বাংলাদেশকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়া
রুবাইয়া হায়দার ঝিলিক দারুণ শুরু এনে দেওয়ার পর অপরাজিত ফিফটি করলেন সোবহানা মোস্তারি। তবে বাকিরা ব্যর্থ হওয়ায় সংগ্রহ থামল দুইশর নিচে। এরপর বোলিংয়ে একদমই হতাশ করল নাহিদা আক্তার ও মারুফা আক্তারকে ছাড়া খেলতে নামা বাংলাদেশ। অ্যালিসা হিলির টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরিতে তাদেরকে উড়িয়ে প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে উঠল অস্ট্রেলিয়া।
বিশাখাপত্তনমে বৃহস্পতিবার আইসিসি নারী বিশ্বকাপের একপেশে ম্যাচে ১০ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে পুরো ওভার খেলে ৯ উইকেটে ১৯৮ রান করে তারা। জবাবে ২৪.৫ ওভারে বিনা উইকেটে ২০২ রান তুলে জয়ের বন্দরে পৌঁছায় শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া।
একই মাঠে চার দিন আগে ভারতের বিপক্ষে ১০৭ বলে ১৪২ রানের ইনিংস খেলা হিলি এবার অপরাজিত থাকেন ৭৭ বলে ১১৩ রানে। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়কের ইনিংসে চার ২০টি। তিনি ৭৩ বলে সেঞ্চুরি পূরণের আগে ৬৭ রানে থাকাকালে সহজ ক্যাচ তুলেছিলেন। তা হাতছাড়া করেন ফারজানা হক। হিলির সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন উদ্বোধনী জুটিতে ফিবি লিচফিল্ড ১২টি চার ও একটি ছক্কায় করেন ৭২ বলে ৮৪ রান।
প্রথম ব্যাটার হিসেবে নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের দুটি আলাদা আসরে টানা দুই ম্যাচে সেঞ্চুরির কীর্তিও গড়েন হিলি। ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত আগের আসরে টানা দুই ম্যাচে তার ব্যাট থেকে এসেছিল ১২৯ ও ১৭০ রান।
এর আগে ৬৭ বলে চলতি আসরে নিজের দ্বিতীয় ফিফটি স্পর্শ করেন সোবহানা। চারে নেমে লড়াই চালিয়ে তিনি খেলেন ৬৬ রানের ঝলমলে ইনিংস। ৮০ বল মোকাবিলায় মারেন নয়টি চার। ১৬৫ রানে ৯ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর দশম উইকেটে ফারিহা তৃষ্ণার সঙ্গে তার জুটি ছিল ২৫ বলে অবিচ্ছিন্ন ৩৩ রানের। তৃষ্ণা অপরাজিত থাকেন ৪ বলে ১ রানে।
নারী ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচে এটাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পুঁজি। যদিও তা শেষমেশ কাজে আসেনি। ২০২২ সালের বিশ্বকাপে ওয়েলিংটনে করা ৬ উইকেটে ১৩৫ রান ছিল তাদের আগের সর্বোচ্চ।
ব্যাটিংয়ে নেমে ঝিলিকের কল্যাণে দ্রুত ঘুরতে থাকে বাংলাদেশের রানের চাকা। উদ্বোধনী জুটিতে ফারজানার সঙ্গে ৫৪ বলে ৩২ ও দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে শারমিন আক্তার সুপ্তার সঙ্গে ৫৩ বলে ৪১ রান যোগ করেন তিনি। তাকে থামতে হয় ৫৯ বলে আটটি চারের সাহায্যে ৪৪ রান করে। অ্যাশলি গার্ডনারকে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে মিড অনে টালিয়া ম্যাকগ্রার তালুবন্দি হন তিনি।
ঝিলিক আউট হওয়ার পর ভিত নড়ে যায় বাংলাদেশের। সোবহানা ছাড়া কেউ দায়িত্ব নিতে পারেননি। দুই অঙ্কের ঘরে আর যেতে পারেন কেবল সুপ্তা (৩৩ বলে ১৯ রান) ও নিগার সুলতানা জ্যোতি (৩৫ বলে ১২ রান)। ছন্দে না থাকা বাংলাদেশের অধিনায়ক আবারও হতাশ করেন ব্যাট হাতে।
আগের ম্যাচগুলোতে লোয়ার মিডল অর্ডার থেকে রান এলেও এদিন তারা ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হন। স্বর্ণা আক্তার, ফাহিমা খাতুন ও রাবেয়া খান সাজঘরে ফেরেন ক্রিজে থিতু হওয়ার আগে। বাংলাদেশের ইনিংসের তৃতীয় সর্বোচ্চ ২৮ রান আসে অতিরিক্ত খাত থেকে।
অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে গার্ডনারের পাশাপাশি দুটি করে উইকেট নেন অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড, অ্যালানা কিং ও জর্জিয়া ওয়্যারহ্যাম। একটি শিকার করেন মেগান শাট। তবে হিলি নন, ১০ ওভারে চারটি মেডেনসহ মাত্র ১৮ রান দেওয়া কিং হন ম্যাচসেরা।