ফিফা বিশ্বকাপ

জানতাম টানা আক্রমণ চালিয়ে গেলে গোল আসবেই: আলভারেজ

স্পোর্টস ডেস্ক

এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার আগের পাঁচ ম্যাচের প্রতিটিতে খেললেও কোনো গোল করতে পারেননি। সেই ধাক্কা পেরিয়ে প্রয়োজনের মুহূর্তে জ্বলে উঠলেন দলটির স্ট্রাইকার হুলিয়ান আলভারেজ। ১০ জনের সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয়ের ম্যাচে পাওয়া গোলটিকে চমৎকার হিসেবে উল্লেখ করলেন তিনি।

কানসাসে রোববার সকালে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো কোয়ার্টার ফাইনালে ৩-১ গোলে জিতে সেমিফাইনালের টিকিট কেটেছে আর্জেন্টিনা। এর আগে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষ হয় ১-১ সমতায়।

প্রথমার্ধে আলেক্সিস মাক আলিস্তারের লক্ষ্যভেদে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে সুইসদের সমতায় ফেরান ড্যান এনডোয়ে। ফলে খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১১২তম মিনিটে আলভারেজ আর্জেন্টিনাকে ফের লিড পাইয়ে দেওয়ার পর শেষ বাঁশি বাজার কিছুক্ষণ আগে ব্যবধান বাড়ান লাউতারো মার্তিনেজ।

খেলা যখন টাইব্রেকারের দিকে এগোচ্ছিল, একজন খেলোয়াড় বেশি নিয়েও আর্জেন্টিনা সুযোগ তৈরিতে ধুঁকছিল, তখনই একক নৈপুণ্যে জাদুকরী মুহূর্ত তৈরি করেন আলভারেজ। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে বামপ্রান্তে হোসে লোপেজের কাছ থেকে বল পেয়ে পেয়ে একটু জায়গা বানিয়ে নেন তিনি। এরপর ডি-বক্সের বাইরে থেকে চোখ ধাঁধানো বাঁকানো শটে দূরের পোস্ট দিয়ে কাঁপান জাল। শরীর পুরোপুরি হাওয়ায় ভাসিয়েও বলের নাগাল পাননি সুইজারল্যান্ডের গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল।

এবারের আসরে গোলের খাতা খোলার পর গণমাধ্যমকে আলভারেজ বলেছেন, 'এর আগে আমি আরও একটি শট নিয়েছিলাম। তবে তখন আমি বেশ কিছুটা ফাঁকা জায়গা পেয়ে যাই। কেউ আমাকে বাধা দিতেও এগিয়ে আসেনি। আর আমি দারুণভাবে শটটি নিই। চমৎকার একটি গোল ছিল।'

গোটা ম্যাচেই গুছিয়ে আক্রমণে উঠে ভীতি ছড়ানোর ক্ষেত্রে ভুগতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। বরং ৬৭তম মিনিটে সমতা টানা সুইজারল্যান্ডই চালকের আসনে ছিল। কিন্তু ৭২তম মিনিটের নাটকীয় ঘটনায় বদলে যায় খেলার মোড়। ইচ্ছা করে ডাইভ দেওয়ায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ডসহ লাল কার্ড দেখে কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়েন দারুণ খেলতে থাকা ব্রিল এম্বোলো। শুরুতে অবশ্য ফাউলের জন্য লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়েছিল। তবে ভিএআরের সাহায্য নিয়ে পরে সিদ্ধান্ত পাল্টে ফেলেন রেফারি।

সুইজারল্যান্ড এরপর মনোযোগী হয় রক্ষণ সামলাতে। পাশাপাশি ১০ জন নিয়েও আলবিসেলেস্তেদের ঘাম ছুটিয়ে ছাড়ে তারা। তবে আলভারেজের দর্শনীয় গোলের পর আর পেছনে তাকাতে হয়নি আর্জেন্টিনাকে। বিশ্বকাপে টানা ১২ ম্যাচ অপরাজিত থাকা দলটি হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে পা রাখে সেমিফাইনালে।

শঙ্কা পেরিয়ে আলভারেজ এখন তাকিয়ে আছেন সামনের চ্যালেঞ্জগুলোর দিকে, 'মাঠে আমাদের একজন খেলোয়াড় বেশি থাকার পরও পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠেছিল। তবে আমরা জানতাম যে, সবাই মিলে টানা আক্রমণ চালিয়ে গেলে গোল আসবেই। অবশ্যই আরও আগেই জিততে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমরা জানি, কাজটা মোটেও সহজ নয়। বিশ্বকাপের সব ম্যাচই এমন হয়। সামনে আমাদের আরও দুটি ম্যাচ বাকি আছে।'

শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে সেমিফাইনালে আলবিসেলেস্তেদের প্রতিপক্ষ ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। এখন পর্যন্ত পারফরম্যান্স আশানুরূপ না হলেও ইতিহাস থেকে অনুপ্রেরণা খুঁজে নিতে পারে তারা। তা হলো— বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে কখোনই হারেনি আর্জেন্টিনা।