এমবাপেদের কাছে তিন গোলের বেশি না খেয়েই খুশি ইরাক কোচ
বিশ্বকাপে কিলিয়ান এমবাপের ফ্রান্সকে থামানো যে কতটা কঠিন, তা জানতেন ইরাক কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড। গ্রুপ 'আই'-এর সেই ম্যাচের আগে অবধারিতভাবেই প্রশ্ন উঠেছিল—কীভাবে আটকানো যাবে এই ফরাসি ফরোয়ার্ডকে? তখন হেসেই আর্নল্ড এক অদ্ভুত সমাধান দিয়েছিলেন, 'আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, আমরা ৩ জন গোলকিপার নিয়ে খেলতে পারি কি না। কিন্তু তারা রাজি হয়নি।'
ম্যাচ স্বাভাবিকভাবেই ইরাকের গোলকিপারের উপর দিয়ে বয়ে গেছে ঝড়। পরিস্থিতি এমন ছিলো ফ্রান্স জিততে পারত ৬-৭ গোলেও। প্রথম ম্যাচে নরওয়ের কাছে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর ফ্রান্সের মতো পরাশক্তির কাছে তিন গোলের বেশি না খেয়ে (৩-০ ব্যবধানে ম্যাচ শেষ করে) মাঠ ছাড়তে পারায় বেশ খুশি ইরাক কোচ।
তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বের অন্যতম সেরা দল আর ১০০তম ম্যাচ খেলতে নামা এমবাপের বিপক্ষে লড়েছি। আমার ছেলেরা যেভাবে নিজেদের উজাড় করে দিয়েছে, তাতে আমি গর্বিত।’
ম্যাচ শেষে অবধারিতভাবেই তার সেই '৩ গোলকিপার খেলানোর' রসিকতাটি আবার সামনে আসে। আর্নল্ড হাসিমুখে মন্তব্য করেন, ‘খেলোয়াড়রা যেভাবে নিজেদের উজাড় করে দিয়েছে, তাতে শেষ পর্যন্ত ৩ জন নয়, ১ জন গোলকিপার নিয়েই ব্যবধানটা ৩-০ তে আটকে রাখা গেছে।’
আসলে সেনেগালের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ২ গোল করে কিংবদন্তি পেলেকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন এমবাপে। ভেঙেছিলেন অলিভিয়ের জিরুদকে ছাড়িয়ে ফ্রান্সের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও। এমন ফর্মে থাকা এমবাপেকে রুখতে ইরাক কোচের ওই ৩ গোলকিপার খেলানোর কৌতুকটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছিল।
তবে শুধু মাঠের বাইরের কৌতুকই নয়, রিয়াল মাদ্রিদের এই ২৭ বছর বয়সী তারকার জন্য ম্যাচটি ছিল ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় এক মাইলফলক। ২০১৮ সালের বিশ্বজয়ী এমবাপে ইরাকের বিপক্ষে এই ম্যাচটিতেই ফ্রান্সের জার্সি গায়ে নিজের ১০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার গৌরব অর্জন করেন। জোড়া গোল করে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসাকে স্পর্শ করেন। লিওনেল মেসির রেকর্ডের চেয়ে মাত্র দুই গোল পেছনে আছেন বিশ্বকাপে ১৬ ম্যাচে ১৬ গোল করা তারকা।