শেষ মুহূর্তের গোলে ক্লপ-জাভির লড়াই অমীমাংসিত
দুই দলের ডাগআউটে নতুন মুখ, দুজনেরই অভিষেক। একজন জার্মানির দায়িত্বে ইয়ুর্গেন ক্লপ, অন্যজন নেদারল্যান্ডসের কোচ হিসেবে জাভি হার্নান্দেজ। তাই ম্যাচটিকে ঘিরে উত্তেজনাটাও ছিল আলাদা। শেষ পর্যন্ত অবশ্য নতুন দুই কোচের প্রথম মুখোমুখি লড়াইয়ে জয়ের হাসি কেউ হাসতে পারেননি। শেষ মুহূর্তের গোলে জার্মানিকে ১-১ সমতায় আটকে দিয়েছে নেদারল্যান্ডস।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছিল স্বাগতিকরা। জাভির অধীনে প্রথম ম্যাচেই নেদারল্যান্ডস জার্মানিকে চাপে ফেলে দেয়। ১৫ মিনিটে কর্নার থেকে ভার্জিল ফন ডাইকের হেডে বল জার্মানির জালে জড়ালেও দীর্ঘ সময়ের ভিডিও সহকারী রেফারির পর্যালোচনার পর গোলটি বাতিল হয়।
নেদারল্যান্ডসের একের পর এক আক্রমণে তখন বেশ অস্বস্তিতেই ছিল জার্মানি। গোলরক্ষক মার্ক-আন্দ্রে টের স্টেগেনও বল পায়ে নিয়ে ভুল করে স্বাগতিকদের সুযোগ তৈরি করে দেন। তবে ম্যাচের গতির বিপরীতে ৩২ মিনিটে এগিয়ে যায় জার্মানি।
মাঝমাঠে চোট পেয়ে পড়ে ছিলেন নেদারল্যান্ডসের ব্রায়ান ব্রোবি। কিন্তু খেলা চালিয়ে যায় জার্মানি। কারিম আদেয়েমির পাস ধরে ফেলিক্স নেমেখা জালে বল পাঠিয়ে এগিয়ে দেন অতিথিদের। বিরতির ঠিক আগে ব্যবধান দ্বিগুণ করার দারুণ সুযোগও পেয়েছিলেন আদেয়েমি। গোলরক্ষককে কাটিয়ে ফাঁকা জাল পেয়েও বল উঁচু দিয়ে মেরে বসেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বেশির ভাগ সময় ছিল নেদারল্যান্ডসের হাতে। জাভির দল একের পর এক আক্রমণে জার্মান রক্ষণকে ব্যস্ত রাখে। ৬৬ মিনিটে গোলের খুব কাছে গিয়েও সুযোগ নষ্ট করেন মেক্স মেরডিঙ্ক। অন্যদিকে জার্মানি কোনোমতে নিজেদের এক গোলের লিড ধরে রাখছিল।
মনে হচ্ছিল, ক্লপের অভিষেকটা হয়তো কঠিন এক জয় দিয়েই শুরু হতে যাচ্ছে। কিন্তু যোগ করা সময়ের শেষ দিকে বদলে যায় সব হিসাব। বাঁ দিক দিয়ে দুর্দান্তভাবে উঠে রুবেন ফন বোমেল নিখুঁত একটি ক্রস পাঠান বক্সে। সেই বলেই দারুণ ভলিতে জার্মানির জালে পাঠান কোডি গাকপো। শেষ মুহূর্তের সেই গোলে ১-১ সমতায় ফেরে নেদারল্যান্ডস।
ম্যাচ শেষে ক্লপ স্বীকার করেছেন, জার্মানি আরও ভালো ফুটবল খেলতে পারে। ‘আরটিএল’-কে তিনি বলেন, ‘অনেক কিছুই ভালো হয়েছে। আমরা দারুণভাবে শুরু করেছিলাম, এরপর ১০ মিনিট সত্যিই সমস্যায় পড়েছিলাম। খেলোয়াড়দের মধ্যে খেলার ধরনগুলো এখনো পুরোপুরি গেঁথে না গেলে লড়াই করতেই হয়। অনেক খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে আমি খুব খুশি, আবেগ-উদ্দীপনাতেও। তবে আমরা আরও ভালো ফুটবল খেলতে পারি নিশ্চয়ই।’
জার্মানির জন্য স্বস্তির এই এক পয়েন্টের সঙ্গে অবশ্য দুশ্চিন্তাও যোগ হয়েছে। ম্যাচ শুরুর আগে উরুর চোটের কারণে একাদশ থেকে ছিটকে যান জামাল মুসিয়ালা। প্রথমার্ধেই মাঠ ছাড়তে হয় কাই হাভার্টজকেও। আন্তর্জাতিক বিরতিতে জার্মানির সামনে আরও তিনটি ম্যাচ থাকায় তাদের চোট নতুন কোচ ক্লপের জন্য বাড়তি মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠতে পারে।
ক্লপের নতুন জার্মানির শুরুটা ছিল বেশ চেনা, উচ্চ শক্তির ফুটবল, আগ্রাসী চাপ আর দ্রুত আক্রমণ। তবে শেষদিকে সেই চাপ ধরে রাখতে পারেনি দলটি। জার্মানির অভিষিক্ত ডিফেন্ডার ফিলিপ ট্রয়ও সেটিই মেনে নিয়েছেন। তার ভাষায়, ‘আমরা তাদের বিরক্ত করতে, চাপে রাখতে এবং উচ্চ-শক্তির ফুটবল খেলতে চেয়েছিলাম। সেটা বেশ ভালোভাবেই কাজ করেছে। তবে শেষদিকে আমরা একটু বেশি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিলাম। কিন্তু সত্যি বলতে, ডাচরা দারুণভাবে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে খেলেছে।’