১১৭ বলে ডাবল সেঞ্চুরিতে গিলের বিশ্বরেকর্ড
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ছুড়ে দেওয়া ৪০৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় ব্যাট হাতে ভারতকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন শুবমান গিল। দলকে জয়ের কক্ষপথে রেখে অধিনায়কোচিত ইনিংসে তিনি করলেন ডাবল সেঞ্চুরি। সেটাও আবার বিশ্বরেকর্ড গড়ে!
বুধবার গুয়াহাটিতে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে স্রেফ ১১৭ বল ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন ভারতের অধিনায়ক গিল। এই সংস্করণের ইতিহাসে এটি দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড। তিনি ভেঙে দিয়েছেন ইশান কিশানের গড়া আগের কীর্তি। কিশান ২০২২ সালে চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বিপক্ষে করেছিলেন ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন ১২৬ বলে।
ইনিংসের ৩৯তম ওভারে ভাইটেল লজের করা দ্বিতীয় ডেলিভারিটি লং-অনে খেলে সিঙ্গেল নিয়েই ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করার উল্লাসে মাতেন গিল। বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে এরকম স্মরণীয় ইনিংসের পর এমন উদযাপনই তো মানানসই! গোটা স্টেডিয়াম তখন করতালিতে ফেটে পড়ে। ড্রেসিংরুম থেকে তার সতীর্থরাও জানান অভিবাদন।
৩৮ বলে ফিফটি ছুঁয়ে গিল সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন মাত্র ৬২ বলে। তিন অঙ্কে পা রাখার পরও একই গতিতে ছুটতে থাকেন তিনি। ৮৯ বলে দেড়শ পূর্ণ করার পর ডাবল সেঞ্চুরিতে পা রাখেন ১১৭ বলে। এই সংস্করণে গিলের এটি একাদশ সেঞ্চুরি ও চলমান সিরিজে টানা দ্বিতীয়।
রান তাড়ায় ওয়ানডেতে মাত্র দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে অসামান্য নৈপুণ্য দেখিয়ে ডাবল সেঞ্চুরি করলেন গিল। এতদিন এই তালিকায় ছিলেন কেবল অস্ট্রেলিয়ার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে ওয়াংখেড়েতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে রান তাড়ায় ১২৮ বলে ডাবল সেঞ্চুরি ছুঁয়েছিলেন তিনি। সেদিন চোট নিয়েও ২০১ রানের অপরাজিত অতিমানবীয় ইনিংস খেলে অজিদের জিতিয়েছিলেন তিনি।
এই সংস্করণে গিলের এটি দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি। আগেরটি করেছিলেন ২০২৩ সালে, হায়দরাবাদে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। সেদিন তার ব্যাট থেকে এসেছিল ১৪৯ বলে ২০৮ রান।
ওয়ানডেতে একাধিক ডাবল সেঞ্চুরির স্বাদ নেওয়া মাত্র দ্বিতীয় ব্যাটার গিল। রেকর্ড তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি আছে তার সতীর্থ রোহিত শর্মার, যিনি এই ম্যাচে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছেন। গিল ও রোহিতের আগ্রাসী উদ্বোধনী জুটিতে আসে ১৬১ বলে ২৫৫ রান।
বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় ভারতকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন গিল ও রোহিত মিলে। ব্যক্তিগত ৮৪ রানে একবার জীবন পাওয়ার পর রোহিত এলবিডব্লিউ হয়ে থামেন ১০১ রানে। তার ৭৫ বলের মারমুখী ইনিংসে চার ১০টি ও ছক্কা ছয়টি। ওয়ানডেতে এটি রোহিতের ৩৫তম সেঞ্চুরি এবং সবশেষ তিন ম্যাচে দ্বিতীয়।

