ডার্বিকে শেষ মুহূর্তে টপকে হামজাকে ‘ছিনিয়ে’ নিল শেফিল্ড

স্পোর্টস ডেস্ক

একসময় মনে হচ্ছিল, লেস্টার সিটি অধ্যায় শেষ করে নতুন ঠিকানা হতে যাচ্ছে ডার্বি কাউন্টি। আলোচনাও হয়ে গিয়েছিল দুই ক্লাবের মধ্যে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বদলে গেল সব হিসাব। নাটকীয়ভাবে দৌড়ে ঢুকে ডার্বির হাত থেকে হামজা চৌধুরীকে ‘ছিনিয়ে’ নিল শেফিল্ড ইউনাইটেড, যে ক্লাবটির জার্সিতে গত মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধে আলো ছড়িয়েছিলেন বাংলাদেশের এই মিডফিল্ডার।

স্কাই স্পোর্টসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ডার্বি কাউন্টির হামজা চৌধুরীকে দলে নেওয়ার উদ্যোগ হাইজ্যাক করেছে শেফিল্ড। ডার্বি ও লেস্টারের মধ্যে আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে শেফিল্ডের প্রস্তাব পেয়ে আবারও পুরোনো ক্লাবে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ২৮ বছর বয়সী এই বাংলাদেশি।

হামজাকে নিয়ে ডার্বি কাউন্টির আগ্রহের খবর প্রথম আসে কয়েক দিন আগে। ২৫ আগস্ট থেকেই চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাবটি লেস্টারের এই বহুমুখী মিডফিল্ডারকে দলে নেওয়ার চেষ্টা করছিল। পরে ডার্বি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাবও দেয়। হামজার চুক্তির মেয়াদও শেষের দিকে থাকায় লেস্টার তাকে ছেড়ে দিতে আগ্রহী ছিল। আর লেস্টার কোচ রাসেল মার্টিনও তাকে দল থেকে বাইরে রাখার বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জানিয়েছিলেন, হামজাকে নিয়ে একাধিক ক্লাবের আগ্রহ রয়েছে। এরপরই ডার্বির সঙ্গে তার সম্ভাব্য চুক্তির আলোচনা আরও জোরালো হয়।

স্কাই স্পোর্টস জানিয়েছে, শেফিল্ডের দেরিতে দেওয়া প্রস্তাবের পর সিদ্ধান্ত বদলেছেন হামজা। বর্তমানে তার মেডিকেল চলছে। সেটি সফলভাবে শেষ হলে চুক্তির আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র সম্পন্ন হবে।

শেফিল্ডের সঙ্গে হামজার সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে লেস্টার থেকে ধারে ক্লাবটিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সে সময় ক্লাবটি চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে প্রিমিয়ার লিগে ফেরার লড়াইয়ে ছিল। সেই ধাপে হামজা ক্লাবটির হয়ে ১৯ ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন, এর মধ্যে ১৬টি ম্যাচে তিনি শুরু থেকেই খেলেছিলেন। দলকে প্রিমিয়ার লিগে ফেরানোর দৌড়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তার। তবে শেষ পর্যন্ত প্লে-অফ ফাইনালে সান্ডারল্যান্ডের কাছে হেরে প্রিমিয়ার লিগে ওঠা হয়নি শেফিল্ডের।

লেস্টারের একাডেমি থেকে উঠে এসেছেন হামজা। সাত বছর বয়সে একাডেমিতে যোগ দেওয়া এই মিডফিল্ডার পরে মূল দলে জায়গা করে নেন এবং ক্লাবটির হয়ে ১৬০টির বেশি ম্যাচ খেলেছেন। ২০২১ সালে লেস্টারের প্রথম এফএ কাপ জয়ের দলেও ছিলেন তিনি। তবে বর্তমানে লেস্টার ইংলিশ ফুটবলের তৃতীয় স্তর লিগ ওয়ানে খেলছে। হামজারও চুক্তির শেষ বছর চলছে। ফলে ক্লাবটি তার বেতনভারের চাপ কমাতে তাকে ছেড়ে দিতে আগ্রহী ছিল বলে একাধিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

শেফিল্ডের জন্য হামজাকে ফেরানোর সিদ্ধান্তের আরেকটি বড় কারণ তার বহুমুখী খেলার ক্ষমতা। মূলত ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হলেও প্রয়োজন হলে রাইট-ব্যাক হিসেবেও খেলতে পারেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে শেফিল্ডের রাইট-ব্যাক ফেমি সেরিকি চোটে পড়ায় ওই পজিশনে বাড়তি খেলোয়াড়ের প্রয়োজন তৈরি হয়েছে।