শর্তসাপেক্ষে কলির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

স্পোর্টস ডেস্ক

বিতর্ক, নিষেধাজ্ঞা আর পাল্টাপাল্টি অভিযোগের দীর্ঘ টানাপোড়েন শেষে অবশেষে স্বস্তির আভাস মিলল বাংলাদেশের শুটিং অঙ্গনে। তবে সেই স্বস্তির পথ একেবারেই শর্তহীন নয়, কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই আবারও ফিরতে হচ্ছে দেশের শীর্ষ নারী শুটার কামরুন্নাহার কলিকে।

বুধবার জরুরি নির্বাহী কমিটির বৈঠকে বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্টস ফেডারেশন (বিএসএসএফ) শর্তসাপেক্ষে তুলে নেয় কলির ওপর আরোপিত এক বছরের নিষেধাজ্ঞা। গত ফেব্রুয়ারির শুরুতে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে এই শাস্তি দেওয়া হয়েছিল তাকে।

যদিও বিএসএসএফের আনা সব অভিযোগই অস্বীকার করেছিলেন কলি, যিনি নারী ১০ মিটার এয়ার রাইফেল ইভেন্টে ইন্টারন্যাশনাল শুটিং স্পোর্টস ফেডারেশন (আইএসএসএফ) বিশ্বকাপে ফাইনালে ওঠা বাংলাদেশের একমাত্র শুটার।

বিএসএসএফ জানিয়েছে, কলির আবেদন এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সুপারিশের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সঙ্গে সঙ্গে তার ওপর আরোপ করা হয়েছে কঠোর কিছু শর্ত, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ ও গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে। আগে সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জিএম হায়দারের বিরুদ্ধে মানসিক, যৌনসহ নানা ধরনের হয়রানির অভিযোগ তুলেছিলেন কলি, যা ঘিরেই তৈরি হয়েছিল বড় বিতর্ক।

ফেডারেশনের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী তিন মাস কোলিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে এবং এই সময়ের মধ্যে সামান্য শৃঙ্খলাভঙ্গও স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার কারণ হতে পারে। তাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সব ধরনের প্রকাশ্য বক্তব্যে নির্ধারিত নীতিমালা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। অনুমোদন ছাড়া ফেডারেশনবিরোধী, উসকানিমূলক বা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো মন্তব্য করা যাবে না। এমনকি কোনো সাক্ষাৎকার বা টকশোতে অংশ নিতে হলেও অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে লিখিত অনুমতি নিতে হবে।

এছাড়া জাতীয় দলের অভ্যন্তরীণ আলোচনা, প্রশাসনিক তথ্য বা প্রশিক্ষণ পদ্ধতি প্রকাশ না করার বিষয়েও তাকে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখতে হবে। ফেডারেশনে পুনরায় যোগ দেওয়ার আগে এসব শর্ত মেনে একটি অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করতেও হবে কোলিকে।