মায়ামিতে ‘এমএসএন’, নেইমারকে নিয়ে নতুন গুঞ্জন
একসঙ্গে ফিরতে পারে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর আক্রমণভাগের ত্রয়ী লিওনেল মেসি, লুইস সুয়ারেজ ও নেইমার। বার্সেলোনায় যে ত্রয়ী একসময় প্রতিপক্ষের রক্ষণে ত্রাস ছড়িয়েছিল, তাদের আবারও এক জার্সিতে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সান্তোসে নেইমারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় ব্রাজিলিয়ান তারকার সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে উঠে এসেছে ইন্টার মায়ামির নাম, যেখানে এরই মধ্যে খেলছেন মেসি ও সুয়ারেজ।
৩৪ বছর বয়সী নেইমারের সঙ্গে সান্তোসের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে আগামী ৩১ ডিসেম্বর। নতুন চুক্তি নিয়ে দুই পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারলে বছরের শেষেই ফ্রি এজেন্ট হয়ে যাবেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। তখন নতুন ক্লাব বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকবে তার সামনে। সেই সম্ভাবনাতেই আবার আলোচনায় এসেছে ইন্টার মায়ামি।
সান্তোসে নেইমারের বর্তমান অবস্থাও খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। সম্প্রতি পুনর্বাসন সেশনে অংশ না নিয়ে ক্লাবের অনুশীলনকেন্দ্র ছেড়ে যাওয়ায় তার সঙ্গে ক্লাবের কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। তবে পরে আবার অনুশীলনে ফিরেছেন তিনি এবং ওই ঘটনার জন্য কোনো শাস্তিও পাননি।
নেইমারকে মায়ামিতে নেওয়ার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অবশ্য ফুটবলীয় নয়, আবেগেরও। মেসি ও সুয়ারেজের সঙ্গে আবারও একত্রিত হওয়ার সুযোগ পাবেন তিনি। ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বার্সেলোনায় একসঙ্গে খেলেছিলেন এই তিন তারকা। সেই সময় ‘এমএসএন’ নামে পরিচিত এই ত্রয়ী আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা আক্রমণভাগ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছিল।
বার্সেলোনায় একসঙ্গে তিন মৌসুমে নয়টি শিরোপা জিতেছিলেন মেসি, নেইমার ও সুয়ারেজ। এর মধ্যে ছিল একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ, দুটি লা লিগা ও তিনটি কোপা দেল রে। তাদের সেরা সময় এসেছিল ২০১৪-১৫ মৌসুমে। সে মৌসুমে লুইস এনরিকের দলের হয়ে তিনজন মিলে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে করেছিলেন ১২২ গোল, যেখানে মেসি ৫৮টি, নেইমার ৩৯টি এবং সুয়ারেজ ২৫টি।
তবে এবার পরিস্থিতি হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইন্টার মায়ামি ইতিমধ্যে বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সার্জিও বুসকেতস ও জর্দি আলবার বিদায়ের পর দলের পুরোনো বার্সেলোনা-নির্ভর কাঠামোতে পরিবর্তন এসেছে। এমন সময়ে নেইমারের মতো তারকার আগমন মাঠের পাশাপাশি মাঠের বাইরেও ক্লাবটির জন্য বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে নেইমারকে ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তার শারীরিক সক্ষমতা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চোট এবং নিয়মিত খেলার অভাব তার ক্যারিয়ারে বড় প্রভাব ফেলেছে। ফলে ইন্টার মায়ামির মতো উচ্চাকাঙ্ক্ষী দলে যোগ দেওয়ার আগে ব্রাজিলিয়ান তারকার ফিটনেস ও নিয়মিত মাঠে থাকার সক্ষমতাই হবে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা।