ডাকসু নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির অভিযোগে বহিষ্কৃত শিক্ষককে পুনর্বহালের প্রতিবাদ
ডাকসু নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির অভিযোগে বহিষ্কৃত শিক্ষককে পুনর্বহালের প্রতিবাদ জানিয়েছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট।
২০১৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের দিন ভোটগ্রহণ শুরুর আগে বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হল থেকে সিল মারা ব্যালট উদ্ধার হয়।
ওই ঘটনায় দায়িত্ব পালনে 'ব্যর্থ'র অভিযোগে ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শবনম জাহানকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট এই শিক্ষককে পুনঃনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এ সিদ্ধান্তে অপরাধীদেরকে পৃষ্ঠপোষকতা করার মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট।
আজ বৃহস্পতিবার ৪ দফা দাবিতে দুপুর ১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন থেকে বিক্ষোভ মিছিল করে জোটের নেতাকর্মীরা।
মিছিলটি কলা ভবন, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ, অপরাজেয় বাংলা, সমাজবিজ্ঞান অনুষদ ঘুরে ডাকসু ক্যাফেটেরিয়ার সামনে একটি সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, 'এ সরকার ভোট ডাকাতি করে যেভাবে ক্ষমতায় এসেছে, ঠিক একইভাবে একটি ভোট ডাকাতির ডাকসু নির্বাচন করেছে। নির্বাচনের দিন ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই কেন্দ্র থেকে সিল মারা ব্যালট উদ্ধার করেছে শিক্ষার্থীরা। এই ঘটনায় বরখাস্ত হয়েছেন ড. শবনম জাহান। অথচ এ রকম ঘৃণিত একজন ব্যক্তিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট পুননিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।'
এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার মধ্যে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অপরাধীদেরকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার মানসিকতাই প্রকাশ পেয়েছে উল্লেখ করে জোটের নেতারা আরও বলেন, 'সম্প্রতি জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন একজন কলেজছাত্রীকে যেভাবে হেনস্তা করেছেন, তা মোটেই শিক্ষক সুলভ আচরণ নয়। আমরা তার অপসারণ দাবি করছি।'
তারা আরও বলেন, 'চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে বিরাজ করছে ক্ষমতাসীন সংগঠন ছাত্রলীগের চূড়ান্ত দখলদারিত্ব, সন্ত্রাস ও ত্রাসের রাজত্ব। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সকলের জন্য হয়ে উঠেছে অনিরাপদ। আমরা নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাস নির্মাণ ও সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।'
সমাবেশে তারা ৪ দফা দাবি জানিয়েছেন। দাবিগুলো হলো-
১. ডাকসু নির্বাচনে ব্যালট পেপার চুরির দায়ে অভিযুক্ত কুয়েত-মৈত্রী হলের সাবেক প্রভোস্ট শবনম জাহানকে চাকুরিতে পুর্ণবহাল করা চলবে না।
২. কলেজ ছাত্রীকে হেনস্তাকারী, জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন একেএম মাহবুব হাসানকে অপসারণ করতে হবে।
৩. সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
৪. সন্ত্রাস, দখলদারিত্ব ও যৌন নিপীড়নের ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন প্রগতিশীল ছাত্র জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মো. ফয়েজ উল্লাহ, সমাবেশ সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক দীপক শীল। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শোভন রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি রাজীব কান্তি রায়, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠক কাজী রাকিব হোসেন।
উল্লেখ্য গত বছরের ২ ডিসেম্বর শবনম জাহানকে ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পুনর্বহাল করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।