বেতন বাড়ানোর দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেডিয়াম-হোটেল কর্মীদের ধর্মঘটের হুমকি
বিশ্বকাপের পর্দা উঠতে বাকি মাত্র এক দিন। এই অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি আয়োজক শহরের স্টেডিয়াম ও হোটেল কর্মীরা ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছেন। তাদের দাবি, শ্রমিকেরা প্রতিনিয়ত বেতন বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে তারা এই অবস্থানে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের লস এঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়াম ও এর রেস্টুরেন্টে কর্মরত বাবুর্চি, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ক্যাশিয়ার ও বারে খাবার-পানীয় পরিবেশনার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের প্রায় সবাই ধর্মঘটের বিষয়ে একমত হয়েছেন। সোফি স্টেডিয়ামে কর্মরত প্রায় দুই হাজার শ্রমিকের সংগঠন বলছে, ৯৬ শতাংশ শ্রমিক এই ধর্মঘটের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে নীতিগতভাবে একমত। ১২ জুন এই স্টেডিয়ামেই প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করবে এবারের তিন স্বাগতিকদের মধ্যে অন্যতম যুক্তরাষ্ট্র।
শ্রমিকেরা মূলত তাদের বেতন বৃদ্ধি এবং মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে কোনো রকম হেনস্থার শিকার না হওয়া- এই দুই দাবিতে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। শ্রমিক সংগঠনটি জানিয়েছে, কর্মরত শ্রমিকেরা যদি মনে করেন যে মার্কিন অভিবাসন সংস্থার কারণে তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরির আশঙ্কা রয়েছে, তাহলে চুক্তি অনুযায়ীই তারা কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
২০২১ সাল থেকে সোফি স্টেডিয়ামের বারে কাজ করা ইভা মাইলস বলেছেন, ‘আমরা কেবল সবার জন্য ন্যায্যতা চেয়ে আন্দোলন করছি। আমাদের ছাড়া এই স্টেডিয়াম কীভাবে চলবে? রান্না করবে কে? পরিবেশন করবে কে? খেলা দেখতে আসা দর্শকদের সেবা দেবে কে?’
মাইলসের দাবি, এই মুহূর্তে তারা যে বেতন পাচ্ছেন তা দিয়ে স্টেডিয়ামের আশেপাশের এলাকায় জীবনযাপন করা অসম্ভব। খরচ বাচাতে তাকে প্রতিদিন প্রায় দুই ঘণ্টা সময় নিয়ে স্টেডিয়ামে যাতায়াত করতে হয়। কাউকে কাউকে বাধ্য হয়ে আরও দূরেও থাকতে হয়।
শ্রমিকেরা ঘণ্টায় অন্তত ৩০ ডলার বেতনের দাবি জানিয়েছেন। বর্তমান বেতন নিয়ে কর্তৃপক্ষের প্রতি ক্ষোভ জানিয়ে মাইলস বলেছেন, ‘এই বেতনে তারা সংসার চালিয়ে দেখাক। আমি এই স্টেডিয়ামের একদম শুরু থেকে কাজ করছি। আমি চাই খেলা দেখতে আসা দর্শকেরা আনন্দে খেলা দেখুক, উপভোগ করুক। দর্শকেরা কিন্তু অনেক টাকা খরচ করে বিশ্বকাপের খেলা দেখতে আসছেন। তাহলে আমি বুঝতে পারছি না আমাদের বেতন বাড়াতে অসুবিধা কোথায়?’
ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়া সিয়াটলেও বেতন বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন শ্রমিকেরা। অ্যাম্বাসি সুইটস হিলটনে কাজ করা প্রায় ১০০ জন শ্রমিক এই আন্দোলনে শামিল হয়েছেন। বেতন বৃদ্ধি, সারা বছরব্যাপী স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি ও অভিবাসন সংস্থার থেকে সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন তারা।
হোটেলের অভ্যর্থনায় কাজ করা হেইডেন ইয়ারলি বলেছেন, ‘হোটেল কর্তৃপক্ষ আমাদের ঘণ্টায় ১ ডলারেরও কম বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। সবকিছুর দাম যেভাবে বাড়ছে, বিশেষ করে গ্যাসের দাম, সে বিবেচনায় আমরা কেউই এটিকে যৌক্তিক মনে করছি না’। ফিলাডেলফিয়াতেও ছয়টি হোটেলের কর্মচারীরা ধর্মঘটে নামার ডাক দিয়েছেন। তাদের দাবি, বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ফুরিয়ে গেলেও হোটেল কর্তৃপক্ষ এখনো তাদের সাথে নতুন করে চুক্তি করেনি। নতুন চুক্তি করতে কর্তৃপক্ষকে ১২ জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে তারা।
বেতন বৈষম্য ছাড়াও শ্রমিকদের যেন অযথা হয়রানির শিকার না হতে হয় সে ব্যাপারেও সোচ্চার শ্রমিক সংগঠনটি। অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও আটক করার ব্যাপারে সাম্প্রতিক সময়ে কড়া অবস্থানে রয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। বিশ্বকাপের একাধিক স্টেডিয়ামে কাজ করা শ্রমিকদের একটা বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হিসেবে রয়েছেন। তারা আশঙ্কা করছেন, খেলা চলাকালীন দেশটির অভিবাসন সংস্থা তাদের অযথা হয়রানি করতে পারে।
এই বিষয়ে ফিফা কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার তরফ থেকে কেবল জানানো হয়েছে, এটি হোটেল কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিকদের নিজেদের ব্যাপার, ফিফার সাথে এটি কোনোভাবে সংশ্লিষ্ট নয়।