স্বাধীনতার ঘোষণা ও কর্নেল অলি: বক্তব্য বিকৃতির অভিযোগ জামায়াত আমিরের

By নিজস্ব সংবাদদাতা, ময়মনসিংহ

মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতার ঘোষণা ও অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদের ভূমিকা নিয়ে সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কিছু গণমাধ্যম বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

গতকাল সোমবার চট্টগ্রামের একটি জনসভায় দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে আজ মঙ্গলবার ময়মনসিংহে এক জনসভায় তিনি বলেন, তার বক্তব্য সংবাদমাধ্যমে ভিন্নভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

সোমবারের জনসভায় জামায়াতে আমির বলেন, 'বাংলাদেশে একাত্তর সালে স্বাধীনতার ঘোষণা এখান (চট্টগ্রাম) থেকেই হয়েছিল। আপনাদেরই এক গর্বিত সন্তান সবার আগে চিৎকার দিয়ে বলেছিলেন 'উই রিভল্ট'। তিনি হচ্ছেন এলডিপির সম্মানিত সভাপতি ডক্টর কর্নেল অলি আহমদ বীরবিক্রম।'

এ বিষয়ে শফিকুর রহমান বলেন, 'গতকাল আমি বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ কীভাবে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে শুরু হয়েছিল, সে বিষয়ে একটি বক্তব্য দিয়েছিলাম। আমি কী বললাম আর পত্রিকায় কী লেখা হলো—এটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিষয়টি আশ্চর্যজনক।'

তিনি অভিযোগ করেন, 'ইচ্ছাকৃতভাবে আমাকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। আমি এক কথা বলি, তারা ইচ্ছা করে আরেক কথা লেখে। এরপর প্রতিবাদ দেওয়া হলে তা ছোট করে ছাপা হয়। ততক্ষণে চরিত্রহননের কাজ শেষ হয়ে যায়।'

তবে সব গণমাধ্যম এমন করে না বলেও উল্লেখ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, 'মিডিয়া জাতির দর্পণ। তবে এটাও ঠিক, সব গণমাধ্যম এমন কাজ করে না। সমাজকে অস্থির ও অশান্ত করতে দু-একজনই যথেষ্ট।'

গণমাধ্যমকে তার বক্তব্য হুবহু প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, 'আমি যা বলব, যদি তা আপনাদের পছন্দ হয়, সেটিই প্রকাশ ও প্রচার করবেন। কিন্তু নিজের কল্পনা বা ব্যাখ্যা মিশিয়ে আমার বক্তব্য প্রচার করবেন না।'

তিনি আরও বলেন, 'এভাবে করা হলে সেটা আমার ওপর জুলুম হবে। আমার কথা পছন্দ না হলে তা বাদ দিতে পারেন, কিছুই প্রচার করবেন না। তবে প্রচার করতে হলে আমার বক্তব্য হুবহু আমার মতো করেই প্রচার করতে হবে।'

জনগণ পুরানা, পচা রাজনীতি আর চায় না উল্লেখ করে বলেন, কেউ কেউ প্রথম দিকে 'না' ভোটের পক্ষে ক্যাম্পেইন করেছেন। এখন জনগণের উত্তাল তরঙ্গ দেখতে পেয়েছেন। জনগণ পুরানা, পঁচা রাজনীতি আর চায় না। দলীয় সরকার দেখতে চায় না। অনেকে এখন আস্তে আস্তে বলা শুরু করেছেন, আমরাও 'হ্যাঁ'। ঠেলার নাম বাবাজী।

ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যদি আপনাদের ভোটে ১৩ তারিখ থেকে নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে এই বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ নয়, এশিয়া নয়, বিশ্বের বুকে একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় হবে। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে গোটা ময়মনসিংহ বিভাগে কৃষি বিপ্লব ঘটবে।

ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমির কামরুল হাসান এমরুলের সভাপতিত্বে সভায় ময়মনসিংহ জেলার ১১টি সংসদীয় আসনসহ নেত্রকোণা জেলার প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।