ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

হালান্ডকে পারেনি, এমবাপেকে আটকাতে পারবে ইরাক?

স্পোর্টস ডেস্ক

দীর্ঘ ৪০ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরেই প্রথম ম্যাচে নরওয়েকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছিল ইরাক, যে দলে খেলেন সময়ের অন্যতম সেরা ‘গোলমেশিন’ হিসেবে পরিচিত আর্লিং হালান্ড। ইরাকের জালে সেদিন দুবার বল পাঠিয়েছিলেন হালান্ড। এবার দ্বিতীয় ম্যাচে দলটিকে সামলাতে হবে কিলিয়ান এমবাপের ফ্রান্সকে। এবারের বিশ্বকাপে প্রথম দুই ম্যাচে এত শক্তিশালী ফরোয়ার্ড লাইন বোধহয় আর কোনো দলকেই সামলাতে হয়নি। 

তবে তারকাখচিত ফ্রান্সের সামনে নিজেদের গুটিয়ে রাখতে চায় না ইরাক। নিজেদের দর্শন অনুযায়ী সেরা খেলাই খেলবে দলটি, নিশ্চিত করেছেন ইরাকের কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড। 

ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে এসে আর্নল্ড বলেছেন, প্রতিপক্ষ শক্তিশালী হলেও নিজের ফুটবল দর্শনেই দলকে খেলাবেন তিনি, ‘আমি সবসময়ই জেতার চিন্তা করে মাঠে নামা কোচ। পরাজয় ঠেকানো আমার লক্ষ্য না। হ্যাঁ, এই মানসিকতার ফুটবল খেলে আপনি হয়তো কিছু ম্যাচে প্রত্যাশামাফিক ফলাফল পাবেন না, তবে বেশিরভাগ ম্যাচেই এটি কাজ করবে’। 

নিজের এই ইতিবাচক দর্শন ইরাকের খেলোয়াড়দের মধ্যেও ছড়িয়ে দিতে চান ইরাককে ৪০ বছর বিশ্বকাপের মূল পর্বে আনা এই অস্ট্রেলীয় কোচ, ‘আপনি যদি খেলোয়াড়দের বিশ্বাস করাতে পারেন যে আমরা জেতার জন্য খেলছি, খেলোয়াড়দের মধ্যে সেই আশা যদি তৈরি করতে পারেন, তাহলে ওরাও সেরকম চিন্তা-ভাবনা নিয়েই মাঠে নামবে’। 

তারকায় ঠাসা ফ্রান্সকে নিয়ে কীরকম কৌশল সাজাচ্ছেন এমন প্রশ্নে কিছুটা রসিকতা করে আর্নল্ড বলেন, ‘আমি তো তিনজন গোলরক্ষককেই খেলাতে পারব কি না জানতে চেয়েছিলাম। কিন্তু অনুমতি পাইনি’। 

এরপরই অবশ্য ফ্রান্সের প্রশংসা করে নিজেদের পরিকল্পনায় অটল থাকার ওপর জোর দিয়েছেন ইরাকের কোচ, ‘ফ্রান্সের বিপক্ষে খেলতে পারা সম্মানের বিষয়। অসাধারণ এক ফুটবল দল ওরা। আমরা আমাদের নিজেদের পারফরম্যান্সের ওপরই বেশি মনোযোগ দিচ্ছি। ফ্রান্স কেমন খেলবে সেটা আমরা নির্ধারণ করতে পারি না, কিন্তু আমরা কেমন খেলব সেটা তো আমাদের হাতেই। আমি চাই আমার ফুটবলাররা পুরো বিশ্বের সামনে প্রমাণ করুক, ওরা কেমন খেলে’। 

ইরাক দলের সবচেয়ে বড় তারকা স্ট্রাইকার আয়মান হুসেইন নরওয়ের বিপক্ষে করেছিলেন দলের একমাত্র গোলটি। ফ্রান্সের শক্তিশালী ডিফেন্স লাইনের সামনেও নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ রাখতে চান এই ৩০ বছর বয়সী স্ট্রাইকার, ‘ফ্রান্সের ডিফেন্ডাররা বিশ্বের অন্যতম সেরা, তবে এই ম্যাচে আমরা ওদেরকে ব্যস্ত রাখতে চাইব। এরকম একটি দলের বিপক্ষে খেলা আমাদের ভীষণ অনুপ্রাণিত করছে। আমরা গোল করার ব্যাপারে আশাবাদী’। 

নরওয়ের বিপক্ষে ৪-১ গোলে হারের পর বিশ্বকাপে টিকে থাকতে এই ম্যাচে অন্তত ড্রয়ের বিকল্প নেই ইরাকের সামনে। অন্যদিকে তিন পয়েন্ট পেলে পরের রাউন্ড নিশ্চিত হবে গত বিশ্বকাপের রানার্সআপ ফ্রান্সের।