‘মেসি পুরো ম্যাচে ক্রীড়াসুলভ ছিল,’ বললেন বিশ্বকাপ ফাইনালের রেফারি

স্পোর্টস ডেস্ক

বিশ্বকাপ ফাইনালের পর লিওনেল মেসিকে নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলেছে। তবে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের দারুণ প্রশংসা করেছেন সেই ম্যাচ পরিচালনা করা রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ। সদ্য অবসর নেওয়া এই স্লোভেনিয়ান রেফারি জানিয়েছেন, মাঠে মেসির সঙ্গে তার একাধিকবার কথা হলেও সেই আলাপ গোপনই রাখতে চান। তবে একটি বিষয় তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ম্যাচজুড়ে সম্মানজনক আচরণ করেছেন মেসি এবং ছিলেন অত্যন্ত ক্রীড়াসুলভও।

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হারায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচ চলাকালে টেলিভিশনের ক্যামেরায় বারবার ধরা পড়ে মেসি ও ভিনচিচের কথোপকথন। সেই দৃশ্য নিয়েই পরে শুরু হয় নানা জল্পনা। অনেকেই জানতে চেয়েছিলেন, মাঠে দুজনের মধ্যে কী কথা হয়েছিল।

স্লোভেনিয়ার সংবাদমাধ্যম স্পোর্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভিনচিচ বলেন, ‘সেই কথোপকথন আমি মাঠেই রেখে দিতে চাই। তবে এটুকু বলতে পারি, মেসি পুরো ম্যাচে অত্যন্ত ক্রীড়াসুলভ আচরণ করেছে।’

ফাইনালে আর্জেন্টিনার আক্রমণাত্মক ফুটবল নিয়েও সমালোচনা হয়েছিল। বিশেষ করে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের জয়সূচক গোলের পর ম্যাচের উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। এর মধ্যে একটি ঘটনায় মেসিকে স্পেনের ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়াকে লাল কার্ড দেখানোর জন্য রেফারিকে ইঙ্গিত দিতে দেখা যায়। অভিযোগ ছিল, কুকুরেয়া কথা বলার সময় মুখ ঢেকে রেখেছিলেন। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে একই ধরনের ঘটনায় প্যারাগুয়ের মিগেল আলমিরোন লাল কার্ড দেখেছিলেন বলেই বিষয়টি আলোচনায় আসে।

তবে এসব বিতর্ককে গুরুত্ব দিতে রাজি নন ভিনচিচ। তার দাবি, পুরো ম্যাচে মেসির আচরণ ছিল উদাহরণযোগ্য এবং তিনি কোনো ধরনের অসৌজন্যমূলক আচরণ করেননি।

বিশ্বকাপ ফাইনালের দায়িত্ব পাওয়ার অনুভূতিও ভাগ করে নিয়েছেন সদ্য অবসর নেওয়া এই রেফারি। তিনি বলেন, প্রথমে কিছুটা বিস্মিত হলেও পরে এটি তার জীবনের সবচেয়ে গর্বের মুহূর্তগুলোর একটি হয়ে ওঠে।

ভিনচিচের ভাষায়, ‘শুরুতে আমি অবাক হয়েছিলাম। পরে ভীষণ গর্ব অনুভব করেছি। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরে নিজের দেশ স্লোভেনিয়াকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাওয়া সত্যিই বিশেষ কিছু। আমাদের ফুটবল ফেডারেশন এবং রেফারিং সংস্থার জন্যও এটি ছিল গর্বের মুহূর্ত।’

তিনি আরও বলেন, একজন রেফারির পুরো ক্যারিয়ারের মূল্যায়ন অনেক সময় একটি ম্যাচেই হয়ে যায়। তাই বিশ্বকাপ ফাইনাল পরিচালনার দায়িত্ব ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
নিজের সহকারী রেফারি তোমাজ ক্লানচনিক ও আন্দ্রাজ কোভাচিচের ভূয়সী প্রশংসাও করেছেন ভিনচিচ। দীর্ঘদিন একসঙ্গে কাজ করার ফলে তাদের মধ্যে দারুণ বোঝাপড়া তৈরি হয়েছিল বলেই মনে করেন তিনি।

‘আমরা বছরের পর বছর একসঙ্গে কাজ করেছি। একজন আরেকজনের চিন্তা, অনুভূতি ও সিদ্ধান্ত খুব ভালোভাবে বুঝতে পারি। এটাই আমাদের সাফল্যের ভিত্তি। অসংখ্য দিন আমরা একসঙ্গে হোটেলে থেকেছি, সেমিনারে অংশ নিয়েছি, প্রস্তুতি নিয়েছি। তারা আমার দ্বিতীয় পরিবারের মতো। তাদের ছাড়া এই পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হতো না,’ বলেন তিনি।

বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো ম্যাচ পরিচালনার সবচেয়ে কঠিন দিক কী ছিল, এমন প্রশ্নের জবাবে ভিনচিচ বলেন, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল খেলাটির আবেগ ও চাপ সামলানো।

‘এটি বিশ্বকাপের ফাইনাল। এমন ম্যাচে খেলোয়াড়দের মানসিকতা ও প্রতিক্রিয়া ভিন্ন হয়। ম্যাচের গুরুত্ব বিবেচনায় সবকিছু বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল,’ বলেন তিনি।

ফাইনালের সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্ত ছিল আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া। স্পেনের তরুণ ডিফেন্ডার পাও কুবারসির ওপর ফাউলের কারণে তাকে লাল কার্ড দেখানো হয়। সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হলেও নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা নেই ভিনচিচের, ‘ম্যাচ-পরবর্তী বিশ্লেষণে আমার খুব বেশি সমস্যা খুঁজে পাইনি। আমার বিশ্বাস, রেফারিংয়ের কৌশল এবং ম্যাচ পরিচালনার পরিকল্পনা সঠিকই ছিল।’

বিশ্বকাপ ফাইনালের মাত্র এক সপ্তাহ পরই রেফারিং ক্যারিয়ারের ইতি টানেন স্লাভকো ভিনচিচ।