বাবা সম্ভাবনা দেখলেও ব্রাজিল দলে আর ফিরছেন না নেইমার
ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে নেইমার জুনিয়রের অধ্যায় কি সত্যিই শেষ? তার বাবা আগামী ২০৩০ বিশ্বকাপে ছেলের খেলার সম্ভাবনা দেখলেও আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের ফেরার দরজা বন্ধই করে দিয়েছেন এই তারকা ফরোয়ার্ড।
গত সোমবার ষষ্ঠ ‘নেইমার জুনিয়র প্রজেক্ট ইনস্টিটিউট’-এর নিলাম অনুষ্ঠানে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নেইমারের বাবা নেইমার সিনিয়র দাবি করেন, চার বছর পর অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপেও খেলার সুযোগ রয়েছে তার ছেলের।
রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল দল থেকে নেইমারের অবসরের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সে বলেছিল, “আমার মনে হয়, আমার জন্য এটাই শেষ।” অর্থাৎ সে মনে করছে। আমরা মাত্রই একটি বিশ্বকাপ পার করলাম, যা সবার জন্যই কঠিন ছিল। এখন চার বছর পরের বিশ্বকাপ নিয়ে কথা বলছি... আমরা তো জানি না আগামীকাল কী হতে যাচ্ছে।’
তবে বাবার এই মন্তব্যের পরপরই রসিকতার সুরে স্পষ্ট জবাব দেন নেইমার। ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা বলেন, ‘কিন্তু মাঠে তো তিনি (বাবা) খেলবেন না, খেলতে হবে আমাকে।’
গত ২৯ জুলাই কোপা সুদামেরিকানার নকআউট প্লে-অফ ম্যাচ শেষে জাতীয় দল ছাড়ার পাকা ঘোষণা দেন ৩৪ বছর বয়সী এই ফুটবলার। কোনো রকম রাখঢাক না করেই বলেন, ‘জাতীয় দলের সঙ্গে আমার পথচলা শেষ। সেখানে আমি ইতিহাস গড়েছি, আর সেটি নিয়ে আমি খুবই গর্বিত।’
নিজের এমন সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় সেদিন তিনি আরও বলেন, ‘অনেক কিছুই পার করেছি। সব সময় নিজের সর্বোচ্চটা দিয়েছি এবং হলুদ জার্সির জন্য শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছি। কিন্তু আমার মনে হয়, এবার যথেষ্ট হয়েছে।’
সবশেষ ২০২৬ বিশ্বকাপে নরওয়ের কাছে শেষ ষোলোয় ২-১ গোলে হেরে পথচলা থামে সেলেসাওদের। টুর্নামেন্টে মাত্র দুটি ম্যাচ খেলতে পারেন চোটপ্রবণ নেইমার। নরওয়ের বিপক্ষে পরাস্ত হয়ে বিদায় নেওয়ার দিনে পেনাল্টি থেকে একটি গোল করেন তিনি।
সেই কঠিন অভিজ্ঞতার পর সব ধরনের ফুটবল থেকেই অবসরের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না এই তারকা। বর্তমানে স্বদেশি ক্লাব সান্তোসের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ রয়েছেন তিনি, যার মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হবে। আপাতত সান্তোসের হয়ে সেরাটা দেওয়া এবং চুক্তির সময়সীমা পূরণ করাই তার প্রধান লক্ষ্য।
নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নেইমার বলেন, ‘আমি এখনই থামার কথা ভাবছি না, আবার কত দিন খেলব তাও জানি না। ডিসেম্বরে সান্তোসের সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়া পর্যন্ত এই জার্সির সম্মানে সেরাটা দিয়ে খেলতে চাই। তারপর সিদ্ধান্ত নেব— সান্তোসে থাকব, অন্য কোথাও চলে যাব, খেলা ছেড়ে দেব নাকি চালিয়ে যাব।’