ঢাবিতে রাজাকারবিরোধী গান বাজিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ

নিজস্ব সংবাদদাতা, ঢাবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের বিরুদ্ধে গান বাজিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বামপন্থী শিক্ষার্থীরা।

এসময় তারা এই জোটের প্রতি কড়া ‘না’-সূচক বার্তা দেন।

আজ শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) থেকে ‘যুদ্ধাপরাধীদের জোটকে না বলুন’ শীর্ষক এই প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হয়।

এসময় শিক্ষার্থীরা পিকআপ ভ্যানে চড়ে ক্যাম্পাসে মিছিল করেন। সেসময় সাউন্ডবক্সে জনপ্রিয় সুরকার ও সংগীতশিল্পী প্রিন্স মাহমুদের আলোচিত ‘রাজাকার আলবদর কিছুই রইব না রে/উপরে দালাল ভিতরে চোর কিছুই হইব না রে/সব রাজাকার ভাইসা যাইব বঙ্গোপসাগরে’ গান বাজানো হয়।

মিছিলে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে ব্যঙ্গধর্মী গানও পরিবেশন করা হয়।

এ সময় বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী থেকে অব্যহতি নেওয়া সাবেক নেতা আবু মুজাহিদ আকাশ বলেন, ‘নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির পরাজয় উদযাপন করতেই আমরা এ কর্মসূচির আয়োজন করেছি।’

আকাশ আরও বলেন, ‘আগামীতে গঠন হতে যাওয়া বিএনপি সরকার যদি জুলাইয়ের গণআকাঙ্খার বিপরীতে গিয়ে অগণতান্ত্রিক বাংলাদেশ কায়েমের অপচেষ্টা চালায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও আমাদের লড়াই জারি থাকবে।’

তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টিরও (এনসিপি) সমালোচনা করেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতাদের হাত ধরে গড়ে ওঠা দলটি সম্প্রতি জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী জোটে যাওয়ায় জনমনে হতাশা তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আকাশ বলেন, ‘জামায়াতের জোটে গিয়ে এনসিপি জনগণকে হতাশ করেছে। নির্বাচনের ফলই প্রমাণ করে মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে।’

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ভূমিধস বিজয় পেলেও জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট উল্লেখযোগ্য শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের (মাহির রেজা অংশ) নেতা এনামুল হাসান অনয়।

DU-1

 

তিনি বলেন, ‘আমরা জামায়াতের আগ্রাসী অবস্থান নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি, কিন্তু পুরোপুরি দমন করতে পারিনি। এখন কার্যত জামায়াতই প্রধান বিরোধী শক্তি। তবে তাদের আত্মবিশ্বাস ভেঙে দিতে পেরেছি। বাংলাদেশের মানুষ যেকোনো দিন, যেকোনোভাবে তাদের পরাজিত করবে।’

এ কর্মসূচি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বল্প সময়ের জন্য উত্তেজনা ছড়ায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম মিছিলের একটি ভিডিও ফেসবুকে শেয়ার করে লিখেন, ‘প্রয়োজনে গান আরও জোরে চালাও। আমারে গালি আরও দাও, কোনও সমস্যা নাই। কিন্তু, বাড়ি বাড়ি আক্রমণ ও দোকানপাট ভাঙচুর থামাও।’ পরে পোস্টটি মুছে ফেলেন তিনি।

মুছে ফেলা ওই পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় অনয় বলেন, ‘ডাকসু সভাপতির ইতিহাসের দিকে তাকানো উচিত। পোস্ট দেওয়ার আগে ১৯৭১ সালের গণহত্যার জন্য দায়ীদের কথা, আর পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে গলাকাটা, অগ্নিসংযোগ ও সংঘবদ্ধ সহিংসতার ঘটনাগুলো স্মরণ করা দরকার। জনগণ জানে কারা এসব করেছে।’