এমএলএসে ২১ বছরের পুরনো রেকর্ড ভাঙলেন কাভান সুলিভান
মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) টানা তিন ম্যাচে গোল করলেন ভীষণ ছন্দে থাকা কাভান সুলিভান। পারিবারিক সূত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে সংযোগ থাকা এই আমেরিকান বিস্ময়বালক গড়লেন নতুন কীর্তি। ফ্রেডি আডুর ২১ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙে নিজের করে নিলেন তিনি।
শনিবার সকালে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন ২-০ গোলে হারিয়েছে সিএফ মন্ট্রিয়লকে। দলের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন ১৬ বছর বয়সী মিডফিল্ডার কাভান। ৭৫তম মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর থেকে বাঁ পায়ের কোণাকুণি শটে তিনি কাঁপান জাল। নিউইয়র্ক রেড বুলস ও অস্টিন এফসির বিপক্ষে গত দুই ম্যাচেও গোল পেয়েছিলেন তিনি।
এমএলএসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের তথ্য অনুসারে, চলতি মৌসুমে এই নিয়ে ১১টি গোলে অবদান রাখলেন কাভান। চারটি গোলের সঙ্গে সাতটি অ্যাসিস্ট রয়েছে তার নামের পাশে। ১৬ বা এর কম বয়সে এক মৌসুমে সবচেয়ে বেশি গোলের অবদান রাখার রেকর্ড এখন কাভানের। তিনি ছাড়িয়ে গেছেন আডুকে। সাবেক এই আমেরিকান ফরোয়ার্ড এমএলএসের ২০০৫ সালের আসরে ১০টি গোলে অবদান রেখেছিলেন।
এখানেই শেষ নয়। এমএলএসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে আরও বলা হয়েছে, এই প্রতিযোগিতায় টানা পাঁচ ম্যাচে গোলে অবদান রাখা সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হলেন কাভান। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে চলতি মৌসুমে ২৭ ম্যাচ খেলেছেন তিনি। সাতটি গোলের সঙ্গে করেছেন ১১টি অ্যাসিস্ট।
আডুর গড়া রেকর্ড এর আগেও ভেঙেছেন কাভান। দুই বছর আগে আডুকে ছাড়িয়ে এমএলএসের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে অভিষেক হয়েছিল কাভানের। তখন তার বয়স ছিল স্রেফ ১৪ বছর ২৯৩ দিন।
এমএলএসে এই নিয়ে টানা আট ম্যাচ অপরাজিত রইল ফিলাডেলফিয়া। এর মধ্যে তারা জিতেছে ছয়টি, ড্র করেছে দুটি। ২৩ ম্যাচে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে তাদের অবস্থান ইস্টার্ন কনফারেন্সের পয়েন্ট তালিকার নয় নম্বরে। ঘুরে দাঁড়ানোর আগে প্রথম ১৫ ম্যাচের মাত্র একটিতে জিততে পেরেছিল তারা।
ম্যাচ শেষে কাভান বলেন, ‘বছরের শুরুর দিকের সেই বাজে সময়টা আমরা পেছনে ফেলে এসেছি, যখন মনে হচ্ছিল আমরা হয়তো কোনো পয়েন্টই পাব না। আর এখন টানা আট ম্যাচ আমরা অপরাজিত। হয়তো খুব একটা দৃষ্টিনন্দন ম্যাচ ছিল না। তবে খারাপ খেলেও জয় তুলে নেওয়াটা বিশাল ব্যাপার।’
মাঠে স্বপ্নের মতো সময় কাটতে থাকায় কাভানের জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও জোরাল আলোচনা চলছে। সামনের ফিফা উইন্ডোতে চারটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলবে যুক্তরাষ্ট্র। মরিসিও পচেত্তিনোর শিষ্যদের প্রতিপক্ষ যথাক্রমে পেরু, চিলি, মেক্সিকো ও কানাডা। এই ম্যাচগুলো দিয়ে আগামী বিশ্বকাপের জন্য আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু করবে দলটি।