ইতালিকে স্তব্ধ করে দিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে বসনিয়া

স্পোর্টস ডেস্ক

ইতালিকে পেনাল্টি শ্যুটআউটে স্তব্ধ করে দিয়ে আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করল বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। তাদের এই জয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হলো যে, ২০১৪ সালের পর থেকে বিশ্বমঞ্চে অনুপস্থিতই থাকছে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

মঙ্গলবার রাতে ইউরোপিয়ান অঞ্চলের প্লে-অফের ফাইনালের নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৪-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছে বসনিয়া। প্রথমার্ধের শেষদিকে আলেসান্দ্রো বাস্তোনি সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ম্যাচের বড় একটা সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় ইতালিকে।

এই নিয়ে টানা তিনটি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হলো আজ্জুরিরা। অন্যদিকে, চূড়ান্ত পর্বে 'বি' গ্রুপে জায়গা করে নিয়েছে বসনিয়া। আগামী জুন-জুলাইয়ে হতে যাওয়া টুর্নামেন্টে তাদের সঙ্গী কানাডা, কাতার ও সুইজারল্যান্ড।

ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করে খেলা বসনিয়া প্রায় ৬৫ শতাংশ সময় বল নিজেদের দখলে রেখেছিল। গোলমুখে নেওয়া তাদের ৩০টি শটের ১১টি ছিল লক্ষ্যে। এর মধ্যে ১০টিই দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন ইতালির গোলরক্ষক জানলুইজি দোন্নারুম্মা। বিপরীতে, আজ্জুরিদের আক্রমণভাগ ছিল ধারহীন। পুরো ১২০ মিনিটে মাত্র নয়টি শট নিতে পারে তারা, যার কেবল তিনটি ছিল লক্ষ্যে।

বসনিয়ার জেনিৎসায় অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে ১৫তম মিনিটে মইসে কিনের গোলে অবশ্য লিড নিয়েছিল জেন্নারো গাত্তুসোর দল। তবে প্রবল প্রত্যাশার চাপে পিষ্ট হয়ে শেষ পর্যন্ত পথ হারায় তারা।

বিরতির ঠিক চার মিনিট আগে আমার মেমিচকে ফাউল করায় বাস্তোনি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে কোণঠাসা হয়ে পড়ে আজ্জুরিরা। বিপরীতে, একজন বেশি নিয়ে খেলা স্বাগতিকরা ভীষণ চাপ তৈরি করতে থাকে। সেই ধারায় ৭৯তম মিনিটে হারিস তাবাকোভিচের গোলে সমতায় ফেরে তারা। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

এরপর পেনাল্টি শ্যুটআউটে ইতালির বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্নভঙ্গের ধারা অব্যাহত থাকে। তাদের প্রথম শটটি পিও এস্পোসিতো ক্রসবারের ওপর দিয়ে মারেন। আর ব্রায়ান ক্রিস্তান্তের নেওয়া তৃতীয় শটটিতে বল ক্রসবারে লাগলে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বসনিয়া। তারপর এস্মির বায়ারাকতারেভিচ গোলরক্ষক জানলুইজি দোন্নারুম্মাকে ফাঁকি দিয়ে বল জালে জড়ালে ইতালির সব আশা শেষ হয়ে যায়।

প্রথম বিশ্বকাপজয়ী দেশ হিসেবে টানা তিনটি আসরে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হলো ইতালি। সবশেষ সোনালী ট্রফিটি তারা উঁচিয়ে ধরেছিল ২০০৬ সালে। এরপর ২০১০ ও ২০১৪ বিশ্বকাপে অংশ নিলেও বিদায় নিতে হয়েছিল গ্রুপ পর্ব থেকেই। তবে আজ্জুরিদের আসল পতন শুরু হয় ২০১৮ সালের আসর থেকে। তিনবারই প্লে-অফের বৈতরণী পার হতে ব্যর্থ হওয়ায় এবারও দর্শক হিসেবে থাকতে হচ্ছে তাদের।

অন্যদিকে, বায়ারাকতারেভিচের জয়সূচক স্পট-কিকের পর উল্লাসে ফেটে পড়ে গ্যালারির হাজারো দর্শক। ২০১৪ সালের পর এই প্রথম এবং সব মিলিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিল বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা।