‘স্বপ্ন দেখার অধিকার আমরা অর্জন করেছি’

স্পোর্টস ডেস্ক

বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথম পয়েন্ট অর্জনের পর কাতারজুড়ে নতুন করে জন্ম নিয়েছে আশা। যোগ করা সময়ের নাটকীয় এক গোলে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ১-১ সমতা এনে ইতিহাস গড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। আর সেই ফলের পর কাতারের কোচ হুলেন লোপেতেগুই মনে করছেন, তার দল এখন আরও বড় স্বপ্ন দেখার অধিকার অর্জন করেছে।

শনিবার গ্রুপ ‘বি’র ম্যাচে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পিছিয়ে ছিল কাতার। ম্যাচের ১৭তম মিনিটে ব্রিল এম্বোলোর পেনাল্টি গোলে এগিয়ে যায় সুইজারল্যান্ড। এরপর দীর্ঘ সময় প্রতিপক্ষের আক্রমণের চাপ সামলাতে হয় কাতারকে। কিন্তু যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে হোমাম আহমেদের ক্রস থেকে দারুণ হেডে বল জালে পাঠান অধিনায়ক বুয়ালেম খৌখি। সেই গোলেই আসে মূল্যবান এক পয়েন্ট।

এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপ ‘বি’-তে প্রথম রাউন্ড শেষে চারটি দলই সমান পয়েন্ট নিয়ে অবস্থান করছে। তবে লোপেতেগুইয়ের কাছে ফলটির গুরুত্ব শুধু পয়েন্ট তালিকায় সীমাবদ্ধ নয়। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, 'আমরা এখানে এসে একটি স্বপ্ন পূরণ করেছি। আর আজ আরেকটি ছোট স্বপ্ন পূরণ হলো। এখন আমাদের আরও স্বপ্ন দেখার অধিকার আছে।'

খৌখির শেষ মুহূর্তের গোলের পর কাতারের ফুটবলারদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। কারণ পুরো ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের প্রবল চাপের মুখে ছিল তারা। পরিসংখ্যান বলছে, ম্যাচে সুইসরা ২৬টি শট নিয়েছে, যেখানে কাতারের শট ছিল মাত্র সাতটি।

তবু ম্যাচের পরিকল্পনা থেকে এক মুহূর্তের জন্যও সরে আসেননি কাতারের খেলোয়াড়রা। গোল হজমের পরও তারা ধৈর্য হারাননি। লোপেতেগুই বলেন, 'আমরা খুব বেশি পরিবর্তন করিনি। কারণ সুইজারল্যান্ডের মতো দলের বিপক্ষে খুব দ্রুত খোলামেলা খেলতে গেলে আপনাকে ভুগতে হবে। তাই আমাদের পরিকল্পনায় অটল থাকতে হয়েছে।'

ম্যাচজুড়ে রক্ষণে শৃঙ্খলাবদ্ধ থেকেছে কাতার। অযথা ঝুঁকি না নিয়ে সংখ্যায় বেশি খেলোয়াড় নিয়ে রক্ষণ সামলানোর কৌশল বেছে নিয়েছিল দলটি। লোপেতেগুইয়ের মতে, প্রতিপক্ষের মান বিবেচনায় সেটিই ছিল সঠিক পথ, 'আমরা বিশ্বাস করেছি, কঠোর পরিশ্রম করেছি, প্রতিরোধ গড়ে তুলেছি এবং মানসিক দৃঢ়তা দেখিয়েছি। শেষ পর্যন্ত আমরা তার পুরস্কার পেয়েছি।'

নিজের খেলোয়াড়দের মানসিকতার প্রশংসা করতেও ভোলেননি স্প্যানিশ কোচ। তার মতে, শেষ মুহূর্তের গোল না এলেও দলের লড়াই নিয়ে তিনি গর্বিত থাকতেন। 'আজ খেলোয়াড়রা যে মানসিকতা ও শৃঙ্খলা দেখিয়েছে, তা নিয়ে আমি ভীষণ গর্বিত,' বলেন তিনি।

তবে আনন্দের মধ্যেও পরবর্তী ম্যাচের দিকে নজর দিতে শুরু করেছেন লোপেতেগুই। আগামী বৃহস্পতিবার সহ-আয়োজক কানাডার মুখোমুখি হবে কাতার। সেই ম্যাচের আগে বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখছেন তিনি।

কোচের মতে, তার অনেক খেলোয়াড় এখনও বিশ্বকাপের উচ্চগতির ফুটবলের সঙ্গে পুরোপুরি অভ্যস্ত নয়, 'আমাদের কিছু খেলোয়াড়ের অন্যদের তুলনায় বেশি সময় প্রয়োজন হয়, কারণ তারা এই ধরনের তীব্র গতির সঙ্গে নিয়মিত পরিচিত নয়। তাই দ্রুত পুনরুদ্ধার করে পরবর্তী বড় চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।'

তবে আপাতত কাতারের বিশ্বকাপ স্বপ্ন বেঁচে আছে। আর সেই স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরেই এগিয়ে যেতে চান লোপেতেগুই। তার কথায়, 'পথটা কঠিন হবে, অনেক কঠিন। কিন্তু আমরা সেই পথে এগিয়ে যাওয়ার অধিকার অর্জন করেছি।'