রান উৎসবের ফাইনালে পাকিস্তানকে হারিয়ে সোনা ধরে রাখল ভারত
ইনিংসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একই তালে রান তুলল ভারত। অভিশেক শর্মা ও তিলক বর্মার বিস্ফোরক ফিফটিতে দুইশ ছাড়ানো পুঁজি পেল তারা। বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় পাকিস্তানের শুরুটা হলো খুব নড়বড়ে। পরবর্তীতে হাসান নওয়াজ অসাধারণ এক ইনিংস খেললেও তা কেবল তাদের হারের ব্যবধানই কমাতে পারল।
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ফাইনালে ১৯ রানে হারিয়ে এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেট ইভেন্টে সোনা ধরে রাখল ভারত। জাপানের আইচির নিশিনে টস জিতে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ২১১ রান তোলে ভারত। জবাবে পুরো ওভার খেলে পাকিস্তান করতে পারে ৬ উইকেটে ১৯২ রান।
এশিয়ান গেমসের এই ইভেন্টে দুবার অংশ নিয়ে দুবারই স্বর্ণ পদক জিতল ভারত। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত সবশেষ আসরে তারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফাইনালে আফগানিস্তানকে পরাস্ত করে।
ভারতের জয়ের ভিত গড়ে দেন ওপেনার অভিশেক। আরেক ওপেনার বৈভব সূর্যবংশী ৯ বলে ১৫ রানে আউট হয়ে গেলেও তিনি তাণ্ডব চালাতে থাকেন। ২০ বলে ফিফটি ছুঁয়ে তিনি থামেন ৬১ রানে। তার ২৮ বলের ইনিংসে চার তিনটি ও ছক্কা সাতটি।
অষ্টম ওভারে দলীয় ৯৩ রানে অভিশেকের বিদায়ের পর ভারতের রানের চাকা বেশ মন্থর হয়ে যায়। ১৬ ওভার শেষে তাদের সংগ্রহ ছিল ৫ উইকেটে ১৪২। তখন তেতে ওঠেন তিলক ও শিবম দুবে। তিলক ২১ বলে হাফসেঞ্চুরি স্পর্শ করে অপরাজিত থাকেন ৫১ রানে। তার ২২ বলের ইনিংসে চার তিনটি ও ছক্কা চারটি। দুবে দুটি করে চার ও ছক্কায় করে ১৫ বলে ২৭ রান।
জবাব দিতে নেমে সপ্তম ওভারে ৩৯ রানে ৩ উইকেট খুইয়ে বিপাকে পড়ে পাকিস্তান। অধিনায়ক সাহিবজাদা ফারহান, মাজ সাদাকাত ও উসমান খান পরিস্থিতির দাবি মেটাতে পারেননি। এরপর লড়াইয়ে প্রাণ আনেন নওয়াজ। সাইম আইয়ুবকে নিয়ে গড়েন ৪৮ বলে ৮৭ রানের জুটি।
নিয়মিত বাউন্ডারি এনে ২৮ বলে ফিফটিতে পৌঁছান নওয়াজ। তবে ১৫তম ওভারে আক্রমণে গিয়েই ভারতকে জরুরি ব্রেক থ্রু পাইয়ে দেন দুবে। সাইম দুটি চার ও একটি ছয়ে ২২ বলে ২৯ রানে বিদায় নেন।
১৬ ওভার শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ১৪৪ রান। সামনে থাকা কঠিন সমীকরণ মেলাতে শেষদিকে রানের চাকায় দম দেওয়ার জন্য যোগ্য সঙ্গী পাননি নওয়াজ। ৯ বলে স্রেফ ৯ রান করে আব্দুল সামাদ বিদায় নেন। এরপর মাজ সাদাকাত ২ ছক্কায় ৫ বলে ১২ রানে অপরাজিত থাকলেও তাই লাভ হয়নি।
শেষ ওভারে ৩৩ রানের চাহিদা পূরণের আশা অধরা থেকে যায় পাকিস্তানের। নওয়াজের সুযোগ ছিল সেঞ্চুরি হাঁকানোর। তবে ম্যাচের শেষ বলে তাকে আউট করেন দুবে। ফলে ৯৬ রানে আটকে যান নওয়াজ। তার ৫১ বলের বিধ্বংসী ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার ও সাতটি ছক্কা।
নওয়াজকে অবশ্য আগেই ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল ভারত। কিন্তু অভিশেকের বলে ক্যাচ নিতে পারেননি বৈভব। তখন ১০ বলে ৪ রানে থাকা নওয়াজ জীবন পেয়ে হাত খুলে মারতে থাকেন। তবে হারের পর হতাশায় ব্যাট ছুড়ে ফেলে মাঠ ছাড়েন তিনি।
এই নিয়ে টি-টোয়েন্টিতে টানা সাত ম্যাচে পাকিস্তানকে হারাল ভারত। আর চলমান এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট ইভেন্টে 'ডাবল' জিতে নিল তারা। এবার শ্রীলঙ্কাকে ফাইনালে হারিয়ে নারী ক্রিকেটেও সোনার পদক জিতেছে ভারত।