৪৩ ম্যাচ অপরাজিত থেকেও সন্তুষ্ট নন স্পেন কোচ

স্পোর্টস ডেস্ক

উয়েফা নেশনস লিগে পিছিয়ে পড়েও ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে অপরাজিত থাকার সিরিজকে ৪৩ ম্যাচে টেনে নিয়ে গেছে স্পেন। স্প্যানিশদের এই জয়ের ধারা অব্যাহত থাকার পরও দলের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে জানিয়েছেন, বিশ্বজয়ী এই দলের উন্নতির ক্ষুধা এখনও মেটেনি। 

আন্তর্জাতিক বিরতিতে চার ম্যাচের সব কটিতে জিতে 'এ৩' গ্রুপের শীর্ষস্থান সুসংহত করেছে স্পেন। চার খেলায় পুরো নম্বর পেয়ে পয়েন্ট তালিকার দুইয়ে থাকা ইংল্যান্ডের চেয়ে তিন পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছে তারা। ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার পর দ্বিতীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের পরপর টানা চার ম্যাচে জয়ের কীর্তি গড়ল 'লা রোহা'রা। ২০২৪ সালের মার্চে কলম্বিয়ার সঙ্গে এক প্রীতি ম্যাচে পরাস্ত হওয়ার পর আর হারের মুখ দেখেনি তারা।

ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে কোচ দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘খেলোয়াড়দের ক্ষুধা ও জয়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষা অপরিসীম। তারা কখনো তৃপ্ত হয়ে বসে থাকে না, সব সময় আরও বেশি কিছু চায়। শুধু আজকের ম্যাচে নয়, পুরো পথচলাতেই তারা দেখিয়েছে যে জয়ের জন্যই মাঠে নামে। নিজের সেরাটা উজাড় করে দিতে চাওয়া একঝাঁক ফুটবলারকে সঙ্গে পাওয়া সত্যিই দারুণ এক অনুভূতি।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েই আমরা সন্তুষ্ট নই। প্রতিদিন আরও উন্নতি করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’

সপ্তাহান্তে ইংল্যান্ডের কাছে ৭-০ গোলে হেরে বিধ্বস্ত হওয়া ক্রোয়েশিয়া হোম গ্রাউন্ডে শুরু থেকেই ছিল দারুণ আক্রমণাত্মক। ফলে ম্যাচের প্রথম অর্ধে স্পেনের জয়রথ থেমে যাওয়ার আশঙ্কাই দেখা দিয়েছিল। স্পিলটে খেলার ১৭তম মিনিটে ইভান পেরিসিচের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। পরবর্তীতে অবশ্য দুই হলুদ কার্ডের জটিলতায় মাঠ ছাড়তে হয় এই ক্রোট তারকাকে। তবে দ্বিতীয় অর্ধে বদলি হিসেবে নামা মিকেল মেরিনোর দুর্দান্ত নৈপুণ্যে খেলার নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায় স্পেন।

প্রথমার্ধের চাপ নিয়ে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘প্রথম অর্ধে আমাদের কিছুটা ভুগতে হয়েছে। ক্রোয়েশিয়া বেশ চাপ সৃষ্টি করেছিল, ম্যাচটি কঠিন ছিল। তবে দ্বিতীয় অর্ধে আমরা ধৈর্য ধরেছি, তাদের পরিশ্রান্ত করেছি এবং গোলের সুযোগ তৈরি করেছি।’

‘এরপরই এই অসাধারণ পরিবেশে শক্তিশালী এক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আবারও জ্বলে উঠলেন মিকেল। আমরা আরও একবার এমন এক দলকে দেখলাম যারা কখনো হার মানে না এবং শেষ পর্যন্ত জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে।’

খেলার ৬১তম মিনিটে সমতা ফেরানোর পর ৮৯তম মিনিটে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করে জয় নিশ্চিত করেন আর্সেনাল মিডফিল্ডার মেরিনো। স্পেনের হয়ে নিজের দুর্দান্ত ফর্ম ধরে রেখেছেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে তার শেষ পাঁচটি গোলের চারটিই এসেছে ৮৮ মিনিট বা তার পর। গ্রীষ্মের বিশ্বকাপে পর্তুগাল ও বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তের জয়সূচক গোল দুটিও ছিল তার।

দে লা ফুয়েন্তে মেরিনোর প্রশংসা করে বলেন, ‘প্রতিটি পজিশনে আমাদের কাছে বিশ্বের সেরা ফুটবলাররা রয়েছে এবং মিকেল সেই মানেরই একজন। বিশ্বের যেকোনো ক্লাব বা যেকোনো জাতীয় দলে খেলার যোগ্যতা তার আছে।’