তরুণদের সবাই যেন দেশ গড়ায় অংশ নিতে পারে: জাইমা রহমান

By স্টার অনলাইন রিপোর্ট

দেশ গড়ার কাজে তরুণদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন জাইমা রহমান। তিনি বলেছেন, সব ধরণের মানুষ যাতে দেশ গড়ার কাজে অংশ নিতে পারে। আমাদের সবাই মিলে কাজ করতে হবে।

সেইসঙ্গে সমাজে ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা, সংস্কৃতির চর্চা থাকার প্রতিও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সোমবার রাজধানীর তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে বনানীতে ডিওএইচএস প্লে-গ্রাউন্ডে 'চায়ের আড্ডা'য় যোগ দিয়ে নিজের মতামত জানান বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একমাত্র সন্তান জাইমা রহমান।

ঢাকার বিভিন্ন ধরণের সমস্যা নিয়ে তরুণ ভোটারদের ভাবনা জানতে এই আড্ডার আয়োজন করে বিএনপি'র কনটেন্ট জেনারেশন টিম।

সোমবার দুপুর সোয়া ৩টা থেকে দুই ঘণ্টার আড্ডায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫০ জন তরুণ-তরুণী—যাদের মধ্যে জুলাই আন্দোলনকারীদের অনেকে ছিলেন।

দুপুর ২টার সময় অনুষ্ঠান শুরুর কথা জানানো হলেও জাইমা অনুষ্ঠান স্থলে আসেন ৩টার পর।

অনুষ্ঠানে ছয়টি টেবিলে তরুণ-তরুণীদের বসানো হয়। প্রতিটি টেবিলে একটি করে চেয়ার ফাঁকা রাখা হয় জাইমার জন্য। দোয়া পড়ার মধ্য দিয়ে আড্ডাটি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। এরপর তিনি প্রত্যেকটি টেবিলে ১০ থেকে ১৫ মিনিট করে আড্ডা দিয়ে তরুণ ভোটারদের ঢাকার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কথা শুনেন।

অনুষ্ঠান স্থলে ঝালমুড়ি, সিঙ্গারা, জিলাপি, ফুচকা ও চায়ের জন্য গ্রামীণ দোকানের আদলে স্টল সাজানো ছিল। আড্ডা শেষে জাইমা অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে বিভিন্ন স্টলের খাবার নেন ও সবার সঙ্গে কিছুটা সময় কাটান।

প্রথম টেবিলের আড্ডায় এক তরুণী সাইবার বুলিং নারীদের জন্য, বিশেষ করে ঢাকার নারীদের জন্য বড় একটি সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন।

তখন জাইমা বলেন, সাইবার বুলিং নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। শুধু আইন থাকলেই হবে না, আইন বাস্তবায়নেও গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার ৫১ শতাংশ নারী। তাদের কথা বলার অধিকার, নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে।

বিভিন্ন টেবিলের আড্ডায় সবচেয়ে বেশি এসেছে ঢাকায় যানজট, পরিবেশ দূষণ ও ক্যারিয়ার গড়ার মতো বিষয়গুলো। তরুণরা জানান, খাল-নদী দখল এবং ভরাট হয়ে গেছে। ঢাকার রাস্তায় চলাফেরা করতে দিনের উল্লেখযোগ্য সময় চলে যায়। এসব সমস্যা সমাধানে তরুণরা স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

পড়াশোনা শেষে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অভিজ্ঞতা চায়। পড়াশোনার পরপরই শিক্ষার্থীরা অভিজ্ঞতা কোথায় পাবে, এমন প্রশ্ন রাখেন তরুণরা।

জাইমা যুক্তরাজ্যের অভিজ্ঞতা থেকে বলেন, ওই দেশে শিক্ষার্থী থাকাকালীন বিভিন্ন ক্যারিয়ার ফেয়ারে অনেক প্রতিষ্ঠান তরুণদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইন্টার্নশিপের জন্য উৎসাহিত করে। বাংলাদেশেও এমন ক্যারিয়ার ফেয়ার হয় কি না, জানতে চান।

আড্ডায় অংশ নেওয়া তরুণদের কেউ কেউ বাংলাদেশে আসার অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে জাইমা বলেন, আমি দীর্ঘদিন দেশে ছিলাম না। আজ আপনাদের অভিজ্ঞতা শুনবো।

সেইসঙ্গে তিনি বলেন, একেবারে ছোটবেলায় বাংলাদেশ থেকে গিয়েছিলাম, ১৭ বছরের মধ্যে আর আসা না হলেও খোঁজ রেখেছি। আজ আপনাদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে অনেক কিছু জানলাম। আপনাদের মতো মেধাবী তরুণদের আইডিয়া, প্রাণশক্তি ও দেশের জন্য কাজ করার ইচ্ছাশক্তি দেখে ভালো লেগেছে।