রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পক্ষে ফিফা সভাপতি

স্পোর্টস ডেস্ক

ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর পর থেকে বৈশ্বিক ক্রীড়া সংস্থাগুলো রাশিয়াকে নিষিদ্ধ করে রেখেছিলো। নিষেধাজ্ঞার কারণে কয়েক বছর ধরেই নির্বাসনে রাশিয়ার ফুটবল। ২০১৮ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ অংশ নিতে পারেনি ২০২২ বিশ্বকাপে, ২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইতেও একই কারণে সুযোগ পায়নি তারা। এই নিষেধাজ্ঞার ন্যায্যতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন শুরু থেকেই ছিলো। এবার ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও মনে করছেন রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া উচিত।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ফিফা ও উয়েফার সকল প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ রয়েছে রাশিয়ার ক্লাব ও জাতীয় দল।

স্কাই স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইনফান্তিনো বলেন, 'এই নিষেধাজ্ঞা কোনো সুফল বয়ে আনেনি, বরং এটি আরও বেশি হতাশা ও ঘৃণা তৈরি করেছে। রাশিয়ার ছেলে-মেয়েরা যদি ইউরোপের অন্যান্য অংশে ফুটবল খেলার সুযোগ পায়, তবে সেটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।'

৫৫ বছর বয়সী এই ফিফা প্রধান মনে করেন, রাজনৈতিক নেতাদের কর্মকাণ্ডের জন্য কোনো দেশের ওপর ফুটবলীয় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, 'ফুটবলের মাধ্যমে সম্পর্কের পথগুলো খোলা রাখা প্রয়োজন।'

তবে ইনফান্তিনোর এমন মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন ইউক্রেনের ক্রীড়া মন্ত্রী মাটভি বিডনি। বিষয়টিকে 'অকাণ্ডজ্ঞানহীন' ও 'শিশুসুলভ' আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, 'তারা ফুটবলকে বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলছেন, যেখানে প্রতিনিয়ত শিশুরা প্রাণ হারাচ্ছে।'

অন্যদিকে, উয়েফা সভাপতি আলেকসান্দর সেফেরিন তার আগের অবস্থানেই অনড় রয়েছেন। গত বছরের এপ্রিলে উয়েফা কংগ্রেসের সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, রাশিয়াকে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করতে হলে আগে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান হতে হবে।

রাশিয়াকে যে কারণে নিষিদ্ধ করে রাখা হয়েছে একই কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরাইলকেও নিষিদ্ধ করা যায়, ফিফা এই ব্যাপারে দ্বৈত্য নীতি অনুসরণ করছে বলে  সমালোচকরা বলে আসছিলেন।