এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ কারা, ফাইনাল পর্যন্ত চ্যালেঞ্জ কী
জাপানের আইচি-নাগোয়ায় ২০২৬ এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেট ইভেন্টে আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দলের একটি হিসেবে সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। আর ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছানোর পথে এই আসরের জন্য পূর্ণ শক্তির স্কোয়াড দেওয়া টাইগারদের সামনে রয়েছে সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ দুটোই।
কোয়ার্টার ফাইনালে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ: ওমান, হংকং নাকি মালয়েশিয়া?
কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশকে মুখোমুখি হতে হবে টেস্ট খেলুড়ে দলগুলোর বাইরে প্রাথমিক পর্বের গ্রুপ 'বি' থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে আসা দলের বিপক্ষে। এই গ্রুপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ওমান, হংকং ও মালয়েশিয়া।
* র্যাঙ্কিং ও শক্তির বিচার: আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে ওমান অবস্থান করছে ১৯ নম্বরে। এর পর যথাক্রমে হংকং রয়েছে ২৪ ও মালয়েশিয়া ২৫ নম্বরে। শক্তির বিচারে ওমান বেশ এগিয়ে থাকায় তাদেরই শেষ আটে বাংলাদেশের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
* কোয়ার্টার ফাইনাল চ্যালেঞ্জ: আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়মিত খেলার অভিজ্ঞতা ওমানের বোলিং ইউনিটকে বেশ শক্ত রূপ দিয়েছে। তবে বাংলাদেশ যদি নিজেদের স্বাভাবিক খেলা উপহার দিতে পারে, তবে এই ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে পা রাখা কঠিন হওয়ার কথা নয়।
সেমিফাইনাল: প্রতিপক্ষ হতে পারে শ্রীলঙ্কা বা আফগানিস্তান
কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা টপকাতে পারলে সেমিফাইনালে বাংলাদেশের সামনে আসবে বড় পরীক্ষা। সমীকরণ অনুযায়ী, প্রতিপক্ষ হিসেবে মিলতে পারে টেস্ট খেলুড়ে দেশ শ্রীলঙ্কা কিংবা এশিয়ার উদীয়মান শক্তি আফগানিস্তানকে।
* তারকাহীন স্কোয়াড: সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা সম্প্রতি ইংল্যান্ডে ভালো করেনি। নতুন দল গঠনের পথে এশিয়ান গেমসে তারা পাঠাচ্ছে দ্বিতীয় সারির দল। অন্যদিকে, আফগানিস্তানও রশিদ খান বা রহমানউল্লাহ গুরবাজের মতো মূল তারকাদের বিশ্রাম দিয়ে তারকাহীন তরুণদের স্কোয়াড নিয়ে নামছে।
* সেমিফাইনালের সমীকরণ: শ্রীলঙ্কা বা আফগানিস্তানের স্কোয়াড পূর্ণশক্তির না হলেও এশিয়ান কন্ডিশনে তারা যেকোনো মুহূর্তেই বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে, আফগান তরুণদের স্পিন আক্রমণ যেকোনো ব্যাটিং লাইনআপের জন্য ভোগান্তির কারণ হতে পারে।
ফাইনালে স্বর্ণের লড়াই: ভারত থাকার সম্ভাবনা জোরালো
সব বাঁধা পেরিয়ে বাংলাদেশ যদি ফাইনালে জায়গা করে নিতে পারে, তবে স্বর্ণপদকের চূড়ান্ত লড়াইয়ে প্রতিপক্ষ হিসেবে ভারতকে পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
* ভারতের আধিপত্য ও শক্ত স্কোয়াড: আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দল হিসেবে ভারত এই টুর্নামেন্টে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। তাছাড়া, অন্যান্য দল কিছুটা পরীক্ষামূলক স্কোয়াড পাঠালেও ভারত জসপ্রিত বুমরাহ, শ্রেয়াস আইয়ার ও ইশান কিশানের মতো মূল তারকাদের নিয়েই পূর্ণশক্তির দল গড়েছে।
* ফাইনালের মহামঞ্চ: পাকিস্তানের পারফরম্যান্স অধারাবাহিক হওয়ায় ফাইনালে ওঠার জন্য আরেক দিক থেকে ভারতই ফেভারিট৷ সেরকম হলে ভারতের মতো শক্তিশালী টি-টোয়েন্টি দলকে হারিয়ে স্বর্ণ জেতাটাই হবে বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা। এশিয়ান গেমসে প্রথম দুই আসরে ভারত দল পাঠায়নি। তার একটিতে বাংলাদেশ সোনা জিতেছিল। সবশেষ দুই আসরে অংশ নিয়ে দুবারই সোনা জিতেছে ভারত।
নকআউট ম্যাচের বিশেষ নিয়ম: বৃষ্টি এলে বাঁচাবে র্যাঙ্কিং
এবারের এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় একটি বিশেষ নিয়ম রাখা হয়েছে। যদি বৃষ্টি বা প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কোনো নকআউট ম্যাচ পরিত্যক্ত কিংবা অসম্পূর্ণ থেকে যায়, তবে সেক্ষেত্রে কোনো রেজার্ভ ডে রাখা হয়নি। বিজয়ী নির্ধারিত হবে কেবল আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে।
* বাংলাদেশের অবস্থান: এবারের আসরে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে আইসিসি র্যাঙ্কিং অনুযায়ী ভারত ও পাকিস্তানের ঠিক পরেই রয়েছে বাংলাদেশ। ফলে কোনো ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে গেলে র্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকা প্রতিপক্ষের (যেমন: ওমান, হংকং, মালয়েশিয়া কিংবা শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান) চেয়ে বাংলাদেশ সরাসরি সুবিধা পাবে এবং পরবর্তী পর্বে উন্নীত হবে।
ওমানকে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করা এবং তারকাহীন আফগানিস্তান বা দ্বিতীয় সারির শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট কাটাই হবে বাংলাদেশের প্রাথমিক লক্ষ্য, এশিয়ান গেমসের আগে এমনটাই জানিয়েছেন লিটন দাস। এরপর ফাইনালে যেকোনো কিছুই সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।