ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

এমন টানটান গোল্ডেন বুটের লড়াই কবে দেখেছে বিশ্বকাপ?

স্পোর্টস ডেস্ক

মাঠের বাইরের বিতর্কের দিক থেকে এবারের বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত। তবে মাঠের পারফরম্যান্সের দিক থেকেও কিন্তু মোটেও পিছিয়ে নেই ২০২৬ বিশ্বকাপ। বিশেষ করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার লড়াই এমন জমে উঠেছে, প্রশ্ন উঠছে, এর আগে এমন কিছু কি দেখেছে বিশ্বকাপ ফুটবল? 

চোট থেকে সদ্য ফেরা নেইমারকে বাদ দিলে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সব রথী-মহারথীই গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে আছেন প্রবলভাবে। ছয় গোল নিয়ে বাকিদের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে আছেন কিলিয়ান এমবাপে ও লিওনেল মেসি। তবে দুটি অ্যাসিস্ট থাকায় মেসিকে টপকে শীর্ষে আপাতত এমবাপেই। পাঁচ গোল নিয়ে ঠিক এই দুজনের পেছনেই আছেন হ্যারি কেইন ও আরলিং হালান্ড।  

চার গোলের মালিক এখনও পর্যন্ত আছেন চার জন। এক হ্যাটট্রিক সহ চার গোল আছে ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলের। এছাড়া ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, মিকেল ওয়ারজাবাল ও সেনেগালের ইসমাইলা সারও আছেন এই তালিকায়। সেনেগাল বাদ পড়ে যাওয়ায় সার বাদে বাকি তিনজনের সামনেই সুযোগ আছে তালিকায় আরও সামনে এগোনোর। 

চমকপ্রদ তথ্য হলো, এরা ছাড়াও তিন গোল করেছেন এমন ফুটবলার আছেন আরও ১৩ জন! এদের মধ্যে অন্যতম পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, সুইজারল্যান্ডের জোহান মানজাম্বি, মেক্সিকোর জুলিয়ান কুইনোনেস, ব্রাজিলের ম্যাথিউস কুনিয়া, কানাডার জোনাথন ডেভিড, মরক্কোর ইসমাইল সাইবারি, যুক্তরাষ্ট্রের ফোলারিন বালোগুন ও সুইডেনের উঠতি তারকা ইয়াসিন আয়ারি প্রমুখ। 

এবার যে হারে গোল করছেন খেলোয়াড়েরা, তাতে গোল্ডেন বুট জিততে অন্তত ১০ গোলও দরকার হতে পারে। এরকম হলে সেটিও হবে আরেক অনন্য নজির। ১৯৭০ সালের পর আর কোনো বিশ্বকাপেই গোল্ডেন বুট জেতার জন্য ১০ বা তার বেশি গোল করতে হয়নি। 

এর আগে মাত্র তিনটি বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জিততে ১০ বা ততোধিক গোলের প্রয়োজন পড়েছিল, ১৯৫৪, ১৯৫৮ এবং ১৯৭০। গত বিশ্বকাপে ৮ গোল করে এই খেতাব নিজের মাথায় পড়েছিলেন এমবাপে। ২০০৬ ও ২০১০ বিশ্বকাপে মাত্র পাঁচ গোল করেই সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন দুই জার্মান মিরোস্লাভ ক্লোসা ও থমাস মুলার, যে সংখ্যা এবার মেসি ছুঁয়ে ফেলেছেন মাত্র দুই ম্যাচেই! 

এবার এত বেশি গোল হওয়ার কারণ হিসেবে অনেকেই বলছেন ফিফার ব্যবহৃত বল অ্যাডিডাস ট্রায়োন্ডার কথা। অস্ট্রিয়া কোচ রালফ রাংনিক যেমন বলেছেন, এই বলে ঠিকঠাক শুট করতে পারলে গোলরক্ষকদের জন্য বল ঠেকানো খুব কঠিন হয়ে পড়ছে। আবার কলম্বিয়ার কোচ নেস্তর লরেঞ্জো যেমন বলছেন, এখনকার রেফারিরা ফরোয়ার্ডদের অনেক বেশি সুবিধা দেয়। অল্পতেই ফাউল ধরার এই প্রবণতা ২০-৩০ বছর আগে ছিল না বলে তখন গোল করার হার কম ছিল বলে মত তার। 

কারণ যেটিই হোক, বিশ্ব ফুটবলের সব তারকাদের এই মধুর লড়াই যে দর্শকদের আরও বেশি বিনোদন দিচ্ছে, সেটা বলাই বাহুল্য!