‘অবশেষে স্বপ্ন পূরণ’
সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলে ভারতের বিপক্ষে ফাইনাল মানেই ছিল একরাশ হতাশা আর শেষ মুহূর্তের আক্ষেপ। ২০১৯, ২০২২ কিম্বা সর্বশেষ ২০২৫—তিনটি ফাইনালেই ভারতের কাছে হারতে হয়েছিলো। এবার প্রতিবেশি দলকে হারানোর তৃপ্তি তাই অন্যরকম বাংলাদেশ অধিনায়ক মিঠু চৌধুরীর কাছে। তার মনে হচ্ছে লম্বা অপেক্ষার পর এ যেন স্বপ্নপূরণ।
যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ফরোয়ার্ড রোনান সুলিভান জয়সূচক পেনাল্টিটি নিয়ে ইতিহাস গড়েন। অত্যন্ত কৌশলী 'পানেঙ্কা' শটে তিনি পরাস্ত করেন ভারতীয় গোলরক্ষক সুরজ সিংকে। রোনানের শটটি যখন জালে জড়ায়, গ্যালারিতে থাকা প্রবাসী বাঙালি আর মাঠের খেলোয়াড়দের উল্লাসে কেঁপে ওঠে স্টেডিয়াম।
মজার বিষয় হলো, গত ২০২৫ সালের ফাইনালেও লড়াই হয়েছিল এই ভারত আর বাংলাদেশের মধ্যে। সেবার নির্ধারিত সময় ১-১ ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জিতেছিল ভারত। ঠিক এক বছর পর একই ব্যবধানে ভারতকে হারিয়ে মধুর প্রতিশোধ নিল বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মিঠু চৌধুরী উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘গত চার বছর ধরে আমি এই শিরোপার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। আমরা অবশেষে এটি পেলাম। পুরো টুর্নামেন্টে প্রবাসী দর্শকরা আমাদের যেভাবে সমর্থন দিয়েছেন, তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’
ম্যাচের ভাগ্য রোনানের পায়ে নির্ধারিত হওয়ার আগে আসল কাজটা সেরে রেখেছিলেন গোলরক্ষক ইসমাইল হোসেন মাহিন। টাইব্রেকারের শুরুতেই ভারতের ঋষি সিংয়ের শট রুখে দিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন তিনি।
নিজের অনুভূতি জানিয়ে মাহিন এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘প্রথম শটটা ঠেকানোর পর এক অবিশ্বাস্য অনুভূতি হচ্ছিল। আমার মনে হয়েছিল, আমি দেশের ২০ কোটি মানুষের স্বপ্ন রক্ষা করেছি।’
বাংলাদেশের হয়ে প্রথম তিন শটে গোল করেন মোরশেদ আলী, চন্দন রায় এবং আব্দুল রিয়াদ ফাহিম। মাঝে ভারতের গোলরক্ষকের ইনজুরির কারণে খেলা কিছুটা বন্ধ থাকলে ছন্দপতন ঘটে স্যামুয়েল রাকসামের, তাঁর শটটি ক্রসবারে লাগে। তবে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় ভারতের ওমাং ডডুম শট মিস করলে জয়ের সুযোগ চলে আসে বাংলাদেশের হাতে। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইতিহাস গড়েন রোনান।
পুরো ৯০ মিনিটের খেলায় দুই দলই ছিল সমানে সমান। যদিও ভারত আক্রমণ বেশি করেছে, তবে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ ছিল দেয়ালের মতো শক্ত। বিরতির আগে অধিনায়ক মিঠু ও রোনান সহজ কিছু সুযোগ হাতছাড়া না করলে হয়তো নির্ধারিত সময়েই ফয়সালা হয়ে যেত।
এর আগে ২০২৪ সালে নেপালকে হারিয়ে প্রথমবার এই শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। তবে ২০১৯, ২০২২ এবং ২০২৫ সালে ভারতের কাছে ফাইনালে হারতে হয়েছিল। এবার সেই হারের গেরো ভেঙে দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধার করল বাংলাদেশ।