ক্যারিক যুগের স্বপ্নের শুরু, ডার্বিতে সিটিকে হারাল ইউনাইটেড
ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে যেন নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হলো। হতাশা, অনিশ্চয়তা আর চাপের ভার সরিয়ে রেখে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ মাইকেল ক্যারিকের অধীনে রূপ বদলে গেল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের। ম্যানচেস্টার ডার্বিতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার সিটিকে ২–০ গোলে হারিয়ে শুধু দারুণ এক জয়ই নয়, শিরোপা দৌড়েও বড় ধাক্কা দিয়ে দিল রেড ডেভিলসরা।
শনিবার প্রাণবন্ত ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ইউনাইটেড। স্কোরলাইন আরও বড় হতে পারত। সিটির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার অনবদ্য পারফরম্যান্স এবং অফসাইডে বাতিল হওয়া তিনটি গোলই স্বাগতিকদের বড় জয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
৬৫তম মিনিটে আফ্রিকা কাপ অব নেশনস শেষে দলে ফেরা ব্রায়ান এমবেউমো নিখুঁত ফিনিশে ম্যাচের প্রথম গোলটি করেন। এরপর প্যাট্রিক ডর্গু ব্যবধান দ্বিগুণ করে নিশ্চিত করেন ইউনাইটেডের জয়। গত আট ম্যাচে যা ছিল তাদের মাত্র দ্বিতীয় সাফল্য।
এই জয়ে ক্যারিকের দল উঠে আসে লিগ টেবিলের শীর্ষ চারে। তবে ইউনাইটেডের এই সাফল্য উদযাপিত হবে উত্তর লন্ডনেও। কারণ এতে করে শিরোপা দৌড়ে আর্সেনালের পথ আরও সহজ হয়ে গেছে। নটিংহ্যাম ফরেস্টের বিপক্ষে জিতলে শনিবারই শীর্ষে নয় পয়েন্টের লিড নিতে পারে মিকেল আর্তেতার দল, ২২ বছর পর লিগ শিরোপার স্বপ্নকে আরও কাছে টেনে।
ক্যারিকের সাহসী একাদশ নির্বাচনও ম্যাচের বড় আলোচনার বিষয়। ফর্মে থাকা বেঞ্জামিন সেস্কো ও মাতেউস কুনিয়াকে বেঞ্চে রেখে আফকন থেকে ফেরা এমবেউমো ও আমাদ দিয়ালোকে নামান তিনি। প্রায় দুই মাস পর শুরুর একাদশে ফিরেই গোলের কাছাকাছি চলে যান হ্যারি ম্যাগুইয়ার। ব্রুনো ফার্নান্দেসের কর্নার থেকে নেওয়া তার হেডার প্রথম দুই মিনিটেই ক্রসবারে লাগে।
রক্ষণভাগে চোটে জর্জরিত সিটির হয়ে গার্দিওলাকে ভরসা করতে হয় অনভিজ্ঞ ম্যাক্স অ্যালেইন ও আব্দুকোদির খুসানোভকে। পুরো ম্যাচজুড়েই ইউনাইটেডের আক্রমণের সামনে নড়বড়ে ছিল এই জুটি। কেবল দোন্নারুম্মার একের পর এক সেভই সিটিকে বড় ব্যবধানে হার থেকে বাঁচিয়ে রাখে।
বিরতির আগেই দুইবার দোন্নারুম্মাকে পরাস্ত করেছিল ইউনাইটেড, কিন্তু আমাদ দিয়ালো ও ব্রুনো ফার্নান্দেস অফসাইডে পড়ে যাওয়ায় গোল দুটি বাতিল হয়। দ্বিতীয়ার্ধে নিকো ও'রাইলি ও রায়া শেরকিকে নামিয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেন গার্দিওলা। কিন্তু কাজ হয়নি। নতুন বছরের পর থেকে টানা চার ম্যাচ জয়হীন থাকায় সিটির শিরোপা স্বপ্ন দ্রুতই ফিকে হয়ে যাচ্ছে।
৬৫ মিনিটের পরও ইউনাইটেডের আক্রমণের ধার থামেনি। আমাদ দিয়ালো ও কাসেমিরোর শট থেকে পরপর দুটি দুর্দান্ত সেভ করে দলকে বাঁচান দোন্নারুম্মা। তবে শেষ পর্যন্ত সিটির ভুলেই আসে প্রথম গোল। চেরকির দুর্বল ফ্রি-কিক থেকে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ওঠে ইউনাইটেড। ব্রুনোর নিখুঁত থ্রু-পাসে এমবেউমো নিচু ও জোরালো শটে বল পাঠান জালে।
এরপর বদলি হিসেবে নামা কুনিয়ার অবদান থেকে আসে দ্বিতীয় গোল। রিকো লুইসের অসতর্কতায় ব্যাক পোস্টে ঢুকে পড়ে সহজেই গোল করেন ডর্গু। ম্যাচের শেষ দিকে গার্দিওলা আর্লিং হলান্ডকে তুলে নেন, চার প্রতিযোগিতায় লড়াই চালিয়ে যাওয়া সিটির জন্য যেন সাদা পতাকা ওড়ানোরই বার্তা।
শেষ মিনিটে আমাদ দিয়ালো পোস্টে বল লাগিয়ে আরেকটি গোলের খুব কাছে চলে গিয়েছিলেন। বদলি হিসেবে নামা মেসন মাউন্টও জাল কাঁপিয়েছিলেন, কিন্তু ভিএআর আবারও অফসাইডের কারণে তা বাতিল করে দেয়। ততক্ষণে অবশ্য ডার্বির ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে গেছে।