নিউক্যাসলকে গোলের বন্যায় ভাসিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে বার্সা

স্পোর্টস ডেস্ক

ইউরোপীয় মঞ্চে এক ঝড় তুলল বার্সেলোনা। নিজেদের ঘরের মাঠে ন্যু ক্যাম্পে নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে ৭-২ গোলে বিধ্বস্ত করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেল কাতালান জায়ান্টরা। দুই লেগ মিলিয়ে ৮-৩ ব্যবধানে জিতে একেবারে দাপটের সঙ্গেই শেষ আট নিশ্চিত করেছে তারা।

ম্যাচের নায়ক হয়ে ওঠেন রবার্ট লেভানদোভস্কি ও রাফিনিয়া, দুজনই জোড়া গোল করেন। পাশাপাশি গোলের খাতায় নাম লেখান লামিন ইয়ামাল, মার্ক বের্নাল ও ফেরমিন লোপেজ। কোচ হ্যান্সি ফ্লিকের দল যেন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আক্রমণের বন্যায় ভাসিয়েছে প্রতিপক্ষকে।

প্রথম লেগে ১-১ ড্রয়ের পর ঘরের মাঠে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বার্সেলোনা, আর সেটিই বাস্তবে রূপ নেয় চোখ ধাঁধানো পারফরম্যান্সে। ম্যাচের শুরুতেই রাফিনিয়ার গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা, যেখানে দারুণ ভূমিকা ছিল কিশোর প্রতিভা ইয়ামালের।

তবে বার্সার রক্ষণভাগের দুর্বলতা আবারও চোখে পড়ে। দ্রুতই সমতায় ফেরে নিউক্যাসল, আন্থনি এলাঙ্গা গোল করেন। কিন্তু বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি সেই আনন্দ, ১৮ বছর বয়সী বার্নালের গোলে আবারও এগিয়ে যায় বার্সা।

ম্যাচে নাটকীয়তা ছিল ভরপুর। ইয়ামালের ভুলে দ্বিতীয়বার সমতায় ফেরে নিউক্যাসল। তবে প্রথমার্ধের শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে আবারও এগিয়ে দেন ইয়ামালই, নিজের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করেন তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধে যেন একতরফা দাপট দেখায় বার্সেলোনা। রাফিনিয়ার পাসে গোল করেন লোপেজ, এরপর কর্নার থেকে হেডে গোল পান লেভানদোভস্কি। চোখের চোট নিয়ে মাস্ক পরে খেলা এই পোলিশ স্ট্রাইকার গোলের পর সেটি খুলে উদযাপন করেন, যেন নিজের আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার ঘোষণা।

এরপর আবারও গোল করেন লেভানডভস্কি, ইয়ামালের দুর্দান্ত অ্যাসিস্টে। শেষদিকে নিউক্যাসলের রক্ষণভাগের ভুল কাজে লাগিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন রাফিনিয়া।

পুরো ম্যাচজুড়ে বার্সেলোনার আক্রমণ ছিল ঝড়ের মতো, আর নিউক্যাসল ছিল পুরোপুরি দিশেহারা। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন নিয়ে আসা ইংলিশ ক্লাবটি শেষ পর্যন্ত মাঠ ছাড়ে চরম হতাশা নিয়ে।