‘নিজেকে শিশুর মতো মনে হচ্ছে’, শেষ বিশ্বকাপ নিয়ে নেইমার
নিজের চতুর্থ ও ‘শেষ’ বিশ্বকাপ শুরুর আগে রোমাঞ্চ ছুঁয়ে যাচ্ছে নেইমারকে। ব্রাজিলিয়ান এই তারকা জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ ঘিরে এখন তার অনুভূতি ঠিক এক ‘শিশুর’ মতো। তবে পায়ের পেশির পুরোনো চোট তার এই শেষ যাত্রা কিছুটা হলেও বাধাগ্রস্ত করার ঝুঁকিতে রেখেছে।
৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযানের শুরু থেকেই খেলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। আগামী শনিবার নিউ জার্সিতে মরক্কোর বিপক্ষে সেলেসাওদের উদ্বোধনী ম্যাচে তার মাঠে নামার সম্ভাবনা কম বললেই চলে।
তবে ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার চোটের অবস্থা নিয়ে স্বস্তির খবরও আছে। জানা গেছে, তিনি ‘বেশ ভালোভাবে সেরে উঠছেন’। কার্লো আনচেলত্তির দলের হয়ে টুর্নামেন্টে অবদান রাখতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।
পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা আগামী ১৯ জুন হাইতির মুখোমুখি হবে। এর পাঁচ দিন পর গ্রুপ ‘সি’-এর শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড।
আগামী বুধবার মুক্তি পেতে যাওয়া প্রামাণ্যচিত্র ‘এগিয়ে যাও, ব্রাজিল’-এর এক ঝলকে নেইমার বলেন, ‘যদিও এটি আমার চতুর্থ বিশ্বকাপ, তবুও এর অনুভূতি একেবারেই ভিন্ন। কারণ এর সঙ্গে অনেক কিছু জড়িয়ে আছে এবং স্বাভাবিকভাবেই এটিই আমার শেষ বিশ্বকাপ।’
ব্রাজিলের গত তিনটি বিশ্বকাপেই দলের অন্যতম প্রধান ভরসা ছিলেন নেইমার। তবে এবার দলে তার সুযোগ পাওয়াটা অনেকের কাছেই কিছুটা বিস্ময় তৈরি করেছে। চোটের কারণে ২০২৩ সালের পর থেকে দেশের জার্সিতে কোনো ম্যাচই খেলতে পারেননি তিনি।
বার্সেলোনা ও প্যারিস সেন্ট জার্মেইর সাবেক এই তারকা বলেন, ‘এখানে এসে নিজেকে শিশুর মতো মনে হচ্ছে। ঠিক যেন ১৮ বছরের এক তরুণ, যে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘এখানে আসতে পেরে আমি খুবই গর্বিত ও আনন্দিত। এই বিশ্বকাপের প্রতিটি সেকেন্ড, প্রতিটি মুহূর্ত আমি উপভোগ করতে চাই। আশা করি, এবারের আসরটি বিশেষ কিছুই হবে।’
২০১৪ সালে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপে অভিষেক হয়েছিল নেইমারের। তবে চোটের কারণে ছিটকে যাওয়ায় সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে দলের ৭-১ গোলের সেই দুঃসহ পরাজয় মাঠের বাইরে থেকে দেখতে হয়েছিল তাকে। আর গত দুটি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের যাত্রা থামে কোয়ার্টার ফাইনালেই।