বাংলাদেশের ফুটবলে ঐতিহাসিক মুহুর্ত, অসম লড়াইয়ে সামনে চীন
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল আজ তাদের ক্রীড়া ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো খেলতে নামছে এশিয়ান কাপের আসরে। বাংলাদেশের কোচ পিটার বাটলার ম্যাচটিকে ‘ডেভিড বনাম গোলিয়াথ’ বা অসম শক্তির লড়াই হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
১৯৭৫ সালে শুরু হওয়া এএফসি উইমেন’স এশিয়ান কাপের ২১তম আসরে এসে নাম লেখায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ৩০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার ওয়েস্ট সিডনি স্টেডিয়ামে আজ চীনের বিপক্ষে এই ম্যাচ শুরু বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায়। গ্রুপ ‘বি’-এর এই ম্যাচটি সরাসরি দেখা যাবে টি-স্পোর্টসে।
২০১০ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলে যাত্রা শুরু করা একটি দেশের জন্য এশিয়ার শীর্ষ এই টুর্নামেন্টে জায়গা করে নেওয়াই এক বিশাল সাফল্য। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষরা নিয়মিত বিশ্বকাপ খেলে এবং তাদের রয়েছে দীর্ঘদিনের পেশাদার ফুটবল কাঠামো, সেখানে সব প্রতিকূলতা জয় করে বাংলাদেশ উঠে এসেছে এই পর্যায়ে।
গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার তাদের এই প্রথম ম্যাচটিকে ‘ডেভিড বনাম গোলিয়াথ’ বা অসম শক্তির লড়াই হিসেবে অভিহিত করেছেন। নয়বারের চ্যাম্পিয়ন চীন ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ৯৫ ধাপ এগিয়ে।
অভিজ্ঞতার এই বিশাল ব্যবধান থাকলেও বাংলাদেশের লক্ষ্য পরিষ্কার—লড়াকু পারফরম্যান্স উপহার দেওয়া। যাতে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে উত্তর কোরিয়া এবং উজবেকিস্তানের মতো শক্তিশালী দলগুলোর সঙ্গে লড়াই করার আত্মবিশ্বাস পাওয়া যায়।
দলের অর্ধেক খেলোয়াড়ের গড় বয়স মাত্র ২০ বছর হলেও কোচ বাটলার জানিয়েছেন, তারা কেবল রক্ষণভাগ সামলাতেই ব্যস্ত থাকবেন না।
বাটলার বলেন, ‘এটি বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। উত্তর কোরিয়া বা উজবেকিস্তান শক্তিশালী হলেও আমাদের বর্তমান ফোকাস চীন। আমরা আমাদের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলব—ফল যাই হোক না কেন। আমরা কেবল রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলার দল নই।’
বাংলাদেশ অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার বলেন, ‘চীনের মতো চ্যাম্পিয়ন দলের সঙ্গে খেলা আমাদের জন্য বড় সুযোগ। তবে তারা শক্তিশালী বলেই আমরা লড়াই থেকে পিছিয়ে আসব না।’
১৭ কোটি মানুষের প্রত্যাশা থাকলেও কোনো চাপে নেই বলে জানান আফঈদা।
কোচদের কথা
পিটার বাটলার (বাংলাদেশ কোচ): ‘বাংলাদেশের মানুষ আমাদের কাছ থেকে শতভাগ চেষ্টা আশা করতে পারে। আমাদের খেলোয়াড়দের গড়ন ছোট হতে পারে, কিন্তু তাদের কলিজা অনেক বড়। তারা দেশের জন্য জানপ্রাণ দিয়ে লড়তে চায়।’
আন্তে মিলিসিচ (চীন কোচ): ‘বাংলাদেশ তাদের নিজস্ব ঢংয়ে ভালো ফুটবল খেলছে। যখন কোনো দলের হারানোর কিছু থাকে না, তারা খেলাটা উপভোগ করে। তাই আমরা একটি কঠিন ম্যাচই আশা করছি।’
কিছু তথ্য
- অভিষেক হওয়া বাংলাদেশের র্যাঙ্কিং ১১২, আর বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীনের অবস্থান ১৭।
- এশিয়ান কাপের শেষ ১১টি গ্রুপ ম্যাচে অপরাজিত চীন।
- ২৩তম দল হিসেবে এশিয়ান কাপে নাম লেখালো বাংলাদেশ।
- টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ড চীনের (ম্যাচ প্রতি ৪.৯টি)।