‘জেন জি অভ্যুত্থান-পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ভোট’
বাংলাদেশে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে চলছে বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। পাশাপাশি, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ওপর আয়োজন করা হয়েছে গণভোট।
আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে সকাল সাড়ে ৭টায়। বিরতিহীনভাবে চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের মানুষের পাশাপাশি গোটা বিশ্বের নজর ও আগ্রহ এই নির্বাচনকে ঘিরে। কারণ এটাই প্রথম জেন-জি অভ্যুত্থান-পরবর্তী নির্বাচন।
বেশ কয়েকটি বহুল-প্রচারিত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। নিচে কয়েকটি প্রতিবেদনের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো
রয়টার্স
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনের শিরোনাম, ‘জেন জি অভ্যুত্থানের পর মাইলফলক নির্বাচনে ভোট দিচ্ছে বাংলাদেশিরা।’
বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের দেশটিতে স্থিতিশীল সুশাসন প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠায় একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী ফলাফল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কয়েক মাসের হাসিনা-বিরোধী রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভে তৈরি পোশাকসহ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতগুলো বিঘ্নিত হয়েছে।’
বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনকে ৩০ বছরের কমবয়সীদের বা জেন-জি প্রজন্মের বিক্ষোভ থেকে আসা প্রথম নির্বাচন আখ্যা দেয় বার্তা সংস্থাটি।
এ ধরনের পরবর্তী নির্বাচনটি আগামী মাসে নেপালে আয়োজিত হতে চলেছে।
বিবিসি
ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির পাতায় বাংলাদেশের নির্বাচনের লাইভ আপডেট দেওয়া হচ্ছে।
মূল খবরের শিরোনাম, ‘জেন জি অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উৎখাতের পর বাংলাদেশের প্রথম ভোট’।
এই প্রতিবেদন লেখার সময় প্রকাশিত সর্বশেষ আপডেটে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের ঘাঁটি গোপালগঞ্জের ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারের উপস্থিতি নেই বললেই চলে।
সেখানে ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ। নির্বাচনী কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা—অন্তত ৫০ শতাংশ ভোটার ভোট দিতে আসবেন। তবে সকালে সরেজমিনে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করে খুব কম ভোটারের দেখা পান বিবিসির সংবাদদাতা।
আল জাজিরা
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাও লাইভ আপডেট প্রচার করছে। লাইভের শিরোনাম, ‘কড়া নিরাপত্তায় ভোট শুরু’। সাইটের হোম পেজে সংবাদের শিরোনাম: ‘বাংলাদেশে ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে হাসিনাকে উৎখাতের পর প্রথম ভোট শুরু।’
লাইভ আপডেটের শুরুতেই বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে গণমাধ্যমটি।
এতে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে পরিচালিত বিপ্লবে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর এই ভোট দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার অগ্নিপরীক্ষা।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলের জোটের মধ্যে সরাসরি প্রতিযোগিতা হচ্ছে।
জামায়াত জোটের অন্যতম অংশীদার জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। হাসিনাকে উৎখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী তরুণ-তরুণীরা ওই দলটি প্রতিষ্ঠা করেছে।
সিএনএন
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনে লাইভ আপডেট না দেওয়া হলেও বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। এর শিরোনাম, ‘বিপ্লবে জেন জি জয়ী হলেও নির্বাচনে আধিপত্য পুরোনোদের’।
এতে বলা হয়েছে—জুলাই বিপ্লবের কারিগরদের হাত দিয়ে তৈরি এনসিপি বা অন্যান্য নতুন দল নয়, বরং ঐতিহ্যবাহী ও পুরোনো দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যেই মূলত এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা হচ্ছে।
সিএনএনের প্রতিবেদন মতে—অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের হাতে প্রতিষ্ঠিত এনসিপি এখনো বাংলাদেশের বহুস্তর বিশিষ্ট এবং প্রায়শই, সহিংস রাজনৈতিক দৃশ্যপটে কোনো অর্থপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে পারেনি।
পাশাপাশি, দলটি জামায়াতের জোটে যোগ দেওয়ায় এবং কোনো আসনে নারী প্রার্থী না রাখায় তরুণ প্রজন্ম হতাশ হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।


