ম্যান সিটির ফোন পেয়ে এক সেকেন্ডের জন্যও দ্বিধা করেননি এনজো

স্পোর্টস ডেস্ক

ম্যানচেস্টার সিটিতে পা রেখেই ক্লাবটির বিশালতা টের পেয়েছেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। রেকর্ড-ছোঁয়া ট্রান্সফার ফিতে চেলসি ছেড়ে আসা ২৫ বছর বয়সী এই তারকা জানিয়েছেন, ইতিহাদ স্টেডিয়াম থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর রাজি হতে তিনি এক সেকেন্ডের জন্যও দ্বিধা করেননি।

মিডফিল্ড শক্তিশালী করতে গত মঙ্গলবার রাতে গ্রীষ্মকালীন দলবদলের উইন্ডোর শেষদিনে এনজোকে দলে টেনেছে সিটি। সেজন্য তাদেরকে গুণতে হয়েছে ১২ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২০৭৪ কোটি টাকার বেশি। এটি ব্রিটিশ ক্লাব ফুটবলের ইতিহাসে যৌথভাবে সর্বোচ্চ অঙ্কের ট্রান্সফার ফির রেকর্ড।

আটবারের প্রিমিয়ার লিগজয়ী সিটির লক্ষ্য থাকে মৌসুমের প্রতিটি শিরোপার জন্য লড়াই করা। ট্রফি জয়ের এই ক্ষুধা বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন এনজো। সিটিজেনদের খেলোয়াড় হিসেবে নিজের প্রথম সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘এখানে আসতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত। সিটির মতো এত বড় ক্লাবে খেলার স্বপ্ন সব সময়ই দেখেছি। এমন একটি সুযোগ পেয়ে আমি কৃতজ্ঞ। ২৫ বছর বয়সে এসে ক্যারিয়ারে এমন এক পদক্ষেপ নেওয়া আমার ও আমার পরিবারের জন্য অত্যন্ত আবেগঘন একটি মুহূর্ত।’

পুরনো কোচ এনজো মারেস্কার অধীনে নতুন ক্লাবে যোগ দিয়ে সেখানকার পরিবেশ ও ক্লাব কাঠামোর ব্যাপক প্রশংসা করেছেন বিশ্বকাপজয়ী এনজো, ‘এখানে কাটানো প্রথম কয়েকটা ঘণ্টা খুব উপভোগ করছি। ক্লাবটি যে কতটা বিশাল, তা এখনই টের পাচ্ছি। আমরা সবাই মিলে ফুটবল উপভোগ করব এবং একসঙ্গে অনেক শিরোপা জিতব।’

চেলসিতে মারেস্কার অধীনে খেলার অভিজ্ঞতা আছে এনজোর। পেপ গার্দিওলার বিদায়ের পর মারেস্কা এখন আছেন ম্যান সিটির প্রধান কোচের দায়িত্বে। এবারের দলবদলের বাজারে দলটি বেশ কয়েকজন তারকা মিডফিল্ডার হারিয়েছে। তাই মারেস্কা তার পুরনো শিষ্যকে আবার দলে পেতে মুখিয়ে ছিলেন।

গত ১০ মৌসুমে ২০টি ট্রফি জেতা সিটির সাম্প্রতিক সাফল্য ও ইতিহাস এনজোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথকে সহজ করে দিয়েছে। ক্লাবটির আহ্বানে না করার কোনো সুযোগ ছিল না বলে জানিয়েছেন তিনি, ‘ম্যানচেস্টার সিটিকে সব প্রতিযোগিতার শিরোপাই জিততে হয়। আমরা যেসব প্রতিযোগিতায় খেলব, সবকটিতেই লড়াই করতে হবে এবং জিততে হবে। কারণ এই ক্লাবের ইতিহাস সেটাই দাবি করে। সত্যি বলতে, প্রথম দিন থেকেই তারা আমার ওপর বিশ্বাস রেখেছে। তারা যখনই ফোন করে দলে নিতে চাওয়ার কথা বলেছিল, আমি এক সেকেন্ডের জন্যও দ্বিধা করিনি।’

সিটিতে ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জ নিয়েও কথা বলেছেন এনজো, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্লাবটি অনেক সাফল্য পেয়েছে। তারা ফুটবলে নতুন ইতিহাস গড়ছে, যা আমার জন্য বড় এক চ্যালেঞ্জ। তারা যখন যোগাযোগ করেছিল, তখন থেকেই আমার লক্ষ্য ছিল— এখানে এসে ক্লাবকে সাহায্য করা এবং আমরা একসঙ্গে বহু ট্রফি জিতব— এই বিশ্বাস রাখা।’

রদ্রি, বার্নার্দো সিলভা, নিকো গঞ্জালেজ ও টিজানি রেইন্ডার্স দল ছাড়ায় নতুন করে মাঝমাঠ সাজাতে হয়েছে মারেস্কাকে। আর সেখানে তার অন্যতম বড় বাজি হলেন এনজো। এর আগে ৮ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ডে মরোক্কান মিডফিল্ডার আইয়ুব বুয়াদ্দি এবং ১১ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ডে ইংলিশ মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে চুক্তিবদ্ধ করেছে ম্যান সিটি।