রিশাদের রেকর্ডগড়া ৬ উইকেট, ‘মিরপুর ফর্মুলা’য় বাংলাদেশের বড় জয়

By স্পোর্টস ডেস্ক

উইকেটে দারুণ সহায়তা থাকলেও পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেট নিতে পারল না বাংলাদেশ। তবে রিশাদ হোসেন আক্রমণে আসতেই পাল্টে গেল চিত্র। আগে খেলা ১১ ওয়ানডেতে কখনও ২ উইকেটে না পাওয়া এই লেগ স্পিনার একাই ধসিয়ে দিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং লাইনআপ। তার নৈপুণ্যে সাদামাটা পুঁজি নিয়েও বড় জয় পেল মেহেদী হাসান মিরাজের দল।

শনিবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের কালো রঙের মন্থর, অসমান বাউন্সসম্পন্ন ও টার্নিং পিচে প্রথম ওয়ানডেতে ৭৪ রানে জিতেছে বাংলাদেশ। টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ৪৯.৪ ওভারে ২০৭ রানে অলআউট হয় তারা। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩৯ ওভারে মাত্র ১৩৩ রানে গুটিয়ে দিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।

৯ ওভারে ৩৫ রান খরচায় ৬ উইকেট শিকার করেন রিশাদ। অসাধারণ বোলিংয়ে দুটি রেকর্ডের মালিকও হলেন তিনি। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের প্রথম ডানহাতি স্পিনার হিসেবে নিলেন ৫ বা এর চেয়ে বেশি উইকেট। আগের সেরা ছিল রাজিন সালেহর। তিনি হারারেতে ২০০৬ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৪ উইকেট পেয়েছিলেন ১৬ রানে।

শুধু তাই নয়। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের স্পিনারদের মধ্যে কোনো ম্যাচে সেরা বোলিংয়ের কীর্তি গড়লেন রিশাদ। আর কোনো ঘূর্ণি বোলারের নামের পাশে নেই ৬ উইকেট।

এই সংস্করণে সব মিলিয়ে চতুর্থ বাংলাদেশি হিসেবে ৬ উইকেট পেলেন ২৩ বছর বয়সী রিশাদ। ২৬ রানে ৬ উইকেট নিয়ে সেরা বোলিং নৈপুণ্যের তালিকায় যৌথভাবে শীর্ষে আছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা (কেনিয়ার বিপক্ষে নাইরোবিতে ২০০৬ সালে) ও রুবেল হোসেন (নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মিরপুরেই ২০১৩ সালে)। মোস্তাফিজুর রহমানও ভারতের বিপক্ষে ২০১৫ সালে ৪৩ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন এই মাঠে।

বল হাতে জ্বলে ওঠার আগে ব্যাট হাতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন রিশাদ। ১৩ বলে দুটি চার ও একটি ছক্কায় করেন ২৬ রান। ব্যাটিংয়ের জন্য কঠিন উইকেটে তাওহিদ হৃদয় (৯০ বলে ৫১), অভিষিক্ত মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন (৭৬ বলে ৪৬) ও নাজমুল হোসেন শান্তর (৬৩ বলে ৩২) দায়িত্বশীল ইনিংস সত্ত্বেও দুইশর নিচে থামার শঙ্কায় ছিল বাংলাদেশ। শেষদিকে রিশাদ ঝড় তুললে সেই মেঘ কেটে যায়। অনুমিতভাবে তিনিই জিতেছেন ম্যাচসেরার পুরস্কার।

রান তাড়ায় মিরপুরের চিরচেনা বোলিংবান্ধব পিচে ৫১ রানের উদ্বোধনী জুটিতে ভালো শুরু পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দ্বাদশ ওভারে আক্রমণে গিয়েই তা বিচ্ছিন্ন করেন রিশাদ। তার বলের লাইন মিস করে এলবিডব্লিউ হন আলিক আথানেজ (৩৬ বলে ২৭ রান)। রিভিউ নিলেও লাভ হয়নি।

আরেক ওপেনার ব্র‍্যান্ডন ও কেসি কার্টি পরের কয়েকটি ওভার কাটিয়ে দেওয়ার পর রিশাদের কল্যাণে ক্যারিবিয়ানদের চেপে ধরে বাংলাদেশ। সেটা এড়ানোর কোনো উপায় জানা ছিল না শেই হোপের দলের।

৭ ওভারের টানা স্পেলে রিশাদ ওয়েস্ট ইন্ডিজের পতন হওয়া প্রথম ৫ উইকেটের সবগুলোই নেন। ২০তম ওভারে কার্টি ধরা পড়েন স্লিপে সাইফ হাসানের হাতে। আগে একবার রিশাদের বলেই বেঁচে গিয়েছিলেন তিনি। ক্যাচ ফেলেছিলেনও সাইফ। পরের ওভারে জোড়া শিকার ধরেন রিশাদ। তিনবারের চেষ্টায় কিংয়ের ক্যাচ গ্লাভসে জমানোর পর শেরফেন রাদারফোর্ডের ক্যাচও নেন উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহান। কিং ৬০ বলে পাঁচটি চার ও একটি ছক্কায় ৪৪ রান করলেও রাদারফোর্ড রানের খাতা খুলতে পারেননি।

২৪তম ওভারে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ৫ উইকেট পূর্ণ করেন রিশাদ। দ্বিধায় থাকা রোস্টন চেইস খোঁচা মেরে সোহানেরই তালুবন্দি হন। এরপর গুডাকেশ মোটিকে টিকতে দেননি মিরাজ। একপ্রান্ত আগলে থাকা হোপ (৩২ বলে ১৫) তানভির ইসলামের শিকার হলে ১১৮ রানে ৭ উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সরে যায় বাংলাদেশের জয়ের পথে সবচেয়ে বড় কাঁটা।

রোমারিও শেফার্ড ও জাস্টিন গ্রিভসকে মোস্তাফিজ ছাঁটার পর রিশাদের গুগলিতে জেইডেন সিলস স্লিপে মিরাজকে ক্যাচ দিলে ইতি ঘটে ম্যাচের। ৫ ওভারে ১৬ রানে ২ উইকেট নেন বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজ। আঁটসাট থাকা অফ স্পিনার মিরাজ ১ উইকেট পেতে সমান সংখ্যক রানই দেন। তবে তিনি হাত ঘোরান ১০ ওভার, মেডেন নেন তিনটি।

বাংলাদেশের ইনিংসের প্রতিবেদন পড়ুন এখানে: