তিন বছরের চুক্তিতে আবার রিয়াল মাদ্রিদের কোচ মরিনহো

স্পোর্টস ডেস্ক

সবকিছু একরকম পাকা ছিল। এবার এলো চূড়ান্ত ঘোষণা। জোসে মরিনহোকে নতুন প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দিল রিয়াল মাদ্রিদ। ফলে এক যুগ পর সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ফিরলেন এই পর্তুগিজ।

বৃহস্পতিবার রাতে নিজেদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে মরিনহোকে কোচের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রিয়াল। রেকর্ড ১৫ বারের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে তার চুক্তি হয়েছে তিন বছরের জন্য। ফলে ২০২৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এই স্প্যানিশ ক্লাবটিতে থাকবেন তিনি।

৬৩ বছর বয়সী মরিনহো আগামী শনিবার পুরনো ক্লাবে যোগ দেবেন। প্রাক-মৌসুম অনুশীলন শুরুর মাধ্যমে রিয়ালে তার দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হবে। রিয়ালে আলভারো আরবেলোয়ার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন মরিনহো। দলটি টানা দ্বিতীয় মৌসুম কোনো বড় শিরোপা জয় ছাড়াই শেষ করেছে। অর্থাৎ ঘরোয়া ফুটবলে তারা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার চেয়ে পিছিয়ে পড়েছে।

এর আগে ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কোচ হিসেবে রিয়ালে ছিলেন মরিনহো। তার অধীনে একটি করে লা লিগা ও কোপা দেল রেসহ মোট তিনটি শিরোপা জিতেছিল লস ব্লাঙ্কোরা।

ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল কিন্তু বিতর্কিত কোচ হলেন মরিনহো। তিনি বেনফিকা থেকে রিয়ালে আসছেন। পর্তুগিজ এই ক্লাবটি নিজেদের লিগে কোনো ম্যাচ না হারলেও চমকপ্রদভাবে তৃতীয় হয়ে মৌসুম শেষ করেছে। বেনফিকা গতকাল বুধবার জানায়, মরিনহোকে পাওয়ার জন্য তাদেরকে ১ কোটি ৫০ লাখ ইউরো পরিশোধ করছে রিয়াল।

কঠোর হাতে দল পরিচালনার জন্য মরিনহো পরিচিত। বড় শিরোপা জয়ের লক্ষ্যের পাশাপাশি রিয়ালের ড্রেসিংরুমে তারকা খেলোয়াড়দের 'ইগো' নিয়ন্ত্রণে রাখার দায়িত্বও নিতে হবে তাকে। গত মৌসুমে একাধিক ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ও সমস্যায় জর্জরিত ছিল ক্লাবটি। এমনকি গত মে মাসে ফরাসি মিডফিল্ডার আহেলিয়া চুয়ামেনির সঙ্গে মারামারির পর উরুগুইয়ান মিডফিল্ডার ফেদে ভালভার্দেকে হাসপাতালে পর্যন্ত যেতে হয়েছিল।

তাছাড়া, একটি বড় কৌশলগত সমস্যারও সমাধান করতে হবে মরিনহোকে। সাবেক কোচ কার্লো আনচেলত্তি, জাবি আলোনসো ও আরবেলোয়া— কেউই দলের ভারসাম্য নষ্ট না করে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, কিলিয়ান এমবাপে ও জুড বেলিংহ্যামের মতো তারকাদের একসাথে সফলভাবে খেলানোর পথ খুঁজে পাননি।

গত মে মাসের শুরুর দিকে স্প্যানিশ টেলিভিশনে এক সাক্ষাৎকারে হাজির হয়েছিলেন রিয়ালের সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। তিনি এই ক্লাবের শেষ ছয়টি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কৃতিত্ব মরিনহোকে দেন। তিনি মাদ্রিদ থেকে বিদায় নেওয়ার পরবর্তী বছরগুলোতে এই শিরোপাগুলো জিতেছিল তারা।

পেরেজ বলেছিলেন, জুনের শুরুতে তিনি যদি পুনরায় সভাপতি পদে নির্বাচিত হন, তবে মরিনহোকে ফিরিয়ে আনবেন। আর নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর নিজের প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করেছেন তিনি।