‘অর্ধেকটাই মনস্তাত্ত্বিক খেলা’, তরুণ স্পিনারদের নিয়ে মোশতাকের ক্লাস
মাঠের বোলিং অ্যাকশন কিংবা টেকনিক তো আছেই, তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মূল লড়াইটা আসলে মনস্তাত্ত্বিক। জাতীয় দলের স্পিন বোলিং কোচ মোশতাক আহমেদের মতে, এই খেলার অন্তত ‘৫০ শতাংশই মানসিকভাবে জিতে নিতে হয়’।
মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট ও হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিটের ২০ জন তরুণ স্পিনারকে নিয়ে সম্প্রতি শেষ হলো তিন দিনের এক বিশেষ স্পিন কর্মশালা। সেখানে দেশি কোচদের সঙ্গে নিয়ে উদীয়মানদের খুঁটিনাটি শেখান এই পাকিস্তানি কিংবদন্তি। ক্লাস শেষে তিনি স্পষ্ট জানান, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নাম লেখানোর আগেই একজন স্পিনারের টেকনিক্যাল ভিত আর বোলিং অ্যাকশন পুরোপুরি তৈরি হয়ে যাওয়া উচিত।
তবে মোশতাকের ক্লাসের প্রধান সুর ছিল ভয়ডরহীন ক্রিকেট। তার সোজা হিসাব—যেকোনো কন্ডিশনে জিততে হলে আগে মন থেকে হারের ভয় ঝেড়ে ফেলতে হবে। একই সঙ্গে উইকেটের চরিত্র বোঝা, ব্যাটারের দুর্বলতা মাপা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিকল্পনা বদলানোর ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। তরুণদের উদ্দেশ্যে তার স্পষ্ট বার্তা, কেবল একটা ‘ম্যাজিক ডেলিভারি’র পেছনে না ছুটে টানা ছয় বল এক জায়গায় ফেলে ওভারজুড়ে চাপ তৈরি করতে পারলেই উইকেট ধরা দেবে।
তিন দিনের এই ক্লাসে বিসিবি পারফরম্যান্স অ্যানালিস্টরা সামনে, পেছন ও পাশ—তিন কোণ থেকে ভিডিও করে বোলারদের অ্যাকশন, ফ্রন্ট আর্ম, পায়ের ব্যবহার ও ভারসাম্যের সূক্ষ্ম ভুলত্রুটিগুলো হাতে-কলমে শুধরে দিয়েছেন। মোশতাক জানান, টার্নিং উইকেটে টেকনিকের ভুল ঢাকা পড়লেও ফ্ল্যাট উইকেটে ফল পেতে নিখুঁত বায়োমেকানিক্সের বিকল্প নেই। তাই নেটে কঠোর পরিশ্রমের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘অনুশীলনে যত বেশি ঘাম ঝরাবে, মূল ম্যাচে তত কম ঘামতে হবে।’
তাইজুল ইসলাম, মেহদী হাসান মিরাজ, রিশাদ হোসেন থেকে শুরু করে নাসুম আহমেদ ও তানভীর ইসলামদের নিয়ে বাংলাদেশের বর্তমান স্পিন আক্রমণ বেশ শক্তিশালী। এই পাইপলাইনের গভীরতা ধরে রাখতে প্রতি তিন মাস পর পর এমন স্পেশালিস্ট ক্যাম্প করার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
পাশাপাশি মোশতাকের চোখ এখন আরও বড় স্বপ্নে। ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য যেমন আছে, তেমনি বিশেষজ্ঞ স্পিনারের বাইরে মিডল অর্ডারে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন—এমন এক বাঁহাতি স্পিন-অলরাউন্ডারের খোঁজও চালাচ্ছেন জাতীয় দলের এই স্পিন কোচ।