উত্তপ্ত লড়াইয়ে বার্সাকে বিদায় করে ৯ বছর পর সেমিফাইনালে অ্যাতলেটিকো
রোমাঞ্চ, উত্তেজনায় ঠাসা ম্যাচে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদকে হারিয়েও লাভ হলো না বার্সেলোনার। ঘরের মাঠে প্রথম লেগে কোন গোল করতে না পারাই কাল হলো তাদের। মঙ্গলবার রাতে কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ২-১ ব্যবধানে হারলেও, দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ অগ্রগামিতায় শেষ হাসি হেসেছে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ। উল্টো এরিক গার্সিয়া লাল কার্ড দেখলে শেষের কয়েক মিনিট দশ জন নিয়ে খেলতে হয় বার্সাকে।
ঘরের মাঠে প্রথম লেগে ২-০ ব্যবধানে জিতে সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল ডিয়েগো সিমিওনের দল। তবে ফিরতি লেগে চিত্রটা পাল্টে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। ম্যাচের ২৪ মিনিটের মধ্যেই লামিন ইয়ামাল ও ফেরান তোরেসের গোলে ম্যাচে সমতা ফিরিয়েছিল বার্সা। কিন্তু আদেমোলা লুকম্যানের একটি গোল আবারও স্প্যানিশ ডার্বিতে নিয়ন্ত্রণ এনে দেয় সিমিওনের দলকে। ২০১৭ সালের পর এই প্রথম ইউরোপসেরার লড়াইয়ে সেমিফাইনালে ফিরল তারা।
ম্যাচটি ছিল চরম উত্তেজনায় ঠাসা। বার্সেলোনা শেষ পর্যন্ত ১০ জন নিয়ে ম্যাচ শেষ করে। আলেকজান্ডার সরলোথ যখন নিশ্চিত গোলের দিকে এগোচ্ছিলেন, তখন এরিক গার্সিয়া তাকে ফেলে দিয়ে লাল কার্ড দেখেন। ফলে অতিরিক্ত সময়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় তৃতীয় গোলের সুযোগটি আর তৈরি করতে পারেনি কাতালানরা। সেমিফাইনালে অ্যাতলেটিকোর প্রতিপক্ষ হবে আর্সেনাল অথবা স্পোর্টিং লিসবন।
বার্সা কোচ হানসি ফ্লিক এদিন মার্কাস র্যাশফোর্ড ও রবার্ট লেভানডভস্কিকে বেঞ্চে রেখে ফেরান তোরেস ও গাভিকে দিয়ে আক্রমণ সাজিয়েছিলেন। শুরু থেকেই ঝোড়ো গতিতে খেলা শুরু করা বার্সা মাত্র ৪ মিনিটেই লিড পায়। ক্লিমেন্ট লেংলেটের পা থেকে বল কেড়ে নিয়ে তোরেস পাসে বল বাড়ান ইয়ামালকে। দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে স্বাগতিক দর্শকদের স্তব্ধ করে দেন এই তরুণ। ২৪ মিনিটে দানি অলমোর পাসে দারুণ এক শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তোরেস।
তবে ৩১ মিনিটে রক্ষণভাগের এক মুহূর্তের অসতর্কতায় গোল হজম করে বার্সা। মার্কোস ইয়োরেন্তের ক্রস থেকে গোল করে অ্যাতলেটিকোকে স্বস্তি এনে দেন লুকম্যান। বিরতির পর তোরেস আরও একবার বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। শেষ দিকে ফ্লিক তার প্রধান দুই ভরসা র্যাশফোর্ড ও লেভানডভস্কিকে নামিয়েও গোলের দেখা পাননি।
উত্তেজনাপূর্ণ এই ম্যাচে খেলোয়াড়দের মধ্যেও সংঘাত দেখা দেয়। গাভির কনুইয়ের আঘাতে মাতেও রুগেরির মুখ ফেটে রক্ত ঝরতে দেখা যায়। সব বাধা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত ৮ মিনিটের ইনজুরি টাইমেও রক্ষণ আগলে রেখে জয় উদযাপন করে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ।