ফিফার প্রস্তাব একটি সুযোগ, বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত নয়: ইনফান্তিনো
বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নতুন একটি বেসরকারি সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা প্রকাশের পর থেকেই বিশ্ব ফুটবলে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। ফিফার মালিকানাধীন বড় প্রতিযোগিতাগুলোর অংশীদারিত্ব বাইরের বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির সম্ভাবনা ঘিরে উঠেছে সমালোচনার ঝড়। তবে সব বিতর্কের মাঝেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তার দাবি, এটি কোনো বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের উন্নয়নের জন্য সদস্য দেশগুলোর সামনে রাখা একটি সম্ভাবনাময় সুযোগ।
বুধবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ইনফান্তিনো বলেন, ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ বা এফএফই আসলে একটি প্রস্তাব, একটি সুযোগ। এটি গণতান্ত্রিক পরামর্শ প্রক্রিয়ার অংশ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি কোনো বাধ্যবাধকতা নয়, বরং একটি সুযোগ।’
ফিফা সভাপতির ভাষায়, এই উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে ফুটবলের উন্নয়নকে আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এটি কার্যকর হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেবে ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের ফুটবল সংস্থা। অর্থাৎ সদস্যদের ভোট এবং ফিফা কাউন্সিলের অনুমোদন ছাড়া এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোনো সুযোগ নেই।
ইনফান্তিনো বলেন, ফুটবলের বিশাল বাণিজ্যিক সম্ভাবনার একটি বড় অংশ এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি। সেই অপ্রয়োগকৃত বাণিজ্যিক মূল্যকে কাজে লাগাতেই এই নতুন প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তার মতে, এমন কাজ পরিচালনার জন্য কেবল ফুটবল পরিচালনার অভিজ্ঞতা যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন আলাদা বাণিজ্যিক দক্ষতা ও বিশেষজ্ঞ জ্ঞান।
তিনি আরও জানান, নতুন প্রতিষ্ঠানটি ফিফার মালিকানাধীন সব প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এর মধ্যে থাকবে স্পন্সরশিপ, সম্প্রচারস্বত্ব, লাইসেন্সিং এবং নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগ। এসব থেকে অর্জিত অর্থ শেষ পর্যন্ত ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের ফুটবল উন্নয়নেই ব্যয় করা হবে।
বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে ইনফান্তিনো আশ্বস্ত করে বলেন, এই পরিকল্পনার ফলে ফুটবলের মৌলিক কাঠামো বা খেলার ধরনে কোনো পরিবর্তন আসবে না। বরং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সমর্থক এবং ফুটবল পরিবারই এর সবচেয়ে বড় সুফল পাবে।
তার ভাষায়, ‘ফুটবল বদলাবে না। বরং বিশ্বের প্রতিটি দেশের সমর্থক এই যুগান্তকারী সম্ভাবনার সুফল পাবে। কারণ এটি তাদের দেশের ফুটবলকে নতুনভাবে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।’
ফিফার এই প্রস্তাব এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে বিশ্বকাপের মতো মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক কাঠামোয় সম্ভাব্য পরিবর্তনের বিষয়টি ইতোমধ্যেই বিশ্ব ফুটবলে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সদস্য দেশগুলোর ভোটে শেষ পর্যন্ত জানা যাবে এই বিতর্কিত প্রস্তাবের ভাগ্যে কী সিদ্ধান্ত আসে।