ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

ব্রাজিলকে ছোঁয়ার ম্যাচে এক যুগ পর বিশ্বকাপের নকআউটে জার্মানি

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে ২০১৪ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠেছে জার্মানি। এই জয়ের মাধ্যমে তারা শুধু পরের পর্বেই পা দেয়নি, বরং বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ডে আবার ব্রাজিলকে ছুঁয়ে ফেলেছে। আগের দিনই জার্মানিকে ছাড়িয়ে ২৪১ গোল নিয়ে এককভাবে শীর্ষে উঠেছিল ব্রাজিল। তবে আইভরি কোস্টের বিরুদ্ধে দুই গোল দিয়ে নিজেদের মোট গোল সংখ্যা ২৪১-এ নিয়ে গেল জার্মানরা।

ম্যাচে প্রথমে পিছিয়ে পড়েও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় জার্মানি। বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে দেনিজ উন্দাভ দুটি গোল করেন। এর মধ্যে ইনজুরি সময়ের চার মিনিটে করা তার জয়সূচক গোলটি টরন্টোর স্টেডিয়ামে উপস্থিত ৪৩ হাজার জার্মান সমর্থককে উল্লাসে ভাসিয়ে দেয়।

২০১৪ সালে ব্রাজিলে গিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর জার্মানি আর কখনোই বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব পার হতে পারেনি। তাই এই সাফল্য পাওয়ার জন্য কোচ ইউলিয়ান নাগেলসম্যানের ওপর প্রচণ্ড চাপ ছিল। ম্যাচ শেষে উন্দাভের চমৎকার ফিনিশিংয়ের প্রশংসা করে কোচ জানান, ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে পরের ম্যাচে তিনি শুরু থেকেই খেলতে পারেন—এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

নাগেলসম্যান বলেন, 'ম্যাচটি তার জন্য দারুণ ছিল। এর চেয়ে নিখুঁত অবদান আর হতে পারে না!'

ম্যাচের প্রথমার্ধে জার্মানি বেশ চাপে ছিল। ৩০তম মিনিটে ফ্রাঙ্ক কেসি গোল করে আইভরি কোস্টকে এগিয়ে নেন। ইউরোপের বড় বড় ক্লাবের নজরে থাকা আইভরি কোস্টের তরুণ ফুটবলার ইয়ান দিওমান্দের পাস থেকে এই গোলটি হয়।

প্রথমার্ধে জার্মানরা আরও দুবার বল জালে পাঠিয়েছিল, কিন্তু দুটি গোলই বাতিল হয়। প্রথমবার ২১তম মিনিটে আলেকসান্ডার পাভলোভিচ গোল করলেও রেফারি জানান তিনি গোলরক্ষককে ফাউল করেছেন। দ্বিতীয়বার ৩৮তম মিনিটে আর্সেনাল তারকা কাই হাভার্টজ গোল করলেও জামাল মুসিয়ালার ফাউলের কারণে সেটি বাতিল করা হয়।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই জার্মানি অলআউট আক্রমণ করতে থাকে। আইভরি কোস্টের রক্ষণভাগ ৬৮তম মিনিট পর্যন্ত সামলে রাখলেও শেষ রক্ষা হয়নি। নাদিয়েম আমিরির ক্রস থেকে চমৎকার ভলিতে জার্মানিকে সমতায় ফেরান উন্দাভ। এরপর ফেলিক্স নমেচার পাস থেকে উন্দাভ নিজের দ্বিতীয় গোলটি করতেই পুরো স্টেডিয়াম উৎসবে মেতে ওঠে। এই জয়ের মাধ্যমে গত দুটি বিশ্বকাপের টানা হতাশা দূর করল জার্মানরা।

জার্মানির ডিফেন্ডার জোনাথন তা বলেন, 'জেতার মানসিকতা আর দলগত শক্তি—একটা টুর্নামেন্টে সফল হতে যা লাগে, আমাদের আজ সবই ছিল। আমরা কেউ হাল ছাড়িনি। যারা পরে মাঠে নেমেছে, তারা দলের শক্তি বাড়িয়েছে। দেনিজের কথা আলাদা করে বলতেই হবে, এককথায় অসাধারণ!'

আইভরি কোস্ট কখনোই বিশ্বকাপের পরের পর্বে যেতে পারেনি। তবে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নতুন দল কুরাসাওকে হারাতে পারলে এখনও তাদের সামনে সুযোগ থাকবে।