স্পেনকে ঠেকিয়ে ইনস্টাগ্রামে এক রাতে ভোজিনহার ৫ মিলিয়ন ফলোয়ার

স্পোর্টস ডেস্ক

ম্যাচ শুরুর আগে ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার ছিল মোটে ৫৬ হাজার। আর সোমবার রাতে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সেই সংখ্যা গিয়ে ঠেকল ৫ মিলিয়নে (৫০ লাখ)! মাঠে স্পেনের বিশ্বসেরা আক্রমণভাগকে আটকে দিয়ে রাতারাতি ইনস্টাগ্রামে এই অবিশ্বাস্য ঝড় তুলেছেন কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহা। এক রাতেই তিনি বনে গেছেন এই বিশ্বকাপের প্রথম ‘ভাইরাল হিরো’।

ভোজিনহার এমন অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের পর স্পেনের অহংকারে চোট লেগেছে কেপ ভার্দের সমর্থকদের। স্পেন আবার কে ভাই? বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের ভক্তরা এখন এটাই বিশ্বাস করছে!

এই বিশ্বকাপটা কেপ ভার্দের ইতিহাসে প্রথম, আর ভোজিনহার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় গৌরবময় অধ্যায়। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে তিনি বলেছিলেন, ‘এটা আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।’ আর সোমবার স্পেনের মতো পরাশক্তির বিপক্ষে খেলতে নামাটাই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় দিন।

পুরো ম্যাচে স্পেনের খেলোয়াড়রা একের পর এক গোল দেওয়ার চেষ্টা করেছে। ভোজিনহা একাই ২৭টি শটের মুখোমুখি হয়েছেন, যার মধ্যে ৭টি ছিল অবিশ্বাস্য সেভ। আর এই ৯০ মিনিটেই তার জীবন পুরো বদলে গেল! ম্যাচ সেরার পুরস্কার তো পেলেনই, খেলা শেষের বাঁশি বাজতেই আনন্দে কেঁদে ফেললেন।

কেপ ভার্দের কোচ বুবিস্তা আবেগে আপ্লুত হয়ে বলেন, ‘সে নিজেকে ধরে রাখতে পারেনি। এতগুলো বছর ধরে এই বিশ্বমঞ্চে আসার জন্য ও অনেক কষ্ট করেছে। এই কান্না আসলে ওর এত বছরের সংগ্রামের ফসল।’

কিন্তু কে এই ভোজিনহা? এলেনই বা কোত্থেকে?

কেপ ভার্দের মাত্র ৭০ হাজার মানুষের ছোট শহর মিন্দেলোতে জন্ম ভোজিনহার। ছোটবেলায় তার স্ট্রাইকার হওয়ার কথা ছিল। ভোজিনহা জানান, ‘রিয়াল মাদ্রিদের আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার হোর্হে ভালদানোর নামানুসারে বাবা আমার নাম রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সরকারি নিয়মের কারণে সেটা হয়নি।’

তার বদলে নাম হলো ভোজিনহা, যার অর্থ 'ছোট কণ্ঠস্বর'। স্ট্রাইকার না হয়ে তিনি হলেন গোলরক্ষক। পেশাদার ফুটবল শুরু করতে করতে তার ২৫ বছর লেগে যায়। ২০০৭ সালে যখন তিনি 'বাতুকে' নামের একটা অখ্যাত স্থানীয় ক্লাবে ক্যারিয়ার শুরু করেন।

ভোজিনহার ফুটবল ক্যারিয়ারটা একদম যাযাবরদের মতো। কেপ ভার্দে আর পর্তুগালের ছোটখাটো ক্লাবে খেলে চলে যান অ্যাঙ্গোলার প্রোগ্রেসো-তে। এরপর ইউরোপের মলদোভা, সাইপ্রাস আর স্লোভাকিয়ার বিভিন্ন অখ্যাত ক্লাবে খেলেছেন। গত দুই বছর ধরে আছেন পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের দল 'শাভেস'-এ, যেখানে বেশিরভাগ সময় বেঞ্চেই বসে থাকতে হতো।

তবে ক্লাবের ফর্ম যাই হোক, কেপ ভার্দের জার্সিতে নামলেই ভোজিনহা যেন অন্য মানুষ! বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ১০ ম্যাচের ৭টিতেই তিনি কোনো গোল খাননি। তাই স্পেনের জন্য ভয়ের কারণটা আগে থেকেই ছিল।

ম্যাচ শেষে ভোজিনহা বলেন, ‘আমি যদি এখন ১৮ বছরের তরুণ ভোজিনহাকে দেখতাম, তবে বলতাম—নিজের জন্য গর্ব বোধ করো!’

‘আমি এই একটা মুহূর্তের জন্য পুরো জীবন কষ্ট করেছি। আমার বয়স এখন ৪০। ২০১২ সালে ২৫ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবল শুরু করি। মাঝে খেলা ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলাম, কিন্তু এই স্বপ্নের জন্য টিকে ছিলাম। এই ম্যাচ সেরার পুরস্কার আমার একা না, পুরো দলের।’