসিবি সভাপতির চেয়ারে, তিনি অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার মধ্যে বিপিএল আয়োজন করতে চাচ্ছেন না। বিসিবি প্রধান হিসেবে তার এই যুক্তি শেষ পর্যন্ত মেনে নিচ্ছেন ক্রিকেটাররাও। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—বিসিবি যদি বিকল্প পথে ক্ষতিপূরণের বাজেট জোগাড় করতেই পারে, তবে ছোট পরিসরে হলেও কি এই মৌসুমে বিপিএল আয়োজন করা যেত না? তামিম অবশ্য বলেই রেখেছিলেন, যেনতেনভাবে আর এই আসর তিনি আয়োজন করবেন না।
তাহলে ক্ষতি পূরণ হবে কীভাবে?
ভেতরের খবর হলো, জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) ও বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) তিনটি সংস্করণে ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি বাড়িয়ে এই ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। ক্রিকেটারদের তরফ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে—পরপর তিন আসরের জন্য ম্যাচ ফি বাবদ অন্তত ৩০ লাখ টাকা নিশ্চিত করা হোক সবাইকে। বিসিবি এই প্রস্তাবে চূড়ান্ত অনুমোদন দিলে এনসিএল ও বিসিএলের ওপর ভর করেই মৌসুম পার করবেন ক্রিকেটাররা। তবে এই ক্ষতিপূরণে বিপিএল না হওয়ার ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়া যাবে না। অন্তত কাছাকাছিও না। কারণ ক্যালেন্ডার থেকে গোটা একটা বড় আসরই এই মৌসুমে নাই হয়ে যাচ্ছে।
কারা বেশি ত্যাগ স্বীকার করছেন?
এই প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় আর্থিক ত্যাগের মুখে পড়বেন জাতীয় দলের তারকা ও বিপিএলের ড্রাফটের বাইরের চড়া দামের ক্রিকেটাররা। বিপিএল খেলা হলে এক আসরেই যারা কোটি টাকার কাছাকাছি বা তারও বেশি আয় করতেন, ঘরোয়া লিগের ম্যাচ ফি দিয়ে তাদের সেই ক্ষতি পুরোপুরি পোষানো সম্ভব নয়। তবুও তরুণ ও প্রথম শ্রেণির সব ক্রিকেটারের স্বার্থে এই বড় ক্ষতি মেনে নিচ্ছেন তারা। অবশ্য অন্য কোন ভালো পথও তাদের হাতে নেই। যদিও বিসিবির সঙ্গে দেনদরবারে নিজেদের শক্তি না থাকার কথা ক্রিকেটাররা স্বীকার করেননি।
মিঠুন নিশ্চিত করেছেন, বিষয়টি নিয়ে কেবল ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের দলগুলোর সঙ্গেই নয়, জাতীয় দলের অধিনায়ক ও শীর্ষ তারকাদের সঙ্গেও (যারা বর্তমানে বিদেশে আছেন) ফোনে বিস্তারিত কথা বলেই বিসিবিকে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
