কিংবদন্তি ফুটবলার রণজিৎ দাস আর নেই

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক রণজিৎ দাস আর নেই। আজ ভোরে সিলেটের একটি হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।

দেশ স্বাধীন হওয়ার আগের ফুটবলে তিনি ছিলেন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ১৯৫৫ থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত তিনি নিয়মিত পূর্ব পাকিস্তান দলের গোলপোস্ট সামলেছেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, চার মেয়ে এবং অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী রেখে গেছেন।

রণজিৎ দাসের ছেলে রাজিব দাস সিলেট থেকে 'দ্য ডেইলি স্টার'-কে জানান, 'বাবা আজ ভোররাত ৪টার দিকে ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক করেন এবং সকালেই আমাদের ছেড়ে চলে যান। গত ৩১ জানুয়ারি অসুস্থ বোধ করায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং পরে আইসিইউ-তে নেওয়া হয়। গতকাল তার অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে মনে হলেও শেষ রাতে তিনি আবার হৃদরোগে আক্রান্ত হন। আজ সন্ধ্যায় সিলেটের চালিবন্দর শ্মশানে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হবে।'

মাঠের দক্ষতায় অনন্য রণজিৎ দাস স্বাধীনতার আগে খেলেছেন ইস্পাহানি ক্লাব, আজাদ স্পোর্টিং এবং মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে। ফুটবল ছাড়ার পর তিনি কোচ হিসেবেও সুনাম কুড়িয়েছেন। পূর্ব পাকিস্তান যুব দল ও আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবের কোচ হিসেবে নতুন অনেক ফুটবলার তার হাত ধরেই উঠে এসেছেন এবং তাদের গড়ার পেছনে তার বড় ভূমিকা ছিল।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের সেরা গোলরক্ষক হিসেবে সান্টু, মহসিন কিংবা আমিনুলদের নাম ঘুরেফিরে এলেও, স্বাধীনতার আগের যুগে রণজিৎ দাস ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তিনি ছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ। 

ফুটবলে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ রণজিৎ জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারে ভূষিত হন। বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।