আফগানিস্তানকে ১৯০ রানে বেঁধে ফেলল বাংলাদেশ
সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ের প্রথমভাগে দাপট দেখাল বাংলাদেশ দল। বল হাতে জ্বলে উঠলেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিলেন রিশাদ হোসেন ও তানজিম হাসান সাকিব। তাদের চাপে ভেঙে পড়া আফগানিস্তান স্কোরবোর্ডে দুইশ রানও জমা করতে পারল না।
শনিবার আবুধাবিতে তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টস জিতে আগে ব্যাট করেছে আফগানরা। ৪৪.৫ ওভারে তাদেরকে ১৯০ রানে বেঁধে ফেলেছে বাংলাদেশ। অর্থাৎ সমতা টানার জন্য সফরকারীরা পেয়েছে সহজ লক্ষ্য।
অফ স্পিনার মিরাজ ৪২ রানের বিনিময়ে নেন ৩ উইকেট। দুটি করে শিকার ধরতে লেগ স্পিনার রিশাদ ও ডানহাতি পেসার তানজিম দেন যথাক্রমে ৩৭ ও ৩৫ রান। বাঁহাতি স্পিনার তানভির ইসলাম ১ উইকেট পান ৩৫ রানে। ৩৮ রান খরচায় উইকেটশূন্য থাকেন বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। তবে পাঁচ বোলারের সবাই ছিলেন আঁটসাঁট।
পায়ে চোট পেয়ে উঠে যাওয়া রহমত শাহ নবম উইকেট পড়ার পর আবার নামেন খুড়িয়ে খুড়িয়ে। কিন্তু মাত্র এক বল খেলেই আর ব্যাটিং চালিয়ে যেতে পারেননি তিনি। আহত আউট হয়ে তিনি হুইলচেয়ারে করে মাঠ ছাড়লে থামতে হয় আফগানিস্তানকে।
সেঞ্চুরির আশা জাগানো ডানহাতি ওপেনার ইব্রাহিম জাদরান একাই টানেন দলকে। ৪৪তম ওভার পর্যন্ত টিকে থেকে তিনি খেলেন ৯৫ রানের ইনিংস। ১৪০ বল মোকাবিলায় তার ব্যাট থেকে আসে তিনটি চার ও একটি ছক্কা। মিরাজের বল উড়িয়ে মারার চেষ্টায় ডিপ মিড উইকেটে রিশাদের তালুবন্দি হন তিনি।
বোলিংয়ে নেমে পঞ্চম ওভারেই তানজিমের কল্যাণে বাংলাদেশ পায় সাফল্য। রহমানউল্লাহ গুরবাজ শর্ট বল পুল করতে গিয়ে টাইমিংয়ে গড়বড় করে ডিপ স্কয়ার লেগে ধরা পড়েন জাকের আলী অনিকের হাতে। ১১ বলে একটি চারে ১১ রান করেন তিনি।
এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকে। তানভিরের বলে সীমানার কাছে ক্যাচ দেন সেদিকউল্লাহ আতাল। রহমত চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ার পর আফগান অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহিদি মিরাজের বলের লাইন মিস করে হন বোল্ড। রিশাদের বলে স্লিপে তানজিদ হাসানকে ক্যাচ দেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। তিনি ৩ বল খেলে রানের খাতা খুলতে পারেননি।
একপ্রান্ত আগলে ছিলেন ইব্রাহিম। ৭৯ রানে ৪ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর তিনি মোহাম্মদ নবীর সঙ্গে ৬৩ বলে ৩৯ ও নাঙ্গেলিয়া খারোতের সঙ্গে ৪৮ বলে ৩৬ রানের জুটি গড়েন। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে তার ফিফটি স্পর্শ হয় ৭০ বলে।
আক্রমণে ফিরে তানজিম বিদায় করেন ৩০ বলে ২২ রান করা নবীকে। তানজিদের সরাসরি থ্রোতে রানআউট হওয়া খারোতের ব্যাট থেকে আসে ২৪ বলে ১৩ রান। মিরাজের বলে তানভিরের ক্যাচে দ্রুত ফেরেন বিপজ্জনক হয়ে ওঠার সামর্থ্য রাখা রশিদ খান।
ক্রিজে গিয়েই ঝড় তোলেন আল্লাহ মোহাম্মদ গজনফর। মোস্তাফিজের করা ৪১তম ওভারে দুটি চার ও একটি ছক্কায় আনেন ১৬ রান। ইব্রাহিম ধীরে ধীরে এগোতে থাকেন তিন অঙ্কের দিকে। তাকে অবশ্য সফল হতে দেননি মিরাজ। সীমানার কাছে দারুণ ক্যাচ নেন রিশাদ।
দুবার জীবন পাওয়া গজনফর তৃতীয়বার আর বাঁচতে পারেননি। রিশাদের বলে সাইফ হাসানের তালুবন্দি হয়ে তিনি থামেন ১৮ বলে ২২ রানে। পরের বলে রহমত ক্রিজে ফিরলেও চোটের সঙ্গে লড়াইয়ে পরাস্ত হন তিনি।