ছবিতে পুরান ঢাকার চকবাজারে ইফতারের রঙিন ভুবন
রমজানের প্রথম দিনেই পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী চকবাজার যেন ফিরে পায় তার চেনা ছন্দ। দুপুর গড়াতেই শাহি মসজিদের সামনে সার্কুলার রোডের দুই পাশে সারি সারি দোকান। কড়াইভর্তি তেল, ধোঁয়া ওঠা কাবাব, রঙিন শরবত আর মসলার গন্ধে বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।


জোহরের নামাজের পর থেকেই বিক্রেতারা পসরা সাজাতে শুরু করেন। কেউ কাবাবের শিকে মাংস গেঁথে আগুনে দিচ্ছেন, কেউ বড় ট্রেতে সাজাচ্ছেন সোনালি জিলাপি, আবার কেউ কাচের জারে ঢালছেন কাশ্মীরি ও ইরানি শরবত। দূর থেকে আসা ক্রেতাদের পদচারণায় অচিরেই মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।


প্রায় চার শতকের পুরোনো এই ইফতার বাজারে প্রতিদিনই মেলে শতাধিক পদ। আস্ত মুরগির কাবাব, মোরগ মুসাল্লম, বটি ও টিকাকাবাব, কোফ্তা, শিকের ভারী কাবাব, সুতিকাবাব, কোয়েল ও কবুতরের রোস্ট—মাংসের বাহার যেমন আছে, তেমনি আছে হালিম, দইবড়া, সমুচা, নিমকপারা, নানা স্বাদের হালুয়া। মিষ্টির টানে নজর কাড়ে শাহি জিলাপি। পানীয়ের তালিকায় লাবাং থেকে শুরু করে রঙিন শরবতের সম্ভার।


বিক্রেতাদের কণ্ঠে ভেসে আসে চিরচেনা হাঁক—বড় বাপের পোলায় খায়, ঠোঙায় ভইরা লইয়া যায়, ধনী-গরিব সবাই খায়, মজা পাইয়া লইয়া যায়। এই ডাক যেন বাজারের নিজস্ব সুর, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহমান।


পুরান ঢাকার বাসিন্দাদের পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও মানুষ আসেন এখানে। কারও কাছে এটি ঐতিহ্যের টান, কারও কাছে স্বাদের অনুসন্ধান, আবার কারও কাছে রমজানের আবহে অংশ নেওয়ার এক বিশেষ অভিজ্ঞতা।


চকবাজারের ইফতার খাবারের বাজার ছাপিয়েও পুরান ঢাকার সংস্কৃতি, স্মৃতি ও সামাজিক বন্ধনের এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি। রোজার প্রথম দিনেই সেই চিরচেনা উচ্ছ্বাস জানিয়ে দিল, ঐতিহ্যের এই স্বাদ এখনো অমলিন।
(পুরান ঢাকার এই ইফতারের ছবিগুলো তুলেছেন দ্য ডেইলি স্টারের আলোকচিত্রী আনিসুর রহমান।)