মেসির বাবার ভুয়া মৃত্যু সংবাদ পড়ে ইস্তফা দিলেন টিভি উপস্থাপক

স্পোর্টস ডেস্ক

গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারানোর পর গোটা আর্জেন্টিনা যখন আনন্দে উত্তাল, তখন হঠাৎ টিভি পর্দায় বিস্ফোরক এক খবর পড়ে বসলেন আর্জেন্টিনার এক টেলিভিশন উপস্থাপক। লিওনেল মেসির বাবার মৃত্যু সংবাদ! মুহূর্তের মধ্যে সেই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর জানা যায় খবরটি সঠিক নয়। এরপর চাকরি থেকেই পদত্যাগ করেন ওই উপস্থাপক। 

আর্জেন্টাইন চ্যানেল লুজু টিভির উপস্থাপক ফ্লোরেন্সিয়া পেনা এক লাইভ অনুষ্ঠানে মেসির বাবাকে নিয়ে এই মন্তব্যটি করেন। অনুষ্ঠানের মধ্যেই পেনা বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমি এরকম দুঃসংবাদ সামনে আনতে চাইছিলাম না, কিন্তু মেসির বাবা এই মাত্র মারা গেছেন’। 

বিবিসি জানিয়েছে, সামাজিকমাধ্যমে দ্রুতগতিতে এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে টনক নড়ে পেনার। এরপর তিনি বলেন যে তথ্যটি এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ব্যাপক সমালোচনার মুখে পেনা ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন এবং বলেন যে লাইভ অনুষ্ঠান চলার সময় তার কাছে এমনভাবে সংবাদটি এসেছিল, তিনি মনে করেছিলেন যাচাই-বাছাই করেই এটি তাকে পাঠানো হয়েছে। 

৫১ বছর বয়সী পেনা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমি মেসির পরিবারের কাছে ক্ষমা চাইছি। এরকম একটা ভুলের সাথে জড়িত থাকায় আমি ভীষণভাবে লজ্জিত। তবে আমি একটি বিষয় পরিষ্কার করতে চাই, লাইভ অনুষ্ঠান চলার সময় এই সংবাদটি আমার কাছে আসে। আমি ধরে নিয়েছিলাম প্রোডাকশন টিম ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করে সংবাদটি আমাকে দিয়েছে। তবুও এমন ভুলের সাথে জড়িত থাকার দায়ভার নিয়ে আমি লুজু টিভি থেকে পদত্যাগ করছি’। 

লুজু টিভিও এই ঘটনার পর ক্ষমা চেয়েছে এবং এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে। অনুষ্ঠানটির প্রযোজক এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমরা আমাদের টেলিভিশনের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাইছি। চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হওয়ার আগেই এই ধরণের সংবেদনশীল তথ্য প্রচার করা আমাদের চ্যানেলের কাছে অগ্রহণযোগ্য। এ কারণে এই ঘটনার সাথে জড়িত সবাইকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর পেনা নিজেই পদত্যাগ করেছেন’। 

এ ঘটনার পর মেসির পরিবার থেকেও একটি বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, মেসির বাবা হোর্হে মেসি এই মুহূর্তে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তবে তার অসুস্থতা সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি। এই দুঃসময়ে কোনো ভুয়া তথ্য না ছড়ানো ও গোপনীয়তা রক্ষার অনুরোধও জানিয়েছে মেসির পরিবার।

ঘটনাটির আঁচ এতদূর গড়িয়েছে যে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এরকম দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের কড়া সমালোচনা করেছেন।