জেসুসের জোড়া গোলে ইন্টারকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে আর্সেনাল

স্পোর্টস ডেস্ক

ইন্টার মিলানকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে আর্সেনাল। মঙ্গলবার রাতে গ্যাব্রিয়েল জেসুসের জোড়া গোলে ইন্টারের মাঠে জয় তুলে নেওয়ার ফলে লিগ পর্বের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ আটে থাকা গাণিতিকভাবে নিশ্চিত হয়ে গেল গানারদের।

সান সিরোতে প্রথমার্ধে জেসুসের দুই গোলের সুবাদে টানা সপ্তম জয় তুলে নেয় মিকেল আরতেতার দল। আগামী রবিবার এমিরেটস স্টেডিয়ামে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগে এই জয় আর্সেনাল শিবিরের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

সামারে দলে আসা ভিক্টর ডিয়োকেরেসের পরিবর্তে এদিন মূল একাদশে সুযোগ পান জেসুস। পুরো ম্যাচে ইন্টারের রক্ষণভাগের জন্য ত্রাস হয়ে ছিলেন সাবেক এই ম্যানচেস্টার সিটি স্ট্রাইকার। প্রায় এক বছর ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে থাকার পর জেসুস যেন আবার 'তার' পুরনো ছন্দ ফিরে পেয়েছেন। ম্যাচের ৮৪ মিনিটে ডিয়োকেরেস দলের হয়ে তৃতীয় গোলটি করে জয় নিশ্চিত করেন।

এই জয়ের পর আর্সেনালের পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ২১। গত মৌসুমের হিসেবে ১৬ পয়েন্টেই শীর্ষ আট নিশ্চিত হয়ে গেলেও এবার গানাররা অনেক আগেই নিজেদের জায়গা পাকা করে নিল। এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা আর্সেনাল দ্বিতীয় স্থানে থাকা বায়ার্ন মিউনিখের চেয়ে ৬ পয়েন্টে এগিয়ে গেল।

অন্যদিকে, ম্যাচের ১৮ মিনিটে পেটার সুচিচের দারুণ এক গোলে ইন্টার সমতায় ফিরলেও শেষ পর্যন্ত হার এড়াতে পারেনি। চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে এই প্রথম টানা তিন ম্যাচ হারল ইতালিয়ান জায়ান্টরা। বর্তমানে তারা টেবিলের অষ্টম স্থানে থাকলেও বুধবারের অন্যান্য ম্যাচের ফলাফলে তারা শীর্ষ আট থেকে ছিটকে যেতে পারে।

ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলে আর্সেনাল। ১০ মিনিটের মাথায় জুরিয়েন টিম্বারের শট থেকে বল পেয়ে আর্সেনালকে এগিয়ে নেন জেসুস। এটি ছিল ২০২৩ সালের নভেম্বরের পর চ্যাম্পিয়নস লিগে 'তার' প্রথম গোল। তবে ইন্টার দ্রুতই ঘুরে দাঁড়ায় এবং সুচিচের জোরালো শটে সমতা ফেরায়।

২৭ মিনিটে লাউতারো মার্তিনেসের পাস থেকে গোল করার সহজ সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেননি সুচিচ। চার মিনিট পরেই সেই ভুলের মাশুল দিতে হয় ইন্টারকে। বুকায়ো সাকার কর্নার থেকে লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে আনমার্কড থাকা জেসুস খুব কাছ থেকে আর্সেনালকে পুনরায় লিড এনে দেন।

ম্যাচের শেষ দিকে ফেদেরিকো দিমার্কো এবং বদলি খেলোয়াড় পিয়ো এসপোসিতো সুযোগ তৈরি করলেও ব্যবধান কমাতে ব্যর্থ হন। উল্টো প্রতি-আক্রমণ থেকে ডিয়োকেরেস গোল করলে ইন্টারের হার নিশ্চিত হয়ে যায়।