বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা সামাজিক মাধ্যমে জবাব দেবে— চান না সিমন্স

By ক্রীড়া প্রতিবেদক

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয়ে দেশে ফেরার পর তাৎক্ষণিক অভিজ্ঞতাটা সুখকর হয়নি বাংলাদেশ দলের। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, খেলোয়াড়রা বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় হেনস্থা ও মৌখিক কটূক্তির শিকার হন।

গত বুধবার রাতের ওই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ভুক্তভোগীদের একজন ছিলেন ব্যাটার মোহাম্মদ নাইম শেখ। বিমানবন্দরে তার সঙ্গে সেদিন যা ঘটেছিল, তা সামাজিক মাধ্যমে নিজের স্বীকৃত পেজে তুলেও ধরেন তিনি। নাঈমের পাশাপাশি উইকেটরক্ষক জাকের আলী অনিক হন তীর্যক বাক্যের লক্ষ্যবস্তু। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে নিয়ে বর্ণবাদী অনেক মন্তব্যও করা হয়।

ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগের দিন বাংলাদেশের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স জানান, খেলোয়াড়দের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আশ্রয় নিয়ে জবাব দেওয়া থেকে দূরে থাকা উচিত। তবে তিনি মনে করিয়ে দেন, ভক্ত-সমর্থকসহ কারও কাছ থেকেই বর্ণবাদমূলক কোনো আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।

শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে সিমন্স বলেন, 'প্রথমত বলতে চাই, সামাজিক মাধ্যমে কী হচ্ছে, এসব নিয়ে ক্রিকেটারদের কিছু করার আছে বলে আমি একদমই মনে করি না। ব্যক্তি হিসেবে সবারই অধিকার আছে সামাজিক মাধ্যমে যা ইচ্ছা বলার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ও জাতীয় ক্রিকেটার হিসেবে আমার ক্রিকেটারদের অবশ্যই উচিত নয় এসবের জবাব দেওয়া।'

তিনি যোগ করেন, 'তবে একটি কথা বলতে চাই যে, ক্রিকেটারদের প্রতি কোনো ধরনের বর্ণবাদী কথাবার্তা থাকা কখনোই ভালো কিছু নয়। আপনি যেখান থেকেই আসেন না কেন, আমার কিছু যায়-আসে না। কিন্তু বর্ণবাদের যে বিষয়টা রয়েছে... জাকেরের প্রতি যা হয়েছে, সেসবে আমি ক্ষুব্ধ। ভালো কিছু নয় এসব। তবে আপনাকে বলতে পারি, আমার ক্রিকেটাররা সামাজিক মাধ্যমে কোনো ধরনের জবাব দেবে তা আমি চাই না।'

সংবাদ সম্মেলনের পর বাংলাদেশের প্রধান কোচকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়, জাকেরকে নিয়ে বর্ণবাদী মন্তব্য প্রথম করা হয়েছিল ২০২৪ সালের বিপিএল চলাকালীন। আর যিনি করেছিলেন, তিনি বর্তমানে জাতীয় দলের কোচিং স্টাফদের একজন। সিমন্সের কাছ থেকে জবাব আসে, 'তোমরা ঠিক বলেছো।'