ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

তুমুল লড়াইয়ে কলম্বিয়ার সঙ্গে ড্র করে নকআউটে ক্রোয়েশিয়াকে পেল পর্তুগাল

স্পোর্টস ডেস্ক

গ্রুপ সেরা হতে হলে জিততেই হতো। এমন সমীকরণে নেমে কলম্বিয়ার সঙ্গে তুমুল লড়াইয়ে জাল খুঁজে পেল না পর্তুগাল। দুই দলই অনেকগুলো সুযোগ তৈরি করল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ম্যাচ শেষ হলো সমতায়। তাতে গ্রুপ সেরা হয়েছে কলম্বিয়া, রানার্সআপ হয়ে উঠল ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। 

মায়ামিতে পর্তুগাল ও কলম্বিয়ার মধ্যকার ম্যাচ শেষ হয় ০-০ ব্যবধানে। শুরু থেকে পুরো ম্যাচেই মাঠে ছিলেন রোনালদো। কিছু সুযোগও এসেছিলো। তবে কলম্বিয়ার শক্ত ডিফেন্স ভাঙ্গতে পারেননি তিনি। 

গ্রুপ সেরা হওয়ায় রাউন্ড অব ৩২-এ ঘানাকে প্রতিপক্ষ পাচ্ছে কলম্বিয়া। পর্তুগালকে লড়তে হবে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে।

আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের রোমাঞ্চ, কিন্তু গোল অধরা

ম্যাচ শুরুর দ্বিতীয় মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় কলম্বিয়া। লুইস দিয়াজের শট ডিফ্লেক্টেড হয়ে বল চলে আসে জন কর্দোবার কাছে, কিন্তু তার হেড গোলবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। ১৭ মিনিটে কর্দোবা পর্তুগিজ ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করে জোরালো শট নিলেও তা দারুণভাবে রুখে দেন পর্তুগাল গোলরক্ষক দিওগো কোস্তা। ২২ মিনিটে কলম্বিয়ার আরও একটি নিশ্চিত সুযোগ নুনো মেন্দেসের গোলের লাইন থেকে বল ক্লিয়ার করার কারণে ব্যর্থ হয়।

পর্তুগালও প্রথমার্ধের শেষের দিকে ধার বাড়ায়। ৪০ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেসের দুর্দান্ত এক শট রুখে দেন কলম্বিয়ার ৩৭ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলরক্ষক কামিলো ভার্গাস। এর ঠিক পরেই হোয়াও ফেলিক্সের ভলি গোলবারের সামান্য ওপর দিয়ে চলে যায়। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে হামেস রদ্রিগেসের একটি নিচু কার্লিং শট কোস্তা দক্ষতার সঙ্গে প্রতিহত করলে ০-০ সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।

দ্বিতীয়ার্ধেও দুই দল আক্রমণ বজায় রাখে। ৬০ মিনিটে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর একটি প্রচেষ্টা অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। ম্যাচের শেষ দিকে কলম্বিয়া পর্তুগালের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করে। ৬৬ মিনিটে জন আরিয়াসের বাঁকানো শট কোস্তা ঝাঁপিয়ে পড়ে রক্ষা করেন।

ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত আসে যোগ করা সময়ে (৯১ মিনিটে)। কর্নার থেকে কলম্বিয়ার সানচেজ চমৎকার হেডে বল জালে জড়ালে উৎসবে মেতে ওঠে কলম্বিয়ান সমর্থকেরা। তবে লাইন্সম্যান অফসাইডের পতাকা তোলেন। পরবর্তীতে ভিএআর পরীক্ষা করে দেখা যায়, সানচেজের পায়ের আঙুল পর্তুগিজ ডিফেন্ডারের চেয়ে সামান্য এগিয়ে ছিল, ফলে গোলটি বাতিল হয়। শেষ মুহূর্তে দানিয়েল মুনোসের একটি প্রচেষ্টা পর্তুগাল গোলরক্ষক নুনো মেন্দেসের পায়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রতিহত করলে গোলশূন্য ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে দুই দল।