রোহিত-কোহলিদের দেখে রান তাড়ার ছক শিখেছেন স্যামসন

স্পোর্টস ডেস্ক

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সঞ্জু স্যামসনের অভিষেক সেই ২০১৫ সালে। প্রায় ১১ বছর হয়ে গেলেও দলে থিতু হতে পারছিলেন না তিনি। তারকায় ঠাসা ভারতীয় দলে তার বেশিরভাগ সময় কেটেছে ডাগআউটে বসে। সেখানে বসেই শিখেছেন কীভাবে বড় মঞ্চে ও বড় ম্যাচে রান তাড়া করতে হয়।

ছন্দ হারানোয় এবার বিশ্বকাপেও প্রথম একাদশের বাইরে ছিলেন সঞ্জু। রিঙ্কু সিংয়ের পারিবারিক ইস্যু তাকে সুযোগ করে দেয়। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ছন্দে ফেরার আভাস দিয়েও ছোট ইনিংসে থামতে হয়েছিল। তবে সবটা যেন জমিয়ে রেখেছিলেন অলিখিত কোয়ার্টার ফাইনালের জন্য।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৯৬ রানের লক্ষ্যে ৫০ বলে চোখ ধাঁধানো ৯৭ রানের এক ইনিংস খেলেছেন তিনি। রোববার রাতে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে সঞ্জুর ব্যাটের দাপট ছিল পুরো ২০ ওভার জুড়ে। এক পাশে উইকেট পড়লেও তিনি ছিলেন অবিচল। তার ব্যাটে কোনো অস্থিরতা দেখা যায়নি, বরং প্রায় ২০০ স্ট্রাইকরেটে রান তুলে গেছেন অবলীলায়।

নান্দনিক সব ক্রিকেটীয় শটের পসরায় গ্যালারি মাত করেছেন তিনি। কখনো গতি কমিয়েছেন, আবার কখনো অনায়াসে বাড়িয়ে কাজ সেরেছেন তুড়ি মেরে। এ যেন মাস্টারক্লাস ছক কষে ম্যাচ বের করে নেওয়া। ম্যাচ শেষে জানান, এই কৌশল তিনি শিখেছেন ডাগআউটে বসে দুই ‘গ্রেট’ ক্রিকেটারের কাছ থেকে। সঞ্জুর ভাষায়, ‘গত ১০ বছর ধরে দেশের হয়ে আছি, আমি সবসময় খেলিনি ঠিকই, কিন্তু ডাগআউট থেকে দেখেছি, বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা এবং অন্যান্য গ্রেট ক্রিকেটারদের থেকে শিখেছি। আমি মনে করি তারা কী করছিল তা পর্যবেক্ষণ করা এবং দেখা খুব গুরুত্বপূর্ণ... আমি হয়তো মাত্র ৫০ বা ৬০টি ম্যাচ খেলেছি, কিন্তু আমি প্রায় ১০০টি ম্যাচ কাছ থেকে দেখেছি এবং লক্ষ্য করেছি যে কিংবদন্তিরা কীভাবে ম্যাচ শেষ করে আসেন।’

শেষ ওভারে রোমারিও শেফার্ডের বলে ছক্কা ও চার মেরে দলকে জিতিয়ে মাটিতে বসে পড়েন সঞ্জু। ওপরের দিকে তাকিয়ে কিছুটা সময় প্রার্থনা করে নেন, তার চোখ তখন জলে ছলছল। নিজেকে এমন বড় মঞ্চে প্রমাণের যে বড্ড বাকি ছিল! কেরালার এই ব্যাটার পরে বলেছেন, ‘এটাই আমার জীবনের সেরা দিন।’