রোনালদোকেও ছাড়িয়ে যাওয়া কুইনোনেস এবার বিশ্বকাপের ইতিহাসে
ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে গোলসংখ্যায় পেছনে ফেলা সহজ কাজ নয়। সেটাই করেছিলেন হুলিয়ান কুইনোনেস। আর এবার সেই দুর্দান্ত ফর্মকে তিনি নিয়ে গেলেন ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে গোল করে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখিয়ে ফেললেন মেক্সিকোর এই ফরোয়ার্ড।
মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক অ্যাজতেকা স্টেডিয়ামে প্রায় ৮০ হাজার দর্শকের সামনে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছে স্বাগতিক মেক্সিকো। আর সেই ম্যাচেই বিশ্বকাপ ২০২৬-এর প্রথম গোলটি করেন হুলিয়ান কুইনোনেস।
এই গোলের মাধ্যমে তিনি শুধু টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী গোলদাতাই হননি, একই সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম কনকাকাফ ফুটবলার হিসেবে কোনো আসরের প্রথম গোল করার কীর্তিও গড়েছেন।
২৯ বছর বয়সী কুইনোনেস এমনিতেই দুর্দান্ত এক মৌসুম কাটিয়ে বিশ্বকাপে এসেছেন। সৌদি প্রো লিগে আল কাদসিয়াহর হয়ে ৩১ ম্যাচে ৩৩ গোল করেছেন তিনি। একই সময়ে রোনালদো ৩০ ম্যাচে করেন ২৮ গোল। অর্থাৎ গোলদাতার তালিকায় রোনালদোর চেয়ে পাঁচ গোল বেশি ছিল কুইনোনেসের।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেও নিজের সেই গোল করার প্রবণতার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। ম্যাচের মাত্র নবম মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন মেক্সিকান তারকা।
দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামস পেছন থেকে আক্রমণ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু একটি ভুল পাস এবং সিথোলের দুর্বল বল নিয়ন্ত্রণের সুযোগ নিয়ে বল দখল করেন এরিক লিরা। এরপর বল পৌঁছে যায় কুইনোনেসের কাছে।
বক্সের প্রান্ত থেকে নেওয়া তার শক্তিশালী শট উইলিয়ামসের দুই পায়ের মাঝ দিয়ে জালে জড়িয়ে যায়। মুহূর্তেই উল্লাসে ফেটে পড়ে অ্যাজতেকা স্টেডিয়াম।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে এটি ছিল গত ২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত গোল। এর আগে ২০০৬ বিশ্বকাপে কোস্টারিকার বিপক্ষে জার্মানির হয়ে ষষ্ঠ মিনিটে গোল করেছিলেন ফিলিপ লাম।
বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম গোলদাতা অবশ্য লুসিয়েন লরাঁ। তিনি ১৯৩০ সালে মেক্সিকোর বিপক্ষে গোল করে এই কীর্তি গড়েছিলেন। সর্বশেষ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের প্রথম গোলটি করেছিলেন এনের ভ্যালেন্সিয়া, স্বাগতিক কাতারের বিপক্ষে।
এই জয়ের মাধ্যমে আরও একটি নজরকাড়া পরিসংখ্যান নিজেদের করে নিয়েছে মেক্সিকো। আফ্রিকার দলগুলোর বিপক্ষে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি তাদের টানা ২২তম জয়। আফ্রিকার কোনো দলের কাছে সর্বশেষ হারও ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেই, ২০০৫ সালের গোল্ড কাপে।
এছাড়া অ্যাজতেকা স্টেডিয়ামে এটি ছিল বিশ্বকাপ ইতিহাসের ২০তম ম্যাচ, যা কোনো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সর্বোচ্চ সংখ্যক বিশ্বকাপ ম্যাচের রেকর্ড।