'আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রয়োজন ভিন্ন মানসিকতা'
গত আইসিসি নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজের সামর্থ্য শেষ পর্যন্ত প্রমাণ করেছেন মিডল-অর্ডার ব্যাটার সোবহানা মোস্তারি। ২৩ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার সম্প্রতি নারী বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (ডব্লিউবিসিএল) টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে টুর্নামেন্ট শেষ করেছেন। পাঁচ ইনিংসে ১২৬.৩৪ স্ট্রাইক রেটে তার রান ২৫৯, আর তার নেতৃত্বেই নর্থ জোন শিরোপা জেতে।
আগামী ১৮ জানুয়ারি নেপালে শুরু হতে যাওয়া আইসিসি নারী টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব সামনে রেখে শনিবার থেকে মিরপুরে চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করছে বাংলাদেশ নারী দল। এই প্রস্তুতির আগে নিজের সাম্প্রতিক পরিবর্তন ও বাছাইপর্বের পরিকল্পনা নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের সামসুল আরেফিন খানের সঙ্গে কথা বলেছেন মোস্তারি। সাক্ষাৎকারের নির্বাচিত অংশ নিচে তুলে ধরা হলো—
দ্য ডেইলি স্টার: ব্যাটার ও অধিনায়ক দুই ভূমিকাতেই আপনার এবারের বিসিএল ছিল দারুণ। আপনি এটিকে কীভাবে দেখছেন?
সোবহানা মোস্তারি: গত চার বছর ধরে প্রিমিয়ার লিগ, এনসিএল ও বিসিএলের মতো ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় আমি অধিনায়কত্ব করছি, কিন্তু শিরোপা জেতা এতদিন স্বপ্নই ছিল। এ মৌসুমে প্রথম ম্যাচ হারার পরও আমি বিশ্বাস হারাইনি। সবাই নিজেদের সেরাটা দিয়েছে। অধিনায়ক হিসেবে সুপ্তা আপু (শারমিন আক্তার) ও সাম্মু আপু (শামীমা সুলতানা)-এর মতো সিনিয়র খেলোয়াড়দের সমর্থন আমাকে অনেক সাহায্য করেছে।
ডেইলি স্টার: প্রস্তুতির সময় কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ না খেলেই আপনি আরেকটি আইসিসি টুর্নামেন্টে যাচ্ছেন। এতে পার্থক্যটা কতটা?
মোস্তারি: পার্থক্যটা অনেক বড়। ঘরোয়া ক্রিকেটে আমরা নিয়মিত একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলি, তাই চাপ তুলনামূলক কম থাকে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিজ্ঞতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাছাইপর্বের আগে যদি ভারতের বিপক্ষে খেলতে পারতাম, তাহলে উন্নতির অনেক সুযোগ তৈরি হতো। কারণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একেবারেই ভিন্ন ধরনের মানসিকতা দরকার, এটিকে কখনোই ঘরোয়া ক্রিকেটের সঙ্গে তুলনা করা যায় না।
ডেইলি স্টার: সর্বশেষ বিশ্বকাপের পর একজন খেলোয়াড় হিসেবে নিজের পরিবর্তনকে আপনি কীভাবে দেখেন?
মোস্তারি: তিন-চার বছর আমি সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গেছি, প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারিনি, ফলে অনেক সমালোচনাও সহ্য করতে হয়েছে। ২০২৪ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আমার জন্য টার্নিং পয়েন্ট। শীর্ষ ১০ ব্যাটারের মধ্যে থাকতে পারায় আমার আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। আমার প্রস্তুতিও ছিল ভিন্ন, আমি আরও বেশি পরিশ্রম করেছি, মানসিকভাবে ফোকাসড থাকার চেষ্টা করেছি এবং ম্যাচের গতি বোঝার চেষ্টা করেছি। এসবই ভালো পারফরম্যান্সে সাহায্য করেছে।
ডেইলি স্টার: চারটি দল বাছাইপর্ব পেরোবে এতে কি আসন্ন বাছাইপর্বটা তুলনামূলক সহজ হবে?
মোস্তারি: আমি বলব না যে এটা সহজ হবে, তবে আমরা আত্মবিশ্বাসী। এসব দলের বেশির ভাগের বিপক্ষেই আমরা খেলেছি এবং ভালো করেছি। যেহেতু শীর্ষ চার দল উঠবে, তাই আমার বিশ্বাস বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে আছে। তবে পারফর্ম করতেই হবে।
ডেইলি স্টার: এফটিপির বাইরে আরও আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনকে কি বিসিবির অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত?
মোস্তারি: বোর্ড টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে আরও আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের চেষ্টা করছে। নারী বিপিএল নিয়েও আলোচনা চলছে। সিনিয়র খেলোয়াড়রা ও অধিনায়ক নিয়মিত আরও ম্যাচের প্রয়োজনীয়তার কথা বোর্ডকে জানায়, আর বোর্ড সাধারণত ইতিবাচক সাড়া দেয়।
ডেইলি স্টার: বেতন ও ভাতা বাড়লেও ঘরোয়া পর্যায়ে আয় এখনো নারী ক্রিকেটে বড় সমস্যা। এ বিষয়ে আপনার মত কী?
মোস্তারি: বেতন বাড়ানো অবশ্যই ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে ঘরোয়া ম্যাচ ফি এখনো কম, বিশেষ করে যারা জাতীয় দলের বাইরে। অনেক খেলোয়াড় সারা বছর অনুশীলন করে মাত্র এক-দুটি টুর্নামেন্ট খেলার সুযোগ পায়। ঘরোয়া ম্যাচ ফি বাড়ানো গেলে তাদের ক্যারিয়ার টিকে রাখা সহজ হবে।